অগ্নি (মুভি রিভিউ)

যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, তাই শঙ্কা ছিল সিনেমা হলে অধিকাংশই জোড়ায় জোড়ায় থাকবে । তাই বন্ধুকে বোরকা পরিয়ে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বন্ধুকে এই..

এরশাদোলজি (রম্য)

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।

ফেসবুকে প্র্তারনার হাত থেকে সতর্কতা

আপনার অনেক পরিচিত কারো ফেইক আইডি খুলে আপনাকে হয়ত ফাদে ফেলানো হবে, আপনার গার্লফ্রেন্ড, আপনার বন্ধু সেজে আপনাকে ফাদে ফেলানো হবে। আর লুল বালক হলে তো কথায়ই নেই, মিষ্টি কথাতেই আপনার ঘুম হারাম করে দেবে।

ইশি (ছোটগল্প)

বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে।

আজব প্রশ্নের গজব উত্তর

প্রশ্নঃ দেশে জনসংখ্যা কমানোর জন্য কি কি করা যায়? উত্তরঃ বিবাহ করা থেকে নারী পুরুষ কে বিরত থাকার জন্য উদবুদ্ধ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা যায়। বিছানা এক হলেই মহামারী দেখা দেবে এমন আতঙ্ক ছড়ানো যায়

পচানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পচানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

অনন্ত জলিল একটা চায়না মাল্টিমিডিয়া ফোন (রম্য)

অনন্ত জলিল একটা চায়না মাল্টিমিডিয়া ফোন। চায়না মাল্টিমিডিয়া ফোনে যেমন ক্যামেরা, টিভি, ফ্রিজ, হিটার, ফ্লাশলাইট, গ্যাসলাইট, এসি ইত্যাদী থাকে   তেমনি অনন্ত জলিলও একাধারে নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পপতি, ঔপন্যাসিক, ড্যান্সার, ফাইটার, লাইটার, ম্যানসিস্টার একেবারে কমপ্লিট প্যাকেজ। তবে চায়না ফোনের মাঝে মাঝেই পেটে ব্যথা, আলসার, ক্যান্সার দেখা দেয়। আবার দেখা যায় ক্যামেরা দিয়ে ভোটার আইডি কার্ডের মতও ছবি হয়না, ফাংশন গুলাও উল্টাপাল্টা কাজ করে। ঠিক তেমনি অনন্তের সিনেমাতেও হার্ট বের করে আনা, গানের ভিতর চিকেন তান্দুরী, আবার থ্রিডি এনিমেশনের নামে অত্যাচার টাইপ কিছু এপিক কন্টেন্ট থাকে।

সোমবার, ২১ জুলাই, ২০১৪

ইহা একটি ফেসবুক সম্মত বাস্তব কাহিনী

বালিকা বলিল, "আমি যাচ্ছি, আমার কিডনীর অপারেশন আছে।"
আমি তো অস্থির হয়ে গেলাম চিন্তায়। একটু পর জানতে পারলাম তাকে দুটো কিডনী লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। আরিব্বা! এতো দেখছি খেলনা মোবাইলে ব্যাটারী লাগানোর মত দ্রুত হয়ে গেলো। আমি মেডিক্যাল সায়েন্সের উন্নতিতে চমকিত হইলাম। কিন্তু বিধিবাম। একটুপর জানিতে পারিলাম কিডনীদ্বয় কাজ করছে না। এখন কি হবে? ডাক্তার সাথে সাথে বালিকার পিতা এবং স্বামীর কিডনী খুলে বালিকাকে লাগিয়ে দিলো। বালিকা এখন দুই কিডনীর অধিকারী। তার পিতা এবং স্বামীর এই মহান কাজ সবার জন্য নিদর্শন হয়ে থাকলো। কারন তারা সাথে সাথেই কিডনী খুলে দিয়ে দিয়েছেন। এবার বালিকা কোমায় চলে গেলো। আমি তো অস্থির হইয়া গেলাম। যার মারফত বালিকার খোজ জানতেছিলাম সে প্রতিবারই বালিকার কোনো না কোনো প্রশংসা করছিল। আমার হৃদয়টা ভরে গেলো। অবশ্য তাকে আমার অনুভূতিহীন রোবট মনে হয়েছে, কোমায় থাকা রোগীর জন্য তার আবেগ যথেষ্ঠ ছিল না। একটু পর বালিকা কোমা থেকে বেরিয়ে এলো। আরেব্বাহ! মেডিক্যাল সায়েন্সে কোমা দেখি এখন টয়লেটে যাওয়ার মত! আমি বালিকার উপর যতটা না ফিদা ছিলাম, তার চেয়ে বেশি ফিদা হলাম মেডিক্যাল সায়েন্সের উপর। একটু পর জানিতে পারিলাম বালিকা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে। ওয়াও! অসুস্থ হওয়া এখন দেখি দু:স্বপ্নের মত। আমি তো আনন্দে আটখানা হয়ে গেলাম। আমার এই গুরুচন্ডালী লেখার নেপথ্যে রহিয়াছে এই বাধ ভাঙ্গা আনন্দ।
যাই, বালিকার নতুন লেখাগুলো শেয়ার দিতে হবে।  অবশ্যই ক্যাপশন থাকবে, "মৃত্যুমুখ থেকে লড়াই করে ফিরলো লৌহদন্ড বালিকা"

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

সুব্রামানির এক তৃতীয়াংশ তত্ত্ব (রম্য)

সুব্রামানি নামটি কে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় নারিকেলের ছোবড়া থেকেই নামটি উদ্ভুত। উনি যে নারিকেলের ছোবড়া এটা আমরাও মানি উনিও মানেন। তাই তিনি সুব্রামানি।
নারিকেলের ছোবড়ার কি কাজ তা আমরা সবাই জানি।
উনি ভারতীয় ভেজাল মদ খেয়েছিলেন, তাই তার চলন বলনে মাতলামি প্রকাশ পাচ্ছিল না। তিনি মাতাল ছিলেন এবং সেটা প্রমান করার জন্যই উল্টাপাল্টা বলে ফেলেছেন।
কিন্তু আমি ভয়ে আছি, না জানি কবে তিনি সানি লিওনের শরীরের এক তৃতীয়াংশ কাপড় দাবী করে বসেন!
তার সম্ভাব্য দাবীর মাঝে থাকতে পারে,
"আমার খাবারের এক তৃতীয়াংশে মানব বর্জ্য দ্বারা বানানো হোক"
অথবা
"ভারতে জন্মানো বাঁশের ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য প্রতিটা বাঁশের এক তৃতীয়াংশ আমার উপর এপ্লাই করা হোক। গমন পথ আপনারাই বেছে নিন"
অথবা
"ভারতের এক তৃতীয়াংশ বাস কে ধর্ষনের অভয়ারন্য ঘোষনা করা হোক"
অথবা
"ভারতের ক্ষ্যাপা কুত্তা গুলো কে এক তৃতীয়াংশ নারী ভোগের সুযোগ করে দেয়া হোক"
অথবা
"ভারতের নায়িকাদের এক তৃতীয়াংশ কে পাক্কা পর্ণস্টার বানানো হোক"
অথবা
"আমার পৌরষত্বের এক তৃতীয়াংশ কেটে নেয়া হোক"
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, সুব্রামানি নাম টা ৫অক্ষরের বাংলা গালি ****নী এর মত শোনায়।
রেপ কি বাদ সানি লিওন কা চিৎকার,
আব কি বাদ মোদি সরকার,
সুব্রামানি কি হোক বলৎকার।

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

এরশাদোলজি (রম্য)

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।
পদার্থ বিজ্ঞান :
১/বাহ্যিক কোনো আল্টিমেটাম না দিলে এরশাদ চিরকাল এরশাদই থাকবে এবং তার মতামতের পরিবর্তনের হার সুষম গতিতে চলতে থাকবে।
২/এরশাদের মতামতের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত নারী প্রভাব ও অর্থপ্রভাবের সমানুপাতিক। নারী ও অর্থ যেদিকে ক্রিয়া করে এরশাদের মতামতের পরিবর্তনও সেই দিকে ঘটে।
৩/এরশাদের প্রত্যেক মন্তব্যেরই একটি সমান এবং বিপরীতমুখী মন্তব্য আছে ।

৪/সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে যখন কোন পল্টিবাজি লক্ষ্য করা যায় তখন তাকে এরশাদীয় পল্টি বলে।
৫/একক সময়ে পরিবর্তিত সিদ্ধান্তকেই পল্টিবাজি বলে
৬/বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এরশাদ কে নিজের দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণের মান এরশাদের দ্বিমুখী মন্তব্যের গুণফলের সমানুপাতিক এবং মন্তব্যদ্বয়ের মধ্যবর্তী তফাতের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই আকর্ষণ মন্তব্যদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে ।
৭/এরশাদের সিদ্ধান্ত বা পল্টিবাজী হচ্ছে একপ্রকার রাজনৈতিক অবস্থা যা নির্ধারণ করে এরশাদ কোনো রাজনৈতিক দলের সংস্পর্শে যাবে কি যাবে না।
রসায়ন
১/এরশাদের সিদ্ধান্ত সাম্যাবস্থায় উপনীত হলে সেটা সম্মুখ এবং পশ্চাত উভয়দিকে ধাবিত হয় এবং এই ধাবিত হওয়ার গতি এত বেশি থাকে যে বোঝা যায় না উনি কোনদিকে।
২/পর্যায় সারনীর ৪২০নাম্বার মৌল(অবস্থান্তর) এরশাদের(Er) যোজনী নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিপাকে।
৩/কার্বনের চেয়েও বহুরূপী মৌল এরশাদ(Er)
জীব বিজ্ঞান
১/এরশাদের দেহে আরো বাড়তি ১২ জোড়া ক্রোমোজম পাওয়া গেছে। এই বাড়তি ১২জোড়া ক্রোমোজম হল XY বাদে A-Z । তার চরিত্রের জন্য এই বাড়তি ক্রোমোজম কেই দায়ী করা হচ্ছে। বাড়তি ক্রোমোজম কেমনে ঢুকল বুইঝা লন :-P
২/ভাইরাস এবং এরশাদের ধর্ম এক। ভাইরাস জীব না জড় এটা নিয়ে যেমন সন্দেহ আছে তেমনি……
৩/এরশাদের মাঝে বিপরীত বৈশিষ্টের #ফ্যাক্টরগুলো মিশ্রিত বা পরিবর্তিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।
৪/বিজ্ঞানের যে শাখায় এরশাদের প্রেম ভালোবাসা, রাজনীতি, মতামত ইত্যাদী নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে #এরশাদোলজি বলে।
গণিত
১/সমকামী(সমকোনী) এরশাদের পল্টির(p) বর্গ তার অপর দুই সম্পদ নারী(w) এবং অর্থের(m) পল্টির বর্গের যোগফলের সমান। অর্থাত p^2=w^2+m^2
উল্লেখ্য নোবেল কমিটি আগামী বছর থেকে এরশাদোলজির উপর পুরস্কার দেবে। সো দ্রুত এরশাদোলজি শিখুন পল্টিবাজির স্বাদ নিন।
আমি চিপায় গেলাম :-P

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৩

পঞ্চম মাত্রার রোবট

……চারিদিকে দূর্গন্ধ। উফ চলা যায় না, মুসলমানেরা আসলেই মানুষ হবেনা। মহাসমারোহে গো হত্যা করে এখন সেটার চিহ্ন স্বরুপ চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে বর্জ্য। কি বর্বর একটা জাতি!
আমরা ফ্রী থিংকার রা মুসলমানদের শোধরানোর চেষ্টা করি। তাদের কে সভ্য করার চেষ্টা করি। আসলে আমাদের টার্গেট এই অসভ্য জাতিকে সভ্য করা। কিন্তু এরা ঠিক হবেনা। এইযে নির্বিচারে গো হত্যা চালালো, চারিদিকে নোংড়া করে রাখল। আবার চালাবে, আবার নোংড়া করবে।
আমরা ফ্রী থিংকার রা এত অসভ্য নই । আমরা সকল জীবের  কষ্ট বুঝি। কখনো জীব হত্যা করি না।
-- ও আচ্ছা আচ্ছা তার মানে ফ্রী থিংকারেরা নিরামিষ ভোজী ।
দেখুন আমিষভোজী হওয়া আর জীব  হত্যা করা এক না।
-- ও মধু মধু। চলুন না কেএফসি তে যাই একবার্?  সেখানে প্রানীজ কিছুই পাওয়া যায় না। মজা করে খাওয়াও গেল আপনার সাথে একটু জমানোও গেল।

বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৩

আরিফ আর হোসাইনের জনপ্রিয়তা হুমকীতে



পুরাতন খবর: নিউটনের মধ্যাকর্ষণ সূত্র ভুল প্রমানিত
নতুন খবর: আরিফ আর হোসাইনের জনপ্রিয়তা হুমকীর মুখে।
নতুন খবরের বিস্তারিত রুপ: কতিপয় চেইন ফেবু ইউজার #আরিফ_আর_হোসাইন ভাইয়ের এই বিশাল জনপ্রিয়তায় মনে মনে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। তাদের নিউরনে একটা কথাই অনুরনন তুলল “আমরা সারাদিন ফেবুতে থাকি অথচ আরিফ নামে কোন বারকোড ওয়ালা এত জনপ্রিয়? এটা অন্যায়। যেই ফেবুকে আমরা এতকিছু দিচ্ছি সেই ফেবুই আমাদের করে রাখবে ব্রাত্য? আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব। আমাদের নেট প্যাকেজের শেষ কিলোবাইট
থাকা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। “ কিন্তু কোনো আন্দোলন চালাতে হলে অবশ্যই স্লোগান লাগে, পরামর্শ লাগে। এক্ষেত্রে বিদেশিদের পরামর্শ বেশ কাজে দেয়। তারা বিদেশিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ শুরু করে। তাদের সেরা স্লোগান হল “এড মি আই এম ব্লক” , এ তো “অধিকার চাই, আমি অধিকার বঞ্চিত” এরই মার্জিত রুপ! আরেকটি স্লোগান হল “প্লিজ লাইক ব্যাক” , “পশ্চাদ দেশে লাইক দে”। জনমত তৈরীর জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে। যেমন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বলা হয় “অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র। অমুক ভাই কে ভোট দিন” তেমনি এরাও সমাবেশ করে বলে “এড হিম, বেস্ট লাইকার, থ্রিজি লাইকার,
সেইরাম এক্টিভ” প্রত্যেকটা আন্দোলনেরই একটা ফল আছে। এই ফল স্বরুপ অবশেষে আরিফ ভাইয়ের বিপরীতে জনৈক প্রতিদ্বন্দী পাওয়া গেছে। দুইজনের মাঝে তুলনা করে বোঝা গেল প্রতিদ্বন্দী টাই আরিফ ভাইয়ের
চেয়ে এগিয়ে। উল্লেখ্য আরিফ আর হোসাইন এর আগে একটি পোস্টে পুরষ্কারের ঘোষনা দিয়েছিলেন। সেই পোস্টে এক বছর ধরে ৫০০০০ এর কাছাকাছি মন্তব্য
হয়েছে। কিন্তু জনৈক প্রতিদ্বন্দী তিন
দিনেই ৩২০০০+ মন্তব্য পেয়ে জানান
দিলেন “আমি আসছি, রেডি থাইকেন”
পরিসংখ্যান বলছে তিনি অচিরেই লাইক
কমেন্টে #আরিফ ভাই
কে ছাড়িয়ে যাবেন।
এখানে প্রশ্ন আসতে পারে জিম্বাবুইয়ান
ডলার আর ইউ এস ডলার এক হলো? আমি বলব,
দুইটার নামেই ডলার আছে, পার্থক্য শুধু
একটা জিম্বাবুয়ের আরেকটা ইউএসএ’র।
এই অবস্থায় আরিব্বাইয়ের
কাছে অনুভূতি জানতে চাইলে জবাব
আসে “অনুভূতির ফালুদা”
সেই দিন আর দেরি নাই যেদিন ফেবুর
সমস্ত অধিকার বঞ্চিত ইউজার এই jounoik (জনৈক) নেতার gay gay(জয় জয়) করবে। সেদিন হয়ত ইনিই এগিয়ে যাবেন
gay jounoik shalirbeti
জয় জনৈক সেলিব্রেটি

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩

তবুও ভালোবাসি মুভি রিভিউ : দেখার পর তৃপ্তি নিয়ে ফেরা যায় (মুভি রিভিউ)

গাজীপুরে বন্ধুর বাড়ি আসার পর প্রথম অভিজ্ঞতাটা মোটেও ভাল হয়নি সংগ্রামের । অতিথি কে চোর বলে পেটালে অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর হওয়ার কথা নয় । সব এই দস্যি মেয়ে সুনয়নার জন্য হয়েছে । সুনয়না তো নয় আসলে কুনয়না হবে । একের পর এক অঘটন ঘটিয়েই চলেছে । এমন দস্যি মেয়ে বাপের জনমেও দেখেনি সংগ্রাম। উফ চোর সাজিয়ে কি মার টাই না খাওয়ালো সবার কাছে । সিনেমা হলে গিয়েও মেয়েটা গ্যাঞ্জাম পাকালো । সিনেমা হলের দর্শকদের ভিতর মারামারি বাধিয়ে দিয়েছে । উল্টো সংগ্রাম কে হুমকি দিয়ে রেখেছে এই কথা বাড়িতে জানালে তারও ঠ্যাং ভেঙ্গে দেবে ।
সিগারেটের নেশায় সংগ্রামের মাথা ঠিক নেই । কিন্তু তার বন্ধুর বাড়িতে অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে । তাই এখানে সিগারেট খাওয়া নিষেধ । বন্ধুর কথা মত সংগ্রাম বাড়ির পাশে তালতলায় চলে যায় সিগারেট টানতে । কিন্তু তালতলায় এসেই সংগ্রামের চোখ ছানাবড়া ।
-তুমি সিগারেট খাচ্ছো!?
*খাচ্ছি না । পা----ন করছি ।

সংগ্রামের মুখে একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে কথাগুলো বলে সুনয়না । একটা গ্রামের মেয়ে যে এভাবে সিগারেট টানছে তা বিশ্বাস হচ্ছে না সংগ্রামের । কিন্তু হঠাতই সুনয়নার বাবা চলে আসায় সংগ্রামের হাতে সিগারেট টা ধরিয়ে পালিয়ে যায় সুনয়না । এ সাক্ষাত ফুলনদেবী যেন সংগ্রাম কে বিপদে ফেলানোর জন্যই এর জন্ম হয়েছে ।
দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা দিন কেটে যায় । সংগ্রামের বন্ধুরও বিয়ে হয়ে যায় । কিন্তু দস্যি মেয়েটার পাগলামী কমে না । আজ সারা বাড়ি পোস্টারিং করেছে "সুনয়না লাভ(প্রতিক) সংগ্রাম" । কি সাংঘাতিক ব্যপার! পোস্টার ছিড়তে ছিড়তে সুনয়নার বাবার সামনে পড়ে যায় সংগ্রাম ।
-তোমার হাতে ওগুলো কিসের কাগজ ?
*জ্বী জ্বী মানে … বাচ্চাদের গণতন্ত্র চর্চা করাচ্ছি ।
ইতস্তত ভাবে জবাব দেয় সংগ্রাম ।
এদিকে হঠাতই সংগ্রামের মায়ের ফোন আসে । সংগ্রামকে এখনি ময়মনসিংহ যেতে হবে । উল্লেখ্য সংগ্রামের মা ময়মনসিংহের পৌরসভার চেয়ারম্যান ।
সংগ্রাম সবার কাছ থেকে বিদায় নেয় । এদিকে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসায় সুনয়না । সে এখনো জানেইনা সংগ্রাম তাকে ভালবাসে কিনা । কিন্তু সংগ্রামের আর ময়মনসিংহ যাওয়া হয়না । এলাকার ত্রাস লাল ভাই অনির্দিষ্ট কালের জন্য এলাকায় হরতাল ডাকে । কোন গাড়িই এলাকা থেকে বেরুতে পারবে না । তাই আবার ফিরে আসে সংগ্রাম । এবার সুনয়নার কান্না অটোমেটিক খুশিতে কনভার্ট হয়ে যায় ।
সুনয়নার চুড়ি ভরা হাত ধরে টান দেয়ার ফলে সুনয়নার হাত কেটে রক্ত ঝরছে । সংগ্রামের এটা করা মোটেও ঠিক হয়নি । অযথা হাত টা কেটে গেল, তাই সংগ্রাম নিজেও নিজের হাত কেটে ফেলে । সুনয়না নিজের রক্তের সাথে সংগ্রামের রক্ত মিশিয়ে দেয় । লাল রক্তের সাথে লাল রক্ত । মনের সাথে মন ।
লাল ভাই সুনয়নার বাবাকে হুমকি দিয়েছে । পত্রিকা অফিস বরাবর লালের বিরুদ্ধে লেখা চিঠিটা লালের হাতেই পৌছে যায় । লালের হুমকিতে অসুস্থ হয়ে যায় সুনয়নার বাবা । কিন্তু ওষুধ না থাকায় বিপত্তি ঘটে । এদিকে হরতালের কারনে সব দোকান পাট বন্ধ থাকে । ওষুধ আনার দায়িত্ব সংগ্রাম নিজের কাধে তুলে নেয় । হরতাল না মেনে ফার্মেসী থেকে ওষুধ নেয়ার কারনে লাল আর লাল বাহিনীর সাথে সংগ্রামের ফাইট হয় । লাল কে মেরে সংগ্রাম অর্ধ উলঙ্গ করে দেয় । এই মারামারির দৃশ্য কেউ একজন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় । লাল সংগ্রামের উপর প্রতিশোধ নিতে পারে বলে সুনয়নার পরিবার সংগ্রাম কে তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয় ।
সুনয়না কে রক্তাক্ত অবস্থায় ময়মনসিংহের রাস্তায় পাওয়া যায় । অবেশেষে সংগ্রামের মা তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয় । সংগ্রাম যখন ডাইনিং এ যায় তখন সুনয়না কে দেখে চমকে ওঠে । ও কিভাবে তার বাড়িতে ? কিন্তু সুনয়নার চোখের ভাষা তাকে ভয় পাইয়ে দেয় । সেই রাতেই সুনয়না বটি নিয়ে সংগ্রাম কে আক্রমন করতে যায় । সংগ্রাম কিছুই বুঝতে পারেনা । শুধু নিজেকে সুনয়নার কাছ থেকে রক্ষা করে চলে । এক পর্যায়ে সুনয়না কে সে শান্ত করে ।
সংগ্রামের উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য লাল সুনয়নার পরিবারের সবাইকে হত্যা করে । সংগ্রামের কারনে তার পরিবার শেষ হয়ে যাওয়ায় সে সংগ্রামের উপর প্রতিশোধ নিতে আসে ।
সংগ্রামের বাড়িতে লাল বাহিনী আক্রমন করে । কিন্তু এ যাত্রায় সংগ্রামের প্যাদানি আর গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে লাল পালিয়ে যায় । রাতের আধারে গ্রামের বেশ কয়েকটা বাচ্চা কে লাল তুলে নিয়ে যায় । বাচ্চার বিনিময়ে দাবি করে সংগ্রাম কে । সংগ্রামের মা শিশু বাচ্চাদের কথা ভেবে নিজের ছেলেকে লালের হাতে তুলে দেয় । লাল সংগ্রামের মা, বোন আর সুনয়নার গলায় অস্ত্র ধরে সংগ্রাম কে পেটাতে থাকে আর তা ক্যামেরাম্যান দিয়ে ভিডিও করে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংগ্রামেরই জয় হয় ।
সংগ্রাম চরিত্রে অভিনয় করে বাপ্পী আর সুনয়না চরিত্রে মাহী ।
যা ভালো লাগেনি :
আমার দৃষ্টিতে সিনেমার নামকরন অনুযায়ী পুরো সিনেমায় রোমান্টিকতার অভাব ছিল । নায়ক নায়িকার প্রেম কিভাবে হয় এবং কেন হয় তা দর্শক ভালভাবে ধরতে পারেনি । এটা কাহিনীকার ও পরিচালকের ব্যর্থতা বলব। এক দৃশ্যে ডাবিংএর কিছু ত্রুটি চোখে পড়ে । কথা শোনা যাচ্ছিল অথচ সোহেল রানার (সুনয়নার বাবা) মুখ নড়ছিল না । সম্ভবত মুখ নড়ছিল না । সম্ভবত মুখ বুজে কথা বলছিলেন । মাহীর হাত ধরে টান দেওয়ার সময় চুড়ি ভেঙ্গে মাহীর হাত কেটে গিয়েছিল । বাপ্পীও ইচ্ছা করে হাত কাটে । অনেক রক্ত পড়েছিল, কিন্তু ঠিক কি ধরনের চিকিতসা নিয়ে এক রাতের মাঝে হাত কাটার সমস্ত চিহ্ন হারিয়ে গেল তা জানার ইচ্ছা ছিল । অমিত হাসান (লাল) যখন ফোনে সোহেল রানাকে হুমকি দেয় তখন ছিল রাত । অথচ সোহেল রানার ওখানে ছিল দিন । গাজীপুরের দুইটা এলাকা পৃথিবীর দুই প্রান্তে চলে গেল কিনা তা ছিল ভাববার বিষয় ।
হরতালের মাঝে ওষুধ আনতে গিয়ে বাপ্পী ফার্মেসী তে ঢুকল কিভাবে আর ঢুকেছেই যেহেতু তবে সাটার কেটে বের হওয়া লাগলো কেন তা বোধগম্য নয় । বাপ্পীর মা কে ভিলেন রা মারার জন্য প্রথমে ভ্যানে বেধে ফেলে এবং একজন ভ্যানের উপর উঠে অস্ত্র নিয়ে শাসাতে থাকে । পেছনে পেছনে আসতে থাকে ভিলেন দের ট্রাক ও মোটর বাইক বহর । বুঝলাম না, যদি মারারই ইচ্ছা থাকে তবে ভ্যানে বেধে এতোকিছু করার কি দরকার । এবার বাপ্পী উড়ে এসে ভ্যান এর নিয়ন্ত্রন নেয় এবং দ্রুত চালিয়ে সামনে থাকা ট্রাককে ধরে ফেলে(!) সেই ট্রাকে ছিল গাছের গুড়ি । একেক টা গুড়ির আঘাতে ভিলেন দের ট্রাক বিস্ফোরিত হতে থাকে . মনে হয় গাছের গুড়িতে বোমা ছিল(!) বাপ্পী যখন ভ্যান থেকে পড়ে যায় তখন গতিজড়তার কারনে ভ্যান টিকে সামনের দিকে যাওয়ার কথা । কিন্তু পদার্থ বিজ্ঞান কে ভুল প্রমান করার জন্য ভ্যান টি পেছনের দিকে যেতে থাকে এবং মোড় নিয়ে বাধের ঢালু পথে নেমে যায় । কিন্তু সামনের চাকার পেছনের দিক একটি পাথরের সাথে আটকে যায় আর তাতেই ভ্যান টা থেমে যায় (!) সব অপদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র । অবশেষে বাপ্পী একটি দড়ি (দড়ি পেল কোথায়?) ছুড়ে মেরে ভ্যান টিকে তুলে আনে (!!!)
কোরিওগ্রাফি ভাল হয়নি ।
সিনেমায় দুই শিশু শিল্পীকে আরো ভালোভাবে ব্যবহার করা যেত । তাদের মৃত্যু না ঘটালেও হত ।
শেষ দৃশ্যে বাপ্পী যখন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে তখন তাকে হাসপাতালে নেয়ার বদলে দিতির(বাপ্পীর মা) জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত ছিল না । পৌরসভার চেয়ারম্যান তো তাই সব জায়গায় ভাষন ।
যা ভালো লেগেছে :
পুরো সিনেমায় অমিত হাসানের অভিনয় দর্শকদের প্রচুর বিনোদন দিয়েছে । অমিত হাসানের অর্ধ উলঙ্গ হওয়ার পরের অভিব্যক্তি দারুন ছিল । শেষ দৃশ্যে অমিত হাসানের "পাতা খামু পাতা খামু, আমারে ছাগল পাইছে" এই বলে গাছের পাতা ছিড়ে ফেলার দৃশ্যটা ফাটাফাটি । মাহীর সিগারেট টানার দৃশ্য এবং এর পরবর্তী দৃশ্য উপভোগ্য ছিল । গান গুলোর চিত্রায়ন ভাল ছিল বিশেষ করে "তুমি আছো নজরে নজরে" গানটার চিত্রায়ন আসলেই অনেক ভাল হয়েছে । মাহীকে এই গানে কালো পোষাকে খুব সুন্দর লাগছিল বলা যায় মাহীর এযাবতকালের সেরা লুক । ব্যাকগ্রাউন্ড দর্শকদের ব্যবহার টাও কিছুটা ভাল ভাবেই হয়েছে । অন্যান্য সিনেমায় এই উতসুক জনতা কে স্ক্রিনে দেখানো খুবই দৃষ্টিকটু লাগত ।
সর্বোপরি কিছু ভুল ত্রুটি থাকলেও সিনেমাটা দেখা যায় । ভুল ত্রুটি অন্যান্য সিনেমার তুলনায় কম তাই সিনেমাটা দেখা উচিত ।

আমার ভালোবাসা আজকাল দর্শন : কমেডি নয় তবুও সিনেমাটা আপনাকে হাসাবে (মুভি রিভিউ)

যদিও সিনেমাটা কিছু দিন আগের কিন্তু মজা তো সবসময়ই নেয়া যায় .। তাই লিখলাম রিভিউ টা .। রিভিউ বলতে যা দেখেছি তাই লিখছি .।
আমার লাইফে সিনেমা দেখতে গিয়ে এতো মজা কোনদিন করিনি। চেয়ারের উপর দুই পা তুলে দিয়ে কুটুম হয়ে বসে উপভোগ করলাম শাকিবের ভালোবাসা আজকাল।
সিনেমার শুরুতেই বিয়ে বাড়ির দৃশ্য। বিয়ে বাড়িতে দেখা গেল কাবিলা কে, যে কিনা তার এক সহকারী কে বারে বারে বিয়ে করায় । সহকারী বাসর রাতে কনেকে দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গয়না চুরি করে। তাও যেই সেই ঘুমের ওষুধ না। খাওয়ানোর সাথে সাথে একশন(!), আবার গয়না চুরি হয়ে গেলেই একশন ফুরিয়ে যায়। এই ওষুধের নাম দেয়া যায় কারযসিদ্ধি ওষুধ
হঠাতই টাশকি খাওয়ার মত দৃশ্য! জ্বী ভাই আমি সহ হলের সবাই টাশকিই খেয়েছিল নায়কের আবির্ভাবে।
গ্রামের একদল বখাটে মেয়ে আমাদের নায়ক কে তাড়া করতে করতে নিয়ে যায়। সে কি তাড়া! দেখার মত দৃশ্য। ভাগ্যিস অন্যান্য সিনেমায় বখাটেরা মেয়েদের তাড়া করে যেমনটা করে তেমন কিছু ঘটেনি। ঘটলে(?) আমার দোস্ত বলে উঠল “দোস্ত শাকিব কেস না করলে আমি কেস করুম, এডাম টিজিং এর এই ইস্যু হাতছাড়া করা যাইবো না”
শাকিব মায়ের মাথায় হাত রেখে কসম করে কাবিলার সাথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। প্রথম দিকে শাকিব কাবিলার কথা মত কাজ করতে রাজি না হলেও কাবিলা যখন শাকিব কে কসম এর কথা মনে করিয়ে দিল তখন শাকিবের অবস্থা আর আবহ সঙ্গীত দেখে আমাদের চোখেও পানি চলে এলো (!)। আপ্নার চোখেও আসবে সিওর
এবার নিঃস্বার্থ ঘটক খোজ দিলো বড়লোকের মেয়ে মিস চুমির। ডিরেক্টর এর তেলেসমাতিতে গ্রামের ছেলে শাকিব হেভি ড্রাইভিং করে এয়ারপোর্টে গেলেন মিস চুমি কে আনতে। এতোক্ষনে দেখা মিলল নায়িকা মাহীর। যাকে কিনা ১৪ বছর হেভি সিকিউরিটি দিয়ে এক ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল (সিকিউরিটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই)। হেভি সিকিউরিটি কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মাহি চলে এলো বাংলাদেশে। এই পরযায়ে শাকিব কে দেখলাম “Mrs. & Miss Sumi” লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অপেক্ষা করতে(!) আচ্ছা “Mrs. & Miss Sumi” দ্বারা কি বোঝায়? চুমি কি অর্ধেক বিবাহিত আর অর্ধেক অবিবাহিত? ভাবনার বিষয়
মাহি এবারো সকলের চোখে ধুলা দিয়ে নকল মিস চুমি সেজে শাকিবের সাথে চলে এলো। নায়িকার রুপ দেখে নায়ক অভিভুত, পুলকিত হবেনা তা কি হয়? মাহি কে বাসায় আনার পর শাকিব যে এক্সপ্রেশান টা দিল তা আমার লাইফে দেখা বেস্ট। আপনি শুধু এক্সপ্রেশান টা দেখার জন্য সিনেমা টা দেখতে পারেন। শাকিবের মোচড়ানী আর লাল ঠোট দেখে পাশের থেকে বন্ধু বলে উঠলো “দোস্ত নায়ক কই গেল? :-o “ জ্বী ভাই, ওই মোচড়ানি দাতাই আমাদের নায়ক
এরপর খাওয়া দাওয়া পরব। কিন্তু আমার দৃষ্টি ছিল ডাইনিং টেবিলের খাবারের দিকে না, পেছনে কয়েকটা টিকটিকি দেখলাম। ডিরেক্টর সাহেব টিকটিকি গুলোকে ভাড়া করেছেন কিনা কে জানে। এবার শুরু হল গান, গানের ভিতর ব্যবহৃত এতো ছোট ছোট পিরামিড ডিরেক্টর সাহেব কোথায় পেলেন বুঝতে পারলাম না। নাকি শাকিব মাহি কে কোনো উপায়ে পিরামিডের সমান বানিয়ে দিলেন(!) নতুন আবিষ্কার
একটু পরে মাহি বলল “আমি ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখেছি বান্দরবানের কাছে একটা পুরনো রাজবাড়ি আছে”। বুঝলাম না দেশে এতো রাজবাড়ি রেখে কি ইন্টারনেটে শুধু বান্দরবানের বান্দর বাড়িই দেখায়? মনে হয় সার্ভারে প্রবলেম ছিল।
একটু পর দেখা যায় মাহি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মাহির খোজ দেয়ার জন্য মাহির বাবা পেপারে বিজ্ঞাপন দেয়। সেই বিজ্ঞাপন দেখে মাহি কে গুন্ডা রা তাড়া করে। হঠাত শাকিব কে দেখলাম বাশি বাজাতে। শাকিব কি নাইটগার্ড না রেফারী যে সবসময় পকেটে বাশি থাকে? যাক আমরা একটা সব্যসাচী নায়ক পেলাম যে কিনা পার্ট টাইম নাইটগার্ড আর রেফারীর জব করে।
বিরতির পর মাহি কে দেখালাম বান্দরবান নিয়ে যাওয়া হল। বুঝলাম না, মাহি কে বেধে ঢাকা থেকে বান্দরবান কিভাবে আনা হল? মনে হয় তিনজন পিঠে পাখনা লাগিয়ে আকাশ দিয়ে উড়ে এসেছে। কাবিলা এখনো শাকিব কে শাকিবের মায়ের কসম দিয়ে আটকিয়ে রেখেছেন। টিস্যু পেপার নিয়ে যাবেন। কসমের কথা মনে করিয়ে দিলে যে আবহ সঙ্গীত আর শাকিবের যে মুখের চেহারা হয় তাতে আপনারই কান্না চলে আসবে
হঠাতই ফোন এলো শাকিবের মা মারা গেছেন। শাকিব ম্যারাথন দৌড় দিয়ে বান্দরবান থেকে তার মায়ের বাড়িতে চলে এলেন। কিন্তু একি! সিনেমার প্রথম দৃশ্যে দেখা গেলো শাকিবদের পাকা বাড়ি! পারেও বটে। শাকিব কে যেন নেক্সট অলিম্পিকে পার্টিসিপেট করানো হয়। দিনের দিনই শাকিব কে তার মায়ের কবরে মাটি দিয়ে ফিরে আসতে দেখা গেলো। শাকিব কে খালি দৌড়াতেই দেখলাম
এবার নায়ক মাহি কে উদ্ধার করল কাবিলার কারাগার থেকে। ওমা একি! কি সুন্দর জোনাকি! মাহির আবদারে শাকিব পানিতে নেমে পড়লেন জোনাকি ধরতে(ডাঙ্গায়ও জোনাকি ছিল)। জোনাকি ধরার সেকি ইশটাইল! আমি ভাবছি শাকিব কি পানিতে নেমে মশা মারছে? অনেক কষ্টে শাকিবের হাতে ধরা দিল জোনাকি। আজব ব্যাপার। জোনাকি গুলো শাকিবের হাতে আসতেই আলো বেড়ে গেলো ১০০ গুন। জোনাকি পোকা ফ্লাশ মারছে। লাইফে এই ফার্স্ট ফ্লাশ মারা জোনাকি দেখলাম। ডোন্ট মিস ইট। জীবনে অনেক কিছু দেখতে পাবেন কিন্তু ফ্লাশ মারা জোনাকী দেখতে পাবেন না
এক দৃশ্যে দেখলাম মাহি বলছে “মনে হয় বৃষ্টি আসবে” । কিন্তু “বৃষ্টি” বলার আগেই ডিরেক্টর এনিমেটেড বৃষ্টি দিয়ে দিলেন। অথচ নায়ক নায়িকা টের পেলেন না বৃষ্টি পড়ছে(!) বৃষ্টিতে যখন ভিজে দুজনেই চপচপে তখন শাকিব নিয়ে আসলো একটা কচু পাতা(!) এইবার এক কচুপাতা দিয়া দুইজন বৃষ্টি ঠেকা।
কিছু ট্রাক চালক পেপারে মাহির খোজ দেয়ার বিজ্ঞাপন টি দেখছে। ভাল করে খেয়াল করলাম খোজ দেয়ার জন্য ০১৭৩৭৩৬৬০** এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আমি সাথে সাথে ফোন দিয়ে বললাম “আমি মাহি কে ধরিয়ে দিতে পারব, ১৫লাখ আপনার আর ১৫লাখ আমার” । উত্তর আসলো “আপনি কেডা?”। অতঃপর লাইনটা কেটে গেলো। আমার আর ১৫লাখ পাওয়া হল না
এক দৃশ্যে শাকিব মাহিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে পালাচ্ছেন। ভিলেন রাও তাদের পিছু তাড়া করেছে। একসময় শাকিব ত্রিমুখি রাস্তার মোড়ে মোটরসাইকেল পার্ক করল। আর আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল “মোটরসাইকেল এখানে পার্ক করা দেখে ওরা ভাববে আমরা ওই পথে চলে গেছি(কি আত্মবিশ্বাস!)। তাই বলে তারা অন্য পথে চলে গেল। আপনি তিন রাস্তার মোড়ে মোটর সাইকেল রেখে ভাববেন “আমি এই পথে চলে যাই, ওরা ভাববে আমি অন্য পথে গেছি”। পারবেন তো ভাবতে? সবচেয়ে বড় কথা কোন আবুল মোটর সাইকেল রেখে হেটে যায়?
শাকিব আর মাহি ঘুরতে ঘুরতে তাদের কাঙ্ক্ষিত রাজবাড়ির কাছে চলে এসেছে। শাকিব ভেতরে দেখতে গেলেন কোনো সাপ টাপ আছে কিনা। কিন্তু একি! শাকিব উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে আলিরাজ তার টেপ রেকর্ডার চালু করলেন। যদিও শিবা জানত তিনি মাহির আসল বাবা না, তবুও শাকিব কে শোনানোর জন্য অকপটে আবার সব বললেন। আশ্চরযের বিষয় আলিরাজ যদি মাহির আসল বাবা নাই হন তবে সিনেমার শুরুতে তিনি বাবা হিসেবে যে কান্নাটা করেছিলেন তা বড্ড ‪#‎বেমানান‬। গোপন কথা শুনে ফেলার অপরাধে শাকিব কে মেরে অজ্ঞান করে ফেলা হল। শাকিব কে গাড়িতে বসিয়ে অভিনব কায়দায় দেখানো হল শাকিব মাহি কে ধোকা দিচ্ছে। তার জন্য শাকিবের হাত টা কে ধরে টাটা দেয়া হল। কিন্তু অজ্ঞান হলে যে কব্জি টাটা দেয়ার মত সোজা থাকে তা হয়ত আপ্নারাও প্রথম দেখবেন।
মাহি একটা স্বপ্ন দেখে প্রায়ই। স্বপ্ন টা সিনেমায় ইনভার্ট বা নেগেটিভ ভিডিও হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। সিনেমার শেষে এসে স্বপ্ন টা রঙ্গিন হয়ে যায়। কিন্তু কি আশ্চরয! মাহি কে যে পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে তাকে এতোকাল স্বপ্নে দেখা যায়নি, কিন্তু এখন মাহি একই স্বপ্নে তাকে দেখে ফেলে। পেছন থেকে চেপে ধরা ‪#‎লোকটাকে‬ কিভাবে দেখে ফেলল তা ভাবনার বিষয়। মাহির কি পেছনে চোখ লাগানো ছিল নাকি ক্যামেরার সাথে চোখ লাগানো ছিল তা বুঝতে পারলাম না।
এবার নায়িকা কে জিম্মি করে সব সম্পত্তি লিখে নেয়ার পালা। না না এটা আর দশটা বাংলা সিনেমার মত না। এখানেও ব্যাতিক্রম আছে। নায়িকার বাবা কে যে চুক্তিপত্রে সই করতে বলা হল খোদার কসম সেটাতে তিনি উল্টা সই করলেন। ধরুন চুক্তিপত্র টা আমি আমার দিক থেকে সোজা করে ধরে আছি। নায়িকার বাবা আমার বিপরিতে বসে আছে। তিনি ওই ভাবেই সই করে দিলেন। অর্থাৎ সই টা করলেন চুক্তিপত্রের উপরে বাম দিকে তাও আবার উল্টা। মাথায় বুদ্ধি আছে বস
হঠাতই নায়কের আগমন, সাই সুই করে কিছু মারামারি অতঃপর নায়কের পেটে ছুরি। ব্যাপার নাহ, নায়ক কখনো মরে না। নায়িকা কা কে দেয়া কিছু ঔষধি পাতা নায়িকার পকেটে এতোদিন পরও যে তাজা থাকবে তা ছিল আমার ভাবনার বাইরে। মনে হয় নায়িকার পকেটে ফ্রিজের সুবিধাদি ছিল। তিনি গাছ গুলো নায়কের পেটে গুজে দিলেন আর নায়ক সুস্থ হয়ে উঠলেন (!) ভাবুন(!)। উল্লেখ্য নায়ক নায়িকা বেশ কিছুক্ষন আবেগি আলাপ করলেন, ভিলেন রা সেইসময় আমাদের মত টিকেট কেটে তাদের আবেগী ডায়ালগ শুনছিলেন। নায়ক একটা কুড়াল জোগাড় করে সপাত সপাত কোপাতে লাগলেন। একসময় শুণ্যে কয়টা চক্কর দিলেন। শুণ্যে ‪#‎চক্কর‬ দেয়ার জন্যও তাকে অলিম্পিকে পাঠানো উচিত। শুণ্যে চক্কর দেয়া শেষে অভিনব কায়দায় চেয়ার নিয়ে বসলেন ভিলেনের উপরে। হঠাত নায়ক পেছন থেকে কুড়াল বের করলেন। তার মানে নায়ক এতক্ষন পিঠে কুড়াল নিয়ে শুণ্যে ঘুরছিলেন! কিন্তু শুণ্যে ঘোরার সময় তো কোনো কুড়াল ছিলো না তার পিঠে। যদি থেকেও থাকে তবে তা কিভাবে? আমার মনে হয় নায়ক ম্যাজিক জানে। আমরা একটা জাদুকর নায়ক পেয়েছি যে কিনা আমাদের নিত্য নতুন জাদু দেখিয়ে যাচ্ছে।
আপ্নেরা সিনেমাটা যদি না দেখেন তবে পুরাই মিস। সিনেমা দেখুন, মজা নিন আর চামের উপ্রে সিনেমা টা হিট করে দিন

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ঢাকা টু বোম্বে ফিল্ম রিভিউ - জগাখিচুড়ীর অপর নাম ঢাকা টু বোম্বে (মুভি রিভিউ)

পোস্টারে বড় করে লেখা ডিজিটাল সিনেমা আর বড় করে আমাদের শাকিব খান। শাকিব খান আর ডিজিটালের কম্বিনেশন টা কেমন হবে তা দেখতে ঢুকে পড়লাম হলে। সিনেমার প্রথম কয় মিনিট হলের পর্দার দিকে তাকিয়ে বিশ্বাস করতে চাইছিলাম এটা ডিজিটাল সিনেমা। ঘোলা স্ক্রিন, পরযাপ্ত পরিমাণ পোকামাকড়(আগেকার বাংলা সিনেমায় যেইসব বস্তুকে স্ক্রিনের উপর লাফাতে দেখা যেত) আর লাল নীল সবুজ মানুষ গুলো নিয়ে শুরু হল ডিজিটাল(!?) সিনেমা ঢাকা টু বোমে (থুরি বোম্বে) ।
শুরুতেই আমাদের হিরো কে গ্যাদা কালে পাচার কারীরা তার মা ও মামার সামনে তুলে নিয়ে যায়। এই প্রথম দেখলাম কোনো মায়ের সামনে তার সন্তান কে তুলে নিয়ে যাচ্ছে অথচ মা কোনো বাধা দিচ্ছে না, শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলছে। বিনা বাধায় পাচার কারীর হাত ধরে নায়ক চলে গেলেন ইন্ডিয়ায়। নায়কের ইন্ডিয়ায় নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখানো হল খুব চমৎকার ভাবে। আশায় বুক বাধবেন না, ওটা প্রিন্স সিনেমার কাটপিস ছিল। কাউকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যে যে অন্য সিনেমার কাটপিস ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে তা উত্তম ভাবেই দেখালেন আমাদের উত্তম আকাশ।

পিচ্চি শাকিব মুম্বাই গিয়ে পাচার কারীদের হাত থেকে পালিয়ে যায়। তারপর খাবার চুরি করে দৌড়াতে গিয়ে রাস্তায় উষ্টা খেয়ে পড়ে যায়। তখন এক পাঞ্জাবী পরা ভদ্রলোক তাকে জিজ্ঞেস করে – “তোমার বাসা কাহা হে?” এই হিন্দী তে ভুল আছে কিনা জানিনা। তবে অন্যান্য হিন্দীর মত শোনায়নি । কখন যে রাত হচ্ছিল আর কখন যে দিন হচ্ছিল তা বোঝা বড় মুশকিল ছিল। এ পরযায়ে শাকিব একটু বড় হয়। তাকে দেখা গেল রাতের বেলায় এক রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিতে। অপরদিকে দুইটা মেয়েকে লেকের ধার দিয়ে গল্প করতে করতে হাটতে দেখা গেল(দিনের বেলায়)। মেয়ে দুটির কথোপকথন ছিল এমন-
-কাল জো পিকচার চালা ও তু দেখা হে?
-হুম দেখা হে
-বহুত আচ্ছা থা । বাংলাদেশ কা পিকচার। ঢাকা টু বোম্বে
হিন্দী ভাষায় মেয়েরা যে “থা” বলে তা জানা ছিল না। আমারও ভুল হতে পারে কারন ডিরেক্টর ঢাকা টু বোম্বে সিনেমা মুম্বাই তে চালিয়ে হিট করে ফেলেছেন। উল্লেখ্য এই সিনেমার শুরুতে বেশিরভাগ দৃশ্যে কাটপিস ব্যবহার করা হয়েছে। মেয়ে দুটির উপর বখাটেরা হামলা করে আর পিচ্চি শাকিব রেস্টুরেন্ট থেকে এসে তাদের বাচায়।
এবার শুরু হল প্রিন্স সহ বেশ কয়েকটি সিনেমার কাটপিস শো। শাকিবের পেছনের দৃশ্য নড়ে বেড়াচ্ছে অথচ শাকিব সেই তুলনায় নড়ছে না। পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করে দৃশ্য গুলো ধারন করা হয়েছে সেটি আপনার চোখ এড়াবে না। ঠিক এই মুহুরতে এক অতি আশ্চরয ঘটনা ঘটে গেল। শাকিব এক টা সিগারেট খেয়ে ছুড়ে মারলেন আর ইয়া বড় একটা গাড়ী বিস্ফোরিত হয়ে দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল। অভিনব দৃশ্য সিগারেট থেকে গাড়ী দ্বিখন্ডিত। তবে এটাও কাটপিস।
এবার দেখা গেল সিনেমার শুটিং চলছে। হিরো ভিলেন দের ধরতে গিয়েই পড়ে যাচ্ছে(মনে হচ্ছিল ইচ্ছাকৃত ভাবেই পড়ছে)। “তু এক হিজরা হে”। ডিরেক্টর গালি টা কাকে দিলেন বুঝতে একটু সময় নিলাম। শাকিব দিলো হো হো করে হেসে। ডিরেক্টর হাসি শুনে শাকিব কে অভিনয় টা করে দেখাতে বলল। একটু ঢিসুম ঢিসুম করেই শাকিব হয়ে গেল মুম্বাই সিনেমার হিরো। হা ভাই আর কোনো উপায় নাই, এতো সহজেই মুম্বাই সিনেমার হিরো হওয়া যায়। দু মিনিট শুটিং এর দৃশ্য দেখা গেল। দুই মিনিটের দৃশ্যে যা বুঝালাম পুরো সিনেমার শুটিং ওই রাস্তাটার ধারেই হয়েছে মানে এক জায়গাতেই গান, এক জায়গাতেই রোমান্স, এক জায়গাতেই ফাইট, এক জায়গাতেই আবেগী ডায়ালগ ইত্যাদী।
এবার দেখলাম একটা দেয়ালে লেখা “This is our mumbai city” দেয়াল টিতে রা-ওয়ান, শোলে, এম এল এ ফাটাকেস্ট সহ আরো কয়েকটি সিনেমার হল পোস্টার। মানে ডিরেক্টর এফডিসির কোনো এক ফ্লোর কে এভাবে সাজিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন এটাই মুম্বাই সিটি। সিনেমায় এতো কাটপিস ব্যবহার করা হয়েছে যা ধরতে পারলে আপ্নিই ভিড়মি খাবেন। এবার দেখলাম সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমার একটি দৃশ্য যেখানে ভিলেন রা ভিড়ের মাঝে কারো পিছু নিয়েছে। শাকিব আর সাহারা রাজপথ থেকে পেছনে তাকিয়ে ভিলেন দের গতিবিধি লক্ষ্য করে পালিয়ে যাচ্ছে। ওরে বাপরে! তারা হেটেই পাহাড়ি এলাকায় চলে এলো। কিন্তু আমার জানামতে মুম্বাই মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটা দ্বীপ। শহর থেকে হেটে এমন পাহাড়ি এলাকায় চলে আসা মানতে পারলাম না তবুও মানলাম। এবার শুরু হল গান। গানে সাহারা যখন শাকিবের সামনে আসছিল আমি পেছনে শাকিব কে খুজে পাচ্ছিলাম না :P
গান শেষে দেখা গেল তারা বর্ডারের কাছে চলে এসেছে। বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশেও চলে এলো। আমি তো টাস্কিত(!) নদিয়া, কোলকাতা না, ডাইরেক্ট মুম্বাই থেকে হেটে তারা বাংলাদেশে চলে এলো। পারোও বটে গুরু। এদিকে কাবিলা ঢাকায় চলে এসেছে। শাকিব কাবিলা কে ফোন দিলো। কিন্তু এই পুরো বিষয়টা আমার মাথায় ঢুকল না। হিসাব অনুযায়ী শাকিব ভারতীয় সিম বাংলাদেশে এনে কাবিলা কে ফোন দিয়েছে । কাবিলার বাংলাদেশি নাম্বার কিভাবে পেলেন তাও প্রশ্নবোধক। তিনি আদৌ কাবিলার বাংলাদেশি নাম্বারে ফোন দিয়েছিলেন কিনা তাও প্রশ্নবোধক।
এবার শাকিব সাহারা কে বলল “আমি ঢাকার বাড্ডা নামক গ্রামে যাবো” বাড্ডা গ্রাম(!) বড্ডা গ্রাম(!!)
বাড্ডা গ্রামে দেখা গেলো একটা টং দোকানে লেখা “এখানে চা, কপি পাওয়া যায়”। মনে মনে বললাম “আপ্নারা মুম্বাই থেকে হেটে বাংলাদেশে এসেছেন একটু কপি খেয়ে জিরিয়ে নিন”
শাকিব কে যে পাচার করেছিল তার মেয়ে বনলতার জন্মদিন। লেখা দেখলাম “HAPPY BIRTHDAY BANLATA” ভাই noun এর ভুল নাই মানলাম, তাই বলে বনলতা কে মুরাদ টাক্লিও ভাবে BANLATA লিখবেন?
পার্কে BANLATA আর BANLATA’র কুকুর টমি ঘুরে বেড়াচ্ছে। উলালা উলালা গান শোনা গেল। বনলতার মুখ স্থির ছিল, টমি কে মুখ নাড়াতে দেখা গেল। গান টা কোন দিক থেকে আসছিল ইঙ্গিত পেলাম।
এক দৃশ্যে দেখলাম বনলতা কে তার তিন বান্ধবী বলে “তোর বাবা পাচারকারী”। বনলতা কাদতে কাদতে তার বাবার কাছে বিচার দেয়। এতে কিছু গুন্ডা সেই তিন টা মেয়েকে ধর্ষণ করে। এই দৃশ্য টা এতোটা দৃষ্টি কটু ভাবে না দেখালেও হত। মেয়ে তিন টা আত্মহত্যা করতে যাবে আর শাকিব এসে তাদের বাচায়। মেয়ে তিনটা বলে “আমাদের বেচে থেকে কি লাভ? আমাদের কে বিয়ে করবে? আপনি আমাদের বিয়ে করবেন?” শাকিব বলে “হ্যা আমি তোমাদের বিয়ে করব।“ বাউরে বাউ! শাকিব তো লোক সুবিধার না। একবারে চারটা মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছে।
এবার শাকিবের সিনেমা “রোড মাস্টার”(হিন্দী তে লেখা ছিল কষ্ট করে পড়েছি) মুম্বাই তে রিলিজ হয়ে হিট হয়ে যায়। আমি তো ভাবছিলাম ডিরেক্টর মুম্বাইয়ের কথা ভুলেই গেছেন। আবার দেখলাম কাটপিসের ছড়াছড়ি। ডার্টি পিকচার সিনেমার হল থেকে পাইরেসি করার দৃশ্য জুড়ে দেয়া হয়েছে। আর রোড মাস্টার সিনেমার সে আরেক অবস্থা। এই সিনেমার মাঝেও কাটপিস, কাটপিস দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ।
সামনে থেকে এক জোড়া কপোত কপোতি কে উঠে যেতে দেখলাম। মেয়েটা ছেলেটা কে বলছে “আর কোনোদিন যদি আমাকে বাংলা সিনেমা দেখাতে নিয়ে এসেছ তবে খবর আছে” ছেলেটা আমাকে বলল “একা একা বসে কি দেখছেন? চলেন ভাই” আমি বললাম “অনেকদিন আমার মাথাটা বরফের মত জমে আছে। সিনেমা দেখে বরফ কে বাষ্প করছি”
আমি যে সারিতে বসে ছিলাম সেই সারি, সামনের কিছু সারি, পেছনের কিছু সারি সব ফাকা ছিল। কেমন যেন ভুতুড়ে পরিবেশে বাকি সিনেমা দেখলাম।
জাহাজের ভিতর ভিলেন দের সাথে শাকিবের ফাইট হল। চারজন কসাই চাপাতি নিয়ে শাকিবের উপর আক্রমন করল। শাকিব চাপাতি গুলো কে শূন্যে ছুড়ে দিল। একটা #চাপাতি শাকিবের হাতে ফিরে এলো, বাকি তিনটা কোথায় গেলো জানিনা। চাপাতি দিয়ে শাকিব সবার হাত কাটা শুরু করলেন। হাত কাটার পর সবার অনুভূতি কিছুই না। নো চিল্লানি, যেন শাকিব চুল কেটে নিয়েছে তাদের। আর চিল্লাবেই বা কিভাবে? হাত কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হল অথচ মাটিতে এক ফোটা রক্তও পড়তে দেখা গেল না। দারুন ব্যপার। আরো মজার ব্যপার –হাত কাটার পর পরই শরীরের ডান বাম পাশ টা ত্রিভুজের মত ফুলে উঠেছে। জামার ভিতরে হাত গুটিয়ে রাখা এতো স্পষ্ট কেন তা বুঝতে চাইলাম না। শাকিবের সিনেমা দেখব আর আশ্চরয সব দৃশ্য দেখব না তা কি হয়!
শেষ দৃশ্যে দেখা গেলো শাকিবের হুবুহু একটা পুতুল তৈরি করা হল(সম্ভবত #মোম দিয়ে) আর সেটা ভিলেন দের কাছে হস্তান্তর করা হল। কিন্তু কি আশ্চরয কি আশ্চরয! পুতুল হেটে হেটে ভিলেন দের কাছে গেলো ভিলেন রা তাকে গুলি করল রক্ত পড়ল। পুতুলের উপর নিশ্চয়ই কালো জাদুর প্রভাব পড়েছিল।
আপনি যদি প্রেশারের রোগী হন তবে সিনেমা টা দেখবেন না, প্রেশার বেড়ে যাবে। আপনি হার্টের রোগী হলে হার্ট এটাক হবে। গারলফ্রেন্ডের সাথে দেখতে গেলে আপনার ব্রেক আপ হবে। আত্মহত্যা প্রবন হলে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হবে। এই সিনেমা দেখলে আপনি মনপুরার কথা ভুলে যাবেন। তাই আপনাদের বলব রিস্ক নেয়ার দরকার নেই। আর সিরিয়াসলি একটা কথা বলতে চাই, এধরণের সিনেমা বয়কট করুন। এধরনের সিনেমা বয়কট না করলে ডিরেক্টর আবার এমন সিনেমা বানাবে। চলচ্চিত্রে যে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে তা অচিরেই শেষ হওয়ার ঝুকি রাখে এসব সিনেমার জন্য। শাকিব আবারও প্রমান করলেন একমাত্র একমাত্র একমাত্র তার দ্বারাই সম্ভব। গরুর গোবর দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি হয়, ডিরেক্টরের মগজ দিয়ে...............।.।

শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৩

এত্ত গুলা পচা (রম্য)


মেহজাবিন চৌধুরী স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন Amar line "#Attto gulo pocha tumi" ekhon permission chhara natok e use kora hocche !!!
Ki kora uchit!??? :@@@

ওকে জানু, আমি তোমাকে কয়েকটা সমাধান দিচ্ছি।
১। জাতীয় সংসদে এটা নিয়ে বিল উত্থাপন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার দলের সহযোগিতা নেয়া উচিত।
২। ইস্যু টা নিয়ে হরতাল ডাকা যেতে পারে। এ জন্য বিরোধী দলের সাহায্য নেয়া দরকার। মেহজাবিন এর জন্য ২-৪ টা গাড়ি পুড়লে অসুবিধা নাই।
৩। আরামবাগে Attto gulo pocha মঞ্চ বসানো যেতে পারে।
৪। হাইকোর্ট এর রুল জারি করা যেতে পারে।
৫। কপিরাইট করে রাখতে পার লাইন টা।
৬। নাটকের ডিরেক্টর এর নাম উল্লেখ করে Attto gulo pocha ডিরেক্টর tumi লিখে স্ট্যাটাস দিতে পার। ও তুমি তো আবার বাংলা লিখতে পারনা। ডিরেক্টর লেখাটা আমার এখান থেকে কপি করতে পার (তবে কারটেসি দিও। আজ কাল স্ট্যাটাস চোরের সংখ্যা বেরে গেছে)
৭। তোমার পাঙ্খা দেরকে বল ডিরেক্টর এর বাড়ি অ্যাটাক করতে। তারা তোমার জন্য সব করতে পারে(পরীক্ষা করতে চাইলে . দিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দেখ)। সোলজার অ্যাটাক। (আমিও তোমার পাঙ্খা, তয় ঘুরিনা)
৮। ইউনিভার্সিটি নাটকে দেখেছি দারুন কারাতে পার তুমি। ইয়া ঢিসুমাইক বলে ডিরেক্টর নাক বরাবর একটা বসালেই হবে। (মশা মারবেনা খবরদার)
৯। পরবাসিনী সিনেমায় তুমি নাকি এলিয়েন ? এলিয়েন এর তো সুপার পাওয়ার থাকার কথা। সেটা অ্যাপ্লাই করতে পার। 
১০। ঢাকার কোন ব্যাস্ত পথে আমরন অনশনে বসতে পার। (গোপনে খাবারের সাপ্লাই রেখ, আর আশেপাশে যেন ভাঙ্গা থালা পড়ে না থাকে)
১১। বিভিন্ন স্ট্যাটাস এ add me add me স্টাইলে “হেল্প মি হেল্প মি বাঁচাও বাঁচাও, এক বজ্জাত ডিরেক্টর আমার বিখ্যাত লাইন চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। পিলিচ হেল্প মি” কমেন্ট করতে পারেন (কিছুটা সিনেমাটিক স্টাইল হওয়া চাই)। কমেন্টে জঞ্জাল থাকলে ভাল হয়। (বাংলিশ টা জানতে হলে আমার সাহায্য নিতে পার) 
১২। লজ্জা পাওয়ার দরকার নেই। আমাকেও বলতে পার। এই যে লাঠি নিয়ে দাঁড়ালাম। ডিরেক্টর আমার বাড়ির সামনে দিয়ে গেলেই  ঠাডায়া একখান থাবড়া দিমু।

-এটা আমার এলাহি শাহী হারবাল টেকনোলজি উইথ গাছ গাছড়ার নির্জাস  সমৃদ্ধ সমাধান, বিফলে মুলো ফেরত   
                         

 
Tricks and Tips