অগ্নি (মুভি রিভিউ)

যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, তাই শঙ্কা ছিল সিনেমা হলে অধিকাংশই জোড়ায় জোড়ায় থাকবে । তাই বন্ধুকে বোরকা পরিয়ে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বন্ধুকে এই..

এরশাদোলজি (রম্য)

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।

ফেসবুকে প্র্তারনার হাত থেকে সতর্কতা

আপনার অনেক পরিচিত কারো ফেইক আইডি খুলে আপনাকে হয়ত ফাদে ফেলানো হবে, আপনার গার্লফ্রেন্ড, আপনার বন্ধু সেজে আপনাকে ফাদে ফেলানো হবে। আর লুল বালক হলে তো কথায়ই নেই, মিষ্টি কথাতেই আপনার ঘুম হারাম করে দেবে।

ইশি (ছোটগল্প)

বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে।

আজব প্রশ্নের গজব উত্তর

প্রশ্নঃ দেশে জনসংখ্যা কমানোর জন্য কি কি করা যায়? উত্তরঃ বিবাহ করা থেকে নারী পুরুষ কে বিরত থাকার জন্য উদবুদ্ধ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা যায়। বিছানা এক হলেই মহামারী দেখা দেবে এমন আতঙ্ক ছড়ানো যায়

ছোটগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছোটগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৪

ছাগলনামা এবং কাঠালে ছাগলের অবদান (রম্য)

ছাগল একটি উপকারী জন্তু। কোনো এক জনৈক ব্যক্তি ফুটবলের বদলে ছাগলের ছা কে কিক মারে এবং সেটি গোলপোস্টে ঢুকে যায়। সেই থেকেই এর নামকরণ করা হয় ছাগোল যা বিবর্তনের মাধ্যমে ছাগলে রুপান্তরিত হয়। ছাগল কোনো কাপড় চোপড় পরেনা। তাই বলে তারা অসভ্য নয়। তাদের পুরো শরীর কুন্তল দ্বারা আবৃত থাকে। ছাগলের এই কুন্তল বিভিন্ন রঙের হয় তবে কালো কুন্তলধারী ছাগলই বেশি দেখতে পাওয়া যায়। এর থেকেই সম্ভবত "কালো জগতের আলো" কথাটি এসেছে। মাংস হিসেবে ছাগলের কদর এদেশে বেশ এবং দামেও অন্যান্য মাংসের চেয়ে ঢের বেশি। ছাগলের দুধের রং সাদা। যা খেলে মানুষের মনও সাদা হয়ে যায়।

ছাগলের এক জোড়া দুইটা পা আছে। কারো মতে ছাগলের পায়ের সংখ্যা অর্ধ ডজনের দুই-তৃতীয়াংশ। আবার কারো মতে সংখ্যাটা এক হালি। হালির হিসেবে ডিম পাওয়া যায়। ছাগল ডিম পাড়ে না। তবে ছাগলের কাছ থেকে ডিমের মত কালো কালো ল্যাদা পাওয়া যায়। এগুলো কে যারা ডিম মনে করে ভুল করে তাদের "ছাগল" বলে গালি দেওয়া হয়। গালি হিসেবে "ছাগলের বাচ্চা" "তুই একটা ছাগল" "তুই একটা #রামছাগল" এইগুলো বেশ সমাদৃত। বিশেষ করে বন্ধু মহলে ছাগল বলে গালি দেওয়াটা কমন ব্যপার। গালিশিল্পে বিশেষ অবদান রয়েছে ছাগলের।

ছাগলের সবচেয়ে বড় অর্জন এটি পাকিস্তানের জাতীয় পশু। পদার্থবিজ্ঞানেও ছাগলের অবদান রয়েছে।

বিজ্ঞানী নিউটন ঘানিতে গরুর বদলে ছাগল ব্যবহার করতেন। তার ছাগল টা ছিল খুব অলস। তাকে যদি আঘাত করা অর্থাৎ বল প্রয়োগ করা না হত তবে সে জায়গায় #স্থির থাকতো। ছাগল টিকে বল প্রয়োগ করা হলে ছাগলটি চলতে শুরু করতো। এই থেকে নিউটন তার গতিবিষয়ক প্রথম সূত্র "বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু সমবেগে চলতে থাকে" প্রদান করেন।

একসময় তিনি ছাগল টিকে F বল প্রয়োগ করায় ছাগল টি ম্যা(ma) বলে ডেকে উঠে। সেখান থেকে তিনি F=ma সূত্রে উপনীত হন।

তিনি ঘানিতে গতিশীল ছাগলের উপর পুনরায় বল প্রয়োগ করেন। এতে ছাগলের বেগ পরিবর্তিত হয়, এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করেছিল ছাগল টিও সেদিকে চলতে থাকে। এই থেকে তিনি তার গতিবিষয়ক ২ইয় সূত্র "বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার বস্তুত উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে সেদিকে এ পরিবর্তন ঘটে" প্রদান করেন।

বেশি বল প্রয়োগ করায় ছাগল টি রেগে গিয়ে নিউটন কে রাম লাত্থি মারে। সেই থেকে নিউটন তার তৃতীয় সূত্র "প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত #প্রতিক্রিয়া আছে প্রদান করেন"

এই বহুগুণে গুণান্বিত প্রানীটির প্রিয় খাদ্য কাঠাল পাতা। কাঠাল পাতার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাঠালের চাষ করতে হবে। কিন্তু অনেকেই কাঠালের বৈজ্ঞানিক নাম জানেন না যা ছাগল এবং কাঠালের জপ্ন্য অপমানজনক। কাঠালের বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus .
তো আমরা এতক্ষন ধরে কাঠালের বৈজ্ঞানিক নাম জানার গুরুত্ব বুঝলাম।

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৩

বৃষ্টি অত:পর…… (ছোটগল্প)

এই ঝমঝম বৃষ্টি মোটেই ভালোলাগেনা রুমেলের। রুমেল মনে করে বৃষ্টি ভালোলাগার মত কিছু নয়। এর আগেও দু তিন বার রিক্সা উলটে রাস্তার কাদাপানি ভর্তি গর্তে  পড়ে গিয়েছে। বৃষ্টি হলেই চারিদেকে কাদা-পানির পরিমান বেড়ে যায়। এই কাদা গুলো রুমেলকেই যেন সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। রাস্তা দিয়ে হাটতে গেলেও প্যান্টের পেছনের অংশ নিচ থেকে উপর পরযন্ত কাদার ভালোবাসায় প্রলেপিত হয় । সে এক অদ্ভুত চিত্রকর্ম।
-ছাতা আনোনি?
-বলছি আপনি কি শুনতে পারছেন? ছাতা আনেন নি?
মনে মনে বৃষ্টির গুষ্টি উদ্ধার করায় ব্যস্ত ছিল রুমেল। তাই প্রথমে বান্ধবী বৃষ্টির কথা খেয়াল করেনি। “আপনি” বলে সম্বোধন করায় হুশ হয় রুমেলের। আসলে অনাকাঙ্খিত ডাক গুলোই ভালোভাবে কানে ঢোকে এবং বুকে বিধে

*আপনি করে বলছ কেন?
-তো কি বলব? আপনাকে তো তুমি বলে ডেকে উত্তর পাওয়া গেলনা
*আবার আপনি???
-ওকে ছাতা আনছিস?
এবার আগের তুলনায় বেশি কষ্ট পেল রুমেল। কিছুটা রাগ নিয়েই বলল
*না আনিনি। মরার বৃষ্টি আসার টাইম পেল না
-কি? আমি মরার বৃষ্টি? তোর তো সাহস কম না!
*তোমাকে বলিনি
-ও, তবুও তুই বৃষ্টি কে মরার বললি ক্যান? তোর আসলে রুচিই নাই। বৃষ্টি কার না ভালো লাগে?
*আমার ভালো লাগেনা
-ক্যান? আবারো কি পড়েছিলি__ কোনো গর্তে?
রুমেলের মুখটা কালো হয়ে যায়। বৃষ্টি কি কোনোদিন তার এই দুর্দশা দেখেছিল? আবার আনমনা হয়ে যায় রুমেল।
-ছাতার ভেতরে আয়
*ইয়ে মানে, ঠি__ক আছে__ , বৃষ্টি থেমে যাবে একটু পরেই
-এতো ম্যান ম্যান করছিস ক্যান? তোর কি লজ্জা লাগে?
এটা রুমেলের কাছে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মত নয়। একসাথে সে বৃষ্টি আর ছাতা দুইটাকেই পাচ্ছে। এর আগে কোনোদিন বৃষ্টির এতো কাছে আসেনি রুমেল। তবুও সে নিজেদের মাঝে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছে। ফলস্বরুপ দেহের ডান অংশ টা ভিজে চপচপে হয়ে যাচ্ছে।
-আরে ভিজে যাচ্ছিস তো। আরেকটু কাছে আয়
*না অসুবিধা নেই।
-প্যান্ট টা ভাজ কর। কাদা হয়ে যাচ্ছে
*না থাক
-ভাজ করলে তোকে আনস্মার্ট লাগবে না, জোকার লাগবে
*নিজেকে কেমন লাগছে তা একবার দেখেছো?
-আমাকে কেমন লাগছে? পেত্নীর মত লাগছে? হুম?
*তোমাকে আজ দারুন লাগছে
কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায় বৃষ্টি
-দারুন লাগবে কেন? আজকেই কি আমাকে প্রথম দেখছো?
*হ্যা আজকেই তোমাকে প্রথম দেখছি। তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছি
নিঃশ্বাসের গতি বেড়ে যায় বৃষ্টির। হাটার গতি কমে আসে। পাশাপাশি হাটার কারনে একে অপরকে ঠিক স্পর্শই করছে বলা যায়। রুমেলের প্রতিটা স্পর্শ বৃষ্টি কে শিহরিত করছে
-কি শুনতে পাচ্ছ?
*অদ্ভুত এক ভাষা। বুঝতে পারছি না। তবে মনে হচ্ছে এই শব্দ আমি চিরকাল শুনতে চাই
ভালোবাসার ভাষা গুলো আসলেই অদ্ভুত। এই ভাষা মানুষ কে চিরকাল এক অচেনা মায়ায় আবদ্ধ করে রাখে
রুমেলের চোখের দিকে তাকাতে পারে না বৃষ্টি। মনে হয় এই বুঝি চোখ দুটো তাকে জ্ঞানশূণ্য করে দেবে। ওই #চোখের দিকে একবার তাকালেই বৃষ্টি আটকে যাবে। আটকে যাবে রুমেলের ভালোবাসায়।
-কি দেখছো?
*তোমার চোখ। তার ভেতরে আমি। তোমার মাঝে আমাকে দেখতে পাচ্ছি
বৃষ্টিও রুমেলের চোখে নিজেকে দেখতে পাচ্ছে। এক অদ্ভুত মায়াজালে আটকে গেছে বৃষ্টি। ছাতা টা হাত থেকে উড়ে গেছে। #এখন এই হাত ছাতা নয়, আরেক জনের হাত ধরে আছে।
আজকের বৃষ্টি টা রুমেলের কাছে ভালো লাগছে। রুমেল এখন বৃষ্টিতে ভিজছে, বৃষ্টির ভালোবাসায় ভিজছে। দুজন হাত ধরে ভিজতে ভিজতে হেটে যাবে অনেক দূর। হয়ত  চিরকাল..................

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ডিজিটাল-ডিজেতাল ভারসন ১.০.০ (রম্য)


ডিজিটাল-ডিজেতাল ভারসন ১.০.০

সুমন এবং মামুন  দুই বন্ধু। বন্ধু মানে সুপারগ্লু বন্ধু। একদা মামুন সুমন কে দৌড়াতে দেখে জিজ্ঞেস করল
মামুনঃ-কি রে এতো হন্তদন্ত হয়ে থ্রিজি স্পীডে কোথায় চললি?
সুমনঃ-টয়লেটে যাই, একটু ডাউনলোড করে আসি।
মামুনঃ-ওহ। তাহলে আমি যাইগা। তোর তো আবার ডায়াল আপ…..
সুমনঃ-আরে নাহ, একটু বস।এখন তো পিক আওয়ার তাই স্পীড ভালো পাওয়া যাবে

সুমনের থ্রিজি স্পীডে ডাউনলোড শেষে দুজন মিলে হাটা ধরল। পথিমধ্যে দেখা হল এলাকার জ্ঞানী চাচার সাথে।
চাচাঃ-দেখ বাবা জীবন টাকে একটু ডিফ্র্যাগমেন্ট কর, নইলে ব্যাড সেক্টরে পড়ে যাবি।
মামুনঃ-আরে রাখেন চাচা, আপনে হইলেন ডস মোডের প্রোগ্রাম, আপনে এক্সপির কি বুঝেন?
চাচাঃ-কিন্তু পাইরেটেড ডিস্ক আর কতদিন? যখন স্ক্যানডিস্ক দিবা তখন তুমিই বুঝবা!

চাচার সাথে কথা শেষে আবার হাটা ধরল দুজন। এবার দেখা হল এক সুন্দরী মেয়ের সাথে। মামুন বলে উঠল
মামুনঃ-ওফ! মেয়েটাকে দেখেছিস? একেবারে ডিভিডি প্রিন্ট
মেয়েঃ-সিআইএইচ ভাইরাস কোথাকার! >_< তোদের ঘরে মাদারবোর্ড নেই??? >_<
সুমনঃ-ওরে খাইছে! এ তো পুরা নরটন এন্টি ভাইরাস! চল রিবুট করি……….

এই মেয়ে চলে যাওয়ার পর আরেকটা মেয়েকে দেখে সুমন আর মামুন দুজনেই দাবি করে এটার সাথে সে প্রেম করবে। এই নিয়ে দুজনের মাঝে এক চাপট ঝগড়া হয়ে যায়

মামুনঃ-তোর মাথার হার্ড ডিস্কে বাড়ি দিয়া সেক্টর ফালায়া দিমু!
সুমনঃ-কি কইলি! আমি তোর প্রসেসরের ফ্যান খুইলা RAM-এ লাগায়া দিমু!
মামুনঃ-আমি তোর প্রসেসর খুইলা ফ্যানে লাগায়া ১১ এমবিপিএস-এ ডাউনলোড করুম

মামুন ও সুমনের গন্ডগোল দুই পথচারীর রাডারে ধরা পড়ল

১ম পথচারীঃ-ব্যাপার কি? ওদের কি হার্ডওয়ার  কনফ্লিক্ট?
২য় পথচারীঃ-আরে নাহ! এ বয়সে সামান্য এরর হবেই। রিস্টার্ট  দিলেই ঠিক হয়ে যাবে

নিজেদের ভিতর ঝগড়া থামালো যখন দেখলো মিন্টু আসছে। মিন্টুও সুমন-মামুনের বন্ধু।
সুমনঃ-আরে এতোদিন পর কোত্থেকে লঞ্চ করলি? তোকে তো গুগল সারচ দিলেও পাই না!
মিন্টুঃ-আর বলিস না, পাওনাদারের ভয়ে কিছুদিন একটু অফলাইনে ছিলাম............ যাতে কেউ নক করতে না পারে
সুমনঃ- ও। শুনলাম তুই নাকি বিয়ে করেছিস? তা তোর বউয়ের এক্সেসরিজ কেমন?
মিন্টুঃ-আর বলিস না। মায়ের পছন্দ, যেমন রেজোলিউশনের অবস্থা তেমন তার #সাউন্ড কার্ড।
মামুনঃ- হায় হায়! তাহলে তো তোর সিস্টেম ক্র্যাশ! :o
মিন্টুঃ- অসুবিধা নাই, ব্যাক আপ আছে ;)

এবার তিনজন মিলে লাল্টুর বাড়ির দিকে যাত্রা করে। লাল্টু ওদের বন্ধু হলেও একটু ওল্ড ভার্সনের। তাই বিয়ে করে ফেলেছে আগেই। লাল্টুর বাড়ির কাছে আসার পর
লাল্টুর বউঃ-লেখ স্বরে অ। খবরদার ফাজলামো করবি না, যা ডিফল্ট-এ আছে সেটাই কর
লাল্টুর বাচ্চাঃ-কত পয়েন্টে লিখব মা? সুতন্বী এম জি না, সিয়াম রুপালি? বোল্ড না ইটালিক? আম্মু দেখ দুইটা নতুন ভাইরাস এদিকেই আসছে।

অতঃপর সিস্টেম এরর.....................

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৩

গানের একমাত্র শ্রোতা (ছোটগল্প)

-আপু, তুই আসলে, আসলে একটা ই, মানে চরম বিরক্তিকর।
হেডফোন টা কান থেকে খুলতে খুলতে আদৃতা জবাব দিলো
*কিছু বলছিস?
-কি যেনো বলে? ও, বয়রা হয়ে গেছিস নাকি? বলছি তুই একটা উচ্চমাত্রার বিরক্তিকর বস্তু।
*বয়রা হব কেন? বিরক্তিকর মানে? তোর সমস্যা কি?
-এই যে সারাক্ষন কানের ভিতর হেডফোন লাগিয়ে রাখিস, একটা সময়ের জন্য তো কান থেকে ওই বস্তু তোর সরে না।
*তাতে তোর কি? যা পড়তে বস
-তোর দেখিস কানের ডাক্তারের সাথে বিয়ে হবে। যে সবসময় তোর কানের চিকিৎসা করবে।
*জ্বী না। আমার বিয়ে হবে একটা গায়কের সাথে, যে শুধু আমার জন্য গান গাইবে।
-হুম, হেডফোন আর মোবাইল টাকেই বিয়ে করে ফেল, সারাদিন তোর কানের কাছে প্যাঁ প্যাঁ করবে।
*বেশি প্যাঁচাল পাড়িস না, যা ভাগ।

-যাচ্ছি যাচ্ছি আজ গ্রাম থেকে সেই ছেলেটা আসছে।
*কোনটা?
-সজল
*ভেজাল ! আব্বুর ওই গাইয়্যা ক্ষ্যাত টা!?
তিশা আর আদৃতার কাছে ঢাকার বাইরে মানেই গ্রাম, আর সেখান কার মানুষেরা গ্রাম্য ক্ষ্যাত। গ্রামের ক্ষ্যাত রা মূর্খ হয়। সুগন্ধ-দুর্গন্ধের মাঝে পার্থক্য বোঝেনা।
-আচ্ছা আপু, সজল ভাইয়া কে দেখে তো আমার গ্রামের ক্ষ্যাত মনে হয় না, ভালই তো স্মার্ট লাগে। তুই তার নাম শুনলে এমন করিস ক্যান?
*হ বলেছে তোকে? তোর ভালো লাগলে তুই ওই ভেজালের সাথে প্রেম কর। আমার কানের কাছে ঘ্যনর ঘ্যনর করিস না।
-আপু, আমার বয়ফ্রেন্ড আছে, আমি কেনো আরেকজনের সাথে প্রেম করব? তোমার বয়ফ্রেন্ড নাই তাই তুমি কর।
*আমার বয়ফ্রেন্ড নাই তো কি হয়েছে? আমার পিছনে কত ছেলে ঘোরে জানিস? আমিই তাদের পাত্তা দেই না।
-পাত্তা দাও না নাকি চান্স পাও না তা আমি কিভাবে বলব?
*তোর পাকনামি বন্ধ করলি? এইটুকু মেয়ের বয়ফ্রেন্ড আছে সেটা আবার আমাকে বলছে, আম্মুকে সব বলে দেবো
-আপু আমি এইটুকু না, এক বছর পর আমার আঠারো হবে, আর তুইও আমার চেয়ে মাত্র তিন বছরের বড়।
*ওকে, মেনে নিলাম আপনি বড়, আমার চেয়েও বড়। এবার ওই ভেজাল টা আসলে আপনি তাকে সামলিয়েন একটু
-আমার স্কুল আছে, কোচিং আছে, তোকেই সামলানো লাগবে রে। আর সম্মান দেয়ার জন্য তোকে থ্যাঙ্কস
ভেজাল টা আদৃতার ঘাড়েই চাপছে। আদৃতার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। রাগ হলে আদৃতা ঘরের ভিতর পায়চারি করে। ভেজাল টা আসলেই তার মাথায় এক বালতি জল ঢেলে দিতে হবে।
-দেখতো আদৃ কে এলো? দরজা টা খুলে দিয়ে আয়।
আদৃতার আম্মুর গলা শুনেই আদৃতা বুঝে গেলো ভেজাল টা চলে এসেছে। এবার ওকে আচ্ছামত টাইট দিতে হবে। দরজা খুলেই অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ভেজাল টার দিকে।
-আ_আমি সজল, আন্টি আংকেল কেউ বাসায় নেই।
গলা খাকারী দিয়ে কথা গুলো বলল সজল
*আসুন
সজল কে একটা ঘর দেখিয়ে দিয়ে রান্নাঘরে গেলো আদৃতা।
-আম্মু, ক্ষ্যাত টা কতদিন থাকবে?
*কিসের ক্ষ্যাত?
-ওই যে সজল না ভেজাল কি যেনো নাম
*কি আবোল তাবোল বলছিস? ছেলেটা ভালো স্টুডেন্ট, দেখতেও ভালো, আর তুই ওকে ক্ষ্যাত বলছিস??
-তুমি তো ওর চুলের অবস্থা দেখোনি আম্মু। দেখলে বুঝতে ক্ষ্যাত না পাখির বাসা
*তোর ওতো চুল নিয়ে ভাবা লাগবে না , ওকে গিয়ে বল কিছু লাগবে নাকি, যা লাগে দিস
-আপনার কিছু লাগবে?
*না লাগবে না। (কিছুটা নড়েচড়ে সজল কথাটা বলল)
আদৃতা চলে যেতে গিয়ে আবার ঘুরে তাকিয়ে বলল
-আপনার চুল গুলোর ওই অবস্থা কেনো?
*কি অবস্থা?
-এই যে পাখির বাসার মত।
*ও, বাসের জানালার পাশে বসে ছিলাম তো তাই বাতাসে এলোমেলো হয়ে গেছে
-বিদ্ঘুটে পাখির বাসা
*আচ্ছা এই মেয়ে শুনুন, আমাকে এক গ্লাস পানি দিন প্লিজ
-আমি এই মেয়ে না, আমার নাম আদৃতা, আর একটু আগেই বললেন আপনার কিছু লাগবে না, ওকে দিচ্ছি
*আ…দৃ….তা, ছোট্ট নাম, অনেক সুন্দর। আমি কোনো গল্পের বই টই আনিনি, আমাকে কিছু বই দিয়ে যেতে পারবেন?
-ছোট নাম এতো টেনে বলার কি আছে? আদৃতা ছোট না মাঝারী নাম । যা দরকার একবারে বলুন, বারেবারে বিরক্ত করবেন না।
*আচ্ছা ঠিক আছে, আমি একটু শেভ করব। শেভিং ক্রীম আর স্যভলন আনতে ভুলে গিয়েছি। আংকেলের থাকলে একটু দিয়ে যাবেন প্লিজ
-উফ! ডিসগাস্টিং। ওক্কে
আদৃতা সজল কে ঈশপের গল্পের বই দিয়ে গেছে। ঈশপের গল্প পড়ার ইচ্ছা নেই সজলের।
মুখে খোচা খোচা দাড়ি বিশ্রী লাগছে। শেভ টা করে ফেলতে হবে। শেভ করতে গিয়ে বাধল বিপত্তি। কিছুতেই ফেনা হচ্ছে না। সম্ভবত শেভিং ক্রিম টা ভালোনা।
আদৃতা কে ডাক দিয়ে সজল বলল
*আপনার বাবার শেভিং ক্রিমে ভেজাল আছে , কিছুতেই ফেনা হচ্ছে না।
-মোটেও না। বাবা তো ঠিকই শেভ করেন।
আদৃতা খেয়াল করল স্যাভলনের টিউব খোলা। আদৃতা রাগ চরমে নিয়ে বলল
-ভেজাল আপনার মাঝে। আপনি স্যাভলন ক্রিম লাগিয়ে বলছেন শেভিং ক্রীমে ভেজাল! আসলেই আপনি ভেজাল
সুন্দরী মেয়েদের রাগের অভিব্যাক্তি খারাপ লাগে না। সজলেরও খারাপ লাগছে না। তাই সে হাসি ছাড়া কিছুই দিতে পারছে না। হাসি টা আসলেই ক্ষ্যাত মার্কা ছিল যা আদৃতা কে আরো রাগিয়ে দিল
“ডুবুরি হয়ে ডুব দিয়েছি প্রেমেরই সাগর জলে, চাতুরি জানে #ঝিনুকমালা ভুলব না তার ছলে” সন্ধ্যার পর গীটারের বাজনার সাথে সুন্দর একটা গান ভেসে আসছে। গানটা বাসারই কেউ গাইছে। ভালই লাগছে গানটা। গানের উৎসের দিকে এগিয়ে গিয়ে আদৃতা বুঝল গানটা সজল গাইছে। বাহ কন্ঠ টা তো খারাপ না, গীটারও ভালোই বাজায়। কিছুক্ষন দরজায় দাঁড়িয়ে গান শুনতে লাগলো আদৃতা । একি আদৃতা ক্ষ্যাত টার গান শুনছে কেন? নিজেকেই প্রশ্ন করে । দরজা ঠেলে ধমকের সুরে বলে
-গান গাইছেন কেন?
গান থামিয়ে সজল জবাব দিল
*গান গাওয়া তো খারাপ না
-হ্যা খারাপ। তাও আবার প্রেমের গান গাইছেন
এটা বলেই বেরিয়ে যেতে গেলো আদৃতা
“আকাশ কাদে বাতাস কাদে কাদে আমার মন…”
-একি? আবার গান গাইছেন?
*স্যাড, স্যাড গান। আপনি বললেন প্রেমের গান গাওয়া যাবে না তাই স্যাড গান গাচ্ছি
-প্রেম ভালোবাসা ছাড়া আপনার মাথায় কিছু নেই?
*আছে তো,
“আমি ফাইস্যা গেছি, হো আমি ফাইস্যা গেছি, আমি ফাইস্যা গেছি মাইনকা চিপায়”
এবার আর হাসি থামিয়ে রাখতে পারলোনা আদৃতা। হাসতে হাসতেই বলল।
-এটা আবার কি গান ?
*প্রেমের কিংবা স্যাড গান না । কমেডি গান
-থাক থাক আপনাকে আর গাওয়া লাগবে না। অনেক সুন্দর গান গাইতে পারেন আপনি
গ্রামের ক্ষ্যাত টা গীটার বাজাতে পারে ভালোই, সাথে গলাটাও দারুন। স্মার্ট গ্রামের ক্ষ্যাত টা গায়ক হিসেবে ভালই।
“এই মেয়ে ভাবছো কি আনমনে? পড়েছি তোমার প্রেমে, ভালোবাসবে কি আমায়?”
-এমন গান তো আগে শুনিনি
*কিছু কিছু গান নতুন করে তৈরী হয় যার শ্রোতা একজন থাকে সবসময়
কিছু কিছু গানের একমাত্র শ্রোতা হতে পারাটাও ভাগ্যর ব্যাপার

সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৩

ইশি (ছোটগল্প)

-আম্মু ওই গুলো কি?
*কোনগুলো?
-ওই যে ওই ছেলের হাতে গোলাপী রঙয়ের?
*ওইগুলো হাওয়াই মিঠাই। ওইগুলো পচা খাবার
হাওয়াই মিঠাই দেখতে সুন্দর, ছোট্ট মেয়ে ইশির এই নতুন জিনিস খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আম্মুর কথায় বুঝে গেছে এটা তাকে খেতে দেয়া হবে না। তাই মন খারাপ করে গাড়ির ভিতর বসে রইল ইশি। খাবার টা পচা না। আসলে আম্মু টাই পচা। বাসায় গেলে ইশিকে জোর করে ঠিকই দুধ খাওয়াবে। দুধ ভাল খাবার। ইশির ভাল জিনিসের প্রতি আগ্রহ নেই। ইশির বন্ধু ফারিহা সেদিন কি যেন গুড়ো এনেছিল,পানিতে দিলেই পানি গোলাপী হয়ে যাচ্ছিল। ফারিহার কাছ থেকে ওইগুলো নিয়ে দুধে মিশিয়ে দিতে হবে। তাহলে দুধও পচা খাবার হয়ে যাবে।

বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে। ওরা হয়ত চায় সারাদিন জ্যাম লেগে থাকুক । কেউ ফুল, কেউ পেপার , কেউ অন্য কিছু নিয়ে এক গাড়ি থেকে আরেক গাড়ির পাশে গিয়ে দাড়াচ্ছে সেগুলো বিক্রি করার জন্য । গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে জ্যাম উপভোগ করছে ইশি ।
"ওই ******, গাড়ি কি তোর বাপে কিইন্যা দিছে "
সামনে থেকে শব্দ টা ভেসে আসে । ৭-৮ বছর বয়সী একটা মেয়ে ফুল নিয়ে সামনের গাড়ির পাশে দাড়িয়ে ছিল । বড় লোকের গাড়িতে ফুলের টোকা লাগলে তা ময়লা হয়ে যায় । মেয়েটাকে দেখে ইশির মায়া হয় । নোংড়া ছেলেমেয়েদের দেখে মায়া হওয়া খারাপ কাজ ।
"আপা ফুল নিবেন? অনেক সুন্দর ফুল "
বাচ্চা মেয়েটা ইশিদের গাড়ির পাশে এসেছে । ২দিন আগে ইশি তাদের গোলাপ ফুল গাছের কাটায় হাত কেটে ফেলেছে । লাল রক্ত বেরিয়েছিল । ইশি রক্ত দেখলে ভয় পায় । হাত কাটার পর থেকে লাল রং আর লাল গোলাপের সাথে ইশির আড়ি । ইশি কেবলি বলতে যাচ্ছিল "না নিব না, গোলাপ ফুল পচা" কিন্তু তার আগেই ইশির আম্মু বলে দিল "না লাগবে না, যা"
ইশিদের গোলাপ গাছে এখন একটাও ফুল নেই । মেয়েটা চলে যাওয়ার পর ইশির মায়া বেড়ে গেল । ২টা গোলাপ কিনলে তেমন কিছুই হত না । জ্যাম কেটে গেছে , মেয়েটাও হারিয়ে গেছে ।
বাসায় ফিরে ইশি তার ড্রইং খাতায় গোলাপ ফুল আকার চেষ্টা করছে । কিন্তু কেন জানি এটা গোলাপের মত লাগছে না । রান্নাঘর থেকে আম্মুর উচু গলা ভেসে আসছে । কাজের মেয়েটা একটা গ্লাস ভেঙ্গে ফেলেছে । আম্মু তার জন্য মেয়েটাকে খুব মারছে । সেদিন ইশিদের পোষা কুকুর তাদের একুরিয়াম ভেঙ্গে ফেলেছিল । আম্মু শুধু "না" বলে একটা চিতকার দিয়েছিল । ইশিদের কুকুর নোংড়া না । এই কাজের মেয়েটা নোংড়া ।
বড়রা সবসময় ভাল কাজ করে । ইশির আম্মু কাজের মেয়েটা কে মেরে ভাল কাজ করছে । ভাল কাজ ইশির ভাল লাগে না ।
-কাদিস না । দেখত আমার গোলাপ টা কেমন হয়েছে?
রান্না ঘরে গিয়ে ইশি কাজের মেয়েকে কথাগুলো বলে
*আফা গুলাপ তো রাঙ্গা অয় । আপ্নেরডা রাঙ্গা নাতো
-গুলাপ না, গোলাপ আর রাঙ্গা না , লাল, বুঝলি? আমার কাছে লাল রং নেই ।
*আমি লেহাপড়া জানিনা । গুলাপ কইলেও কিছু অইত না । আপ্নের মায়ের লাল লিফিস্টিক দিয়া রাঙ্গা কইরা দেন ।
মেয়েটা আবার রাঙ্গা বলেছে । ইশির রাগ হওয়ার কথা। কিন্তু হচ্ছেনা । কারন মেয়েটা তাকে ভাল বুদ্ধি দিয়েছে। ইশির ক্ষমতা থাকলে পুরষ্কার স্বরুপ ওকে স্কুলে ভর্তি করে দিত ।
টিফিন পিরিওডে ইশি দেখল গতকালের হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা ছেলেটা তাদের স্কুলের সামনে হাওয়াই মিঠাই নিয়ে দাড়িয়ে আছে ।
-তোমার এ খাবার গুলো ভাল না । এতে রং মেশানো । এগুলো খেলে অসুখ করবে । আমি খেতে চাই । কিন্তু রং দেয়া বলে খেতে পারিনা । রং বাদে আনতে পারোনা?
হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা ছেলের কাছে গিয়ে ইশি কথাগুলো বলে ।
*আইচ্ছা আফা, কাইলকের তে রং বাদে আনুম নি ।
ইশি এখন খুশি । কারন এখন সে প্রতিদিন টিফিনে হাওয়াই মিঠাই খেতে পারে । এগুলো রং করা না । তাই এগুলো দেখতেও সুন্দর না .
-তোমার নাম কি?
*বাচ্চু ।
হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা ছেলের নাম বাচ্চু ।
-ইয়াক! এটা কি নাম?
*নাম একটা হইলেই হইল । মাইনষে আমারে বিচ্ছু কইয়াও ডাকে ।
এদের নাম নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই । বিচ্ছু নাম টা ইশির কাছে খুব বিদ্ঘুটে লেগেছে । আচ্ছা ইশি নাম বিকৃত করলে কি হবে? ইশ, বিষ , ইস্যু, টিস্যু অনেক কিছুই ইশির মাথায় ঘুরপাক খায় । থাক, ইশির কোনো বিকৃত নাম লাগবে না ।
-তোমরা কয় ভাই বোন ?
*আমার ছোড একট বইন আছে । নাম রিতু ।
অসহ্য। বিচ্ছুটা সব কিছুকেই বিকৃত করে বলছে । তবে রিতু নাম টা ইশির পছন্দ হয়েছে ।
-ঈদের শপিং করেছ ?
*শপিংকি?
-মানে ঈদের জামাকাপড় কিনেছ ?
*হা হা হা , আমগো পেটই চলে না আবার ঈদ । বইনে একটা লাল ফরক চাইছিল । দিবার পারুম কিনা কেডায় জানে ।
ইশির খারাপ লাগছে । অনেকের যে ঈদই নেই এটা আজকেই প্রথম শুনছে । ইশি ধর্ম বইতে পড়েছে ঈদ মানে খুশি । তার মানে বাচ্চুর খুশি নেই ।
আজ ইশির আব্বু, আম্মু আর ইশি #‎শপিং করতে গেছে । বাচ্চু কিছু কিনতে পারেনি। তাই বাচ্চুর জন্য কিছু কেনার ব্যবস্থা করতে হবে ।
-আব্বু প্লিজ বাচ্চু , বাচ্চুর বোন আর কাজের মেয়ের জন্য কিছু কেননা?
নিজেদের শপিং শেষে ইশির আব্বু কে কথা গুলো বলে ইশি ।
*বাচ্চু কে?
-আমাদের স্কুলে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে। ও ঈদে কিছু কিনতে পারেনি ।
*অনেক খারাপ হয়ে যাচ্ছ তুমি । ওরা খারাপ ছেলে । কে পোষাক কিনল বা না কিনল তা নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না । ছোট আছ তাই পাকামো করবে না ।
ইশির বাবা লাখ টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য ঈদের বাজার করতে পারেন । হাজার হাজার টাকা হারিয়ে গেলে তিনি কিছুই মনে করবেন না । কিন্তু বাচ্চুদের জন্য ৫০০ টাকা খরচ করা তার ক্ষমতার বাইরে ।
ইশি খারাপ হওয়া শিখে গেছে । এখন চাইলেই সে খারাপ কাজ করতে পারবে । ইশির লাল ফ্রক নেই । তাই স্কুল ব্যাগের ভিতর একটা সাদা ফ্রক ঢুকিয়ে রেখেছে । রোজা শুরু হয়ে যাওয়ায় ইশিদের টিফিন পিরিওডেই ছুটি হয়ে যায় । ছুটির পর আম্মু থাকে। আম্মুর সামনে বাচ্চু কে ফ্রক দেয়া যাবেনা । ইশি ইচ্ছে করেই তার ক্লাসে পানির ফ্লাক্স রেখে এসেছে ।
-তুমি গাড়িতে বস । আমি তোমার ক্লাস থেকে ফ্লাক্স টা নিয়ে আসি ।
ইশির আম্মু চলে যাওয়ার পর ইশি জোর করে বাচ্চু কে ফ্রক টা দেয় ।
ইশির আম্মু ফিরে আসার পর একটা হাইজ্যাকার ইশির আম্মুর ব্যাগ টা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ।
ইশিরা কিছুদুর এগিয়ে যেয়ে একটা জটলা দেখতে পায় । বাচ্চু হাইজ্যাকার টার পিছু তাড়া করেছিল । একটা ট্রাক এসে বাচ্চু কে চাপা দিয়ে গেছে । "বেচে আছে " "মারা গেছে " "আহহারে " বিভিন্ন শব্দ ইশির কানে আসছে । কি আশ্চর্য্য! গরীবের রক্তও লাল ! এ রক্তের রং ইশির রক্তের মতই ।
*আম্মু ওকে আমাদের গাড়ীতে করে হসপিটালে নিয়ে চলো ।
-ইশি চলো । ও বেচে নেই হয়ত । আমার ব্যাগ টা আর পাবোনা ।
ইশি পাথর হয়ে দাড়িয়ে আছে । একটা সাদা ফ্রক রিতুর কাঙ্খিত লাল ফ্রকে পরিনত হচ্ছে ।
একটা সাদা ফ্রক খুব সহজেই লাল ফ্রক হয়ে যায় কিন্তু কতিপয় ধনীদের মন কখনো নরম হয়না ...............

শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৩

রাসেল ভাই এবং কাকের কাকতালীয় কর্ম (ছোটগল্প, কিঞ্চিত রম্য)

-ভাইজান সিগারেট দেই ?
*না থাক পরে খামুনে
-কিছু হইছে ভাইজান?
*না, তোরা থাক, আমি গেলাম।
রাসেল ভাইয়ের ভিতর মাস্তানি ভাবটা আর আগের মত নেই। কেমন জানি চুপসে গেছেন তিনি। সিগারেটও আগের মত টানেন না। রাসেল ভাইয়ের সিগারেটের প্রতি অনিহা অষ্টম আশ্চর্য্য ছাড়া কিছুই নয়। প্রেমে পড়লে মানুষ সিগারেট বেশি খায় নয়তো কমিয়ে দেয়। রাসেল ভাইয়ের সিগারেট থেকে পিছুটানের প্রধান কারন তানি আপু। পাড়ায় ২দিন এসেই রাসেল ভাইয়ের সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছেন।
রাসেল ভাই সুযোগে আছেন কেউ তানি আপুর সাথে খারাপ আচরন করলেই চড় মেরে তার ২৮-৩০টা দাঁত ফেলে দেবে। সবার ৩২ টা দাঁত থাকেনা।
রাসেল ভাইয়েরও আক্কেল মাড়ি উঠেনি। আরো ভাবতে থাকেন, তানির দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে তার চোখ কানা করে দেবে, বাংলা সিনেমার নায়কের মতো তানি কে ভিলেনের হাত থেকে রক্ষা করবে। ধ্যাত!! মাস্তানদের ভাবনা জুড়ে শুধুই মারামারি। সেখানে রোমান্টিকতা নেই। তানি আপু মারামারি পছন্দ করেন না।
আজকাল তিনি চুলে স্পাইক করা ধরেছেন। কালো চশমাটা চোখে দিয়ে তানি আপুর বাড়ির সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। তার চোখের দৃষ্টি তানি আপুর বাসাকে কেন্দ্র করে তার ঘাড় টাকে অটোমেটিক বাম দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। রাস্তা দিয়ে হাটতে হলে একটু সতর্কতার সাথে হাটতে হয়। প্রেমে পড়লে চলাফেরার ট্রাফিক আইন মানা যায় না।
কপাল ভাল থাকলে কিছু কাকতালীয় ব্যাপার ঘটে যায়। এই মুহূর্তে তানি আপুর ছাদে আগমন অনেকটা তেমন কিছুই। রাসেল ভাইয়ের হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে, দৃষ্টি তার ছাদের দিকে। হঠাতই রাসেল ভাইয়ের উষ্ঠা খাওয়ার মতো অবস্থা হল। রাস্তার খানাখন্দে বেধে তার চটি স্যান্ডেল এর দফারফা হয়ে গেল। ট্রাফিক আইন মেনে না চললে এমনি হয়। তানি আপুর অট্টহাসিতে রাসেল ভাই নিজেকে খুব অসহায় মনে করছে। রাসেল ভাই নিজেকে অসহায় ভাবছে এটাও কম হাস্যকর নয়। স্যন্ডেল জোড়া হাতে নিয়ে, তানি আপুর বাসা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে, স্লো মোশন থেকে হাটার স্পীড বাড়িয়ে দিয়ে রাসেল ভাই দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করলেন।
আগের দিনের কথা ঠিকই মনে আছে । তাই রাসেল ভাই নতুন জুতা কিনেছেন। হলুদ রঙয়ের জুতা। তানি আপুর বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কোনোদিন স্যান্ডেল পায়ে থাকবেন না প্রতিজ্ঞা করেছেন। হলুদ জুতা পায়ে দিয়ে তানি আপুর বাসার ছাদের দিকে তাকিয়ে হাটছেন। তানি আপু হলুদ রং একদম পছন্দ করেনা। একটা বিরক্তি নিয়ে বললেন "খ্যাত কোথাকার"। রাসেল ভাই তার হিরোইক লুকের ভিতর কোনো খ্যাত খুজে পেলেন না। রাসেল ভাই খুব সুন্দর হাসি দেয়া শিখেছেন। তানি আপুর দিকে তাকিয়ে সেটাই প্রয়োগ করলেন। ঠিক সেই সময় ইলেকট্রিক তারের উপর বসে থাকা একটা কাক প্রাকৃতিক কর্ম সারল। কিন্তু তার লক্ষ্যবস্তু ছিল রাসেল ভাইয়ের মাথা। রাসেল ভাই মাথায় হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেন ঠিক কি জিনিস তার এতো সুন্দর স্পাইক নষ্ট করল। তানি আপুর হাসি আজকেও রাসেল ভাইকে অসহায় করে ছাড়ল। এটা যে রাসেল ভাইয়ের হাসির প্রতিউত্তর ছিল না সেটা রাসেল ভাই ভালই বুঝতে পেরেছেন। মুহূর্তেই তানি আপুর বাসার ছাদের প্রতি দৃষ্টির চৌম্বকীয় আকর্ষণ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল। ব্যাটা কাক কে পেলে আস্ত চিবিয়ে খাবে রাসেল ভাই। ইশ কাক টা যদি রাসেল #ভাইয়ের হলুদ জুতা জোড়া কে সাদা করে দিত তাহলেও একটা কাজের কাজ হত।
তানি আপুর হলুদ পছন্দ নয়। রাসেল ভাইয়ের লাল রং পছন্দ। একটা টকটকে লাল রং এর ক্যাপ মাথায় দিয়ে তানি আপুর বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছেন। আজকের প্রাইভেসি অনেক হার্ড। জুতা জোড়া ছেঁড়ার ভয় নেই, কাক বেটা কিছু করলেও চুলের স্পাইক নষ্ট করতে পারবে না। বর্ষাকালে রাস্তার খানাখন্দে অনেক কাদাপানি জমে আছে। খানাখন্দ কে পাশে রেখে দৃষ্টির চৌম্বকীয় আকর্ষণ টাকে সক্রিয় করে এগিয়ে চলেছেন রাসেল ভাই। ট্রাফিক আইন তিনি আজকেও মানছেন না। হঠাত একটা মাইক্রোবাস রাস্তার কাদাপানি দিয়ে রাসেল ভাই কে গোসল করিয়ে দিয়ে গেল। তানি আপুর হাসিটা আজ অতটা প্রবল নয়। রাসেল বেচারার প্রতি কেমন যেন মায়া হচ্ছে। ছুটে যাওয়া মাইক্রো কে একটা ধামকি দিয়ে রাসেল ভাই আজকেও দ্রুত গতিতে হেটে চললেন। মনে মনে ভাবলেন "ব্যাটাকে আরেকবার পেলে হয়"।
রাসেল ভাইয়ের হয়ত কপালটাই খারাপ। তাই বারবার তানি আপুর বাসার সামনেই তার বিপদ হয়।
আজ তানি আপু রাসেল ভাই মুখোমুখি হেটে আসছেন। তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১০০ মিটার এর বেশি নয়। রাসেল ভাইয়ের পায়ে জুতা আর মাথায় ক্যাপ আজকেও আছে। বেচারার মন টাই খারাপ। কাদাপানি থেকে বাচার জন্য ট্রাফিক আইন মেনেই হাটছেন। তানি আপু তার পাশ কাটানোর সময় আচমকাই পিছলা খেয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। রাসেল ভাই দ্রুত তানি আপুর হাত ধরে তাকে পড়ে যাওয়া থেকে বাচালেন। রাসেল ভাই নিজেও বুঝতে পারেন নি কিভাবে তার হাত তানি আপুর হাত কে ধরে ফেলল। তানি আপুর মুখ লাল, লজ্জায় লাল। লজ্জাটা পিছলা খাওয়ার জন্য না রাসেল ভাই তার হাত ধরার জন্য তা ঠিক বোঝা গেলনা। এবার তানি আপু দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলেন। ধন্যবাদ টাও দিলেন না। হয়ত ভুলে গেছেন।
এখন তানি আপুর হাসার জন্য রাসেল ভাইয়ের স্যান্ডেল ছেড়া লাগেনা, ইলেকট্রিক তারে বসে থাকা কাক কেও প্রাকৃতিক র্ম করার জন্য রাসেল ভাইয়ের মাথাকে বেছে নিতে হয় না।
-এই যে মিস্টার, বিয়ে বাড়ি থেকে আসছেন বুঝি?
রাসেল ভাই কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল। তার বিশ্বাস হচ্ছে না তানি আপু তাকে কথাটা বলছে।
*আমাকে?
-জ্বি আপ্নাকেই বলছি,বিয়ে বাড়ি থেকে আসলেন বুঝি?
*কই না তো, কেন?
-আপনার জুতা জোড়া হলুদ হয়ে আছে। ভাবলাম মাংসের ঝোল পড়েছে হয়ত।
মুচকি হাসি দিয়ে কথাগুলো বলল তানি আপু।
*ইয়ে মানে এটার কালার হলুদ।
-খ্যাত কোথাকার, এই গরমে কেউ জুতা পরে থাকে? লাল ক্যাপ পরেছেন কেন? সাদা ক্যাপ পরতে পারেন নি?
*সাদা ক্যাপ কেন?
-সাদা ক্যাপে সাদা জিনিস পড়লে টের পাওয়া যায়না।
খ্যাত মার্কা রাসেল ভাই বিশাল চিন্তায় পড়ে গেল। তানি আপু তাকে ডেকে কথা বলেছেন। নতুন চিন্তার বিষয় রাসেল ভাই কে তিনি সাদা ক্যাপ পরতে বলেছেন।
পার্কে বসে আছেন তানি আপু আর রাসেল ভাই। আজ তার পায়ে হলুদ জুতা বা মাথায় লাল ক্যাপ নেই।
*তুমি হলুদ রং পছন্দ করোনা কেন?"
-ওটা খ্যাত কালার। আপনাকে যদি আবারো হলুদ জুতা পরতে দেখেছি তো খবর আছে।
*তোমার প্রিয় রং কি"
-সাদা
হঠাতই একটি কাক এবং রাসেল ভাইয়ের মাথা..........................................

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৩

একটি বৃষ্টিস্নাত সকাল ও ……… (ছোটগল্প)

সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল । তাই একটু দেরী করেই বাড়ি থেকে বেরোলো রাতুল । যখন পুকুর পাড়ে পৌছাল তখন টুং টাং স্কুলের ঘন্টা বাজছে । ঘন্টার বাজনা শুনেই বোঝা যায় জমির চাচা ঘন্টা বাজাচ্ছেন। জমির চাচার বয়স আগের থেকে বেড়ে গেছে। তার সাদা মাথা থেকে এখন আর কালো চুল বের করা সম্ভব নয়। সমস্ত কালো এখন ছায়া হয়ে তার মুখে জমা হয়েছে। এই ছায়াটা হয়ত চিরস্থায়ী । জমির চাচার বয়স হলেও ঘণ্টা তিনি আগের মতই বাজান। ঘন্টার বাজনা টা একটুও বদলায় নি। বদলে গেছে পুকুর পাড়ের এই আম গাছ টা, অনেক বড় হয়ে গেছে। জমির চাচার ঘন্টার বাজনা শুনতে শুনতে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল রাতুলের। জমির চাচা ছুটির ঘন্টা বাজালেই স্কুল এর সবাই ক্লাস থেকে দৌড়িয়ে বেরিয়ে আসত। পাল্লা লাগাত কে কার আগে বেরোবে। সাথে সবার মুখ থেকে বিজয়ের আওয়াজ ভেসে আসত । স্কুল এর সামনেই ফিরোজ ভাই আচার বিক্রী করত । রূপাও ক্লাস থেকে বেরিয়ে জমির চাচার নিকট ছুটে যেত। তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আচার কিনে বাড়ির দিকে ফিরত। রাতুল দুষ্টুমি করে রূপার আচারে ভাগ বসাত।
দুজনেই স্কুল থেকে ফেরার সময় এই পুকুর পাড়, এই আম গাছের নিচ দিয়ে হেটে যেত। আমের সময় ঢিল মেরে আম পাড়া ছিল রাতুলের পেশা রূপি নেশা। রূপা কে বাহাদুরি করে বলত “দেখেছিস আমার হাতের নিশানা?” রূপার সম্মতি রাতুলের মুখে বিজয়ীর হাসি এনে দিত। দুজনের এ বন্ধুত্ব কখন যে ভালবাসায় রূপ নিয়েছিল তা কেউ জানেনা, তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে সম্পর্ক টা “তুই” থেকে “তুমি” ঠিকই হয়ে গিয়েছিল। জমির চাচার এই মেয়েটা দেখতে দিন দিন অপরুপা হয়ে উঠেছে। হয়ত নামের সাথে মিল রাখতেই এমন টা হচ্ছে । গরিবের ঘরে জন্ম, তাই সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত রূপই তার সম্বল। রাতুলের ভাবনার পুরোটা জুড়ে অপরুপা রূপা। এই পুকুর পাড়ে বসে পুকুরে ডুব না মেরেই রূপার প্রেমে হাবুডুবু খেত রাতুল। দুজন দুজনের পাশাপাশি বসে বেশ সময় কাটিয়ে দিত । কিন্তু হঠাতই সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। আজ ৫ বছর পর রূপার সাথে দেখা করতে এসেছে রাতুল। তার জন্যই এই পুকুর পাড়ে ছুটে আসা।
*তুমি এখানে কেন এসেছ?
-তোমাকে দেখব বলে
*আমাকে দেখার কি আছে? যাও ফিরে যাও। আমার জন্য সময় নষ্ট করোনা।
-আমি সময় নষ্ট করছি না। তোমাকে দেখে সময়ের সদ্ব্যবহার করছি।
*এটা পাগলামি।
-আমি পাগল।
*পাগলের তো পাগলা গারদে থাকা উচিত।
-সব পাগলের ঠাই পাগলা গারদে হয় না। কিছু পাগল গাছ তলায় থাকে।
*এটা অভিশপ্ত গাছ।
-পাগলেরা অভিশাপের পরোয়া করে না।
-চুপ করে আছ কেন?
*বল শুনছি।
-আমার হাতের নিশানা দেখবে?
-চুলগুলো মুখের উপর থেকে একটু সরাবে?
*কেন?
-অনেকদিন তোমাকে দেখিনা।
*বলেছি না চলে যাও? আর আসবে না। আমাকে ভুলে যাও
-আমার #স্মৃতিশক্তি খুব একটা দূর্বল না যে কাউকে ভুলে যাব।
*তুমি কেন বুঝছ না আমাকে তুমি কোনোদিনই পাবে না।
-তুমি তো আমার কাছ থেকে পালিয়ে চলে গিয়েছ। আমাকে ধোকা দিয়েছ।
*আমি তোমার ক্ষতি চাইনি।
-তুমি আমার হাসিটাকে কেড়ে নিয়েছ
-আবার চুপ কেন?
*জানিনা
-একটু হাসবে?
*আমি হাসতে জানিনা। হাসি কেড়ে নিতে জানি
-আমি তোমার কাছে আসতে চাই।
*আমি চলে যাচ্ছি। তোমাকে আমি ঘৃণা করি। এরপর আর আমার কাছে আসবে না
-তুমি আমাকে ভালোবাসো। আমি আসব তোমার কাছে
*হা হা হা আমি ছলনাময়ী।
-এই যে হাসছ। শুধু শুধু মিথ্যা বললে
*আমি মিথ্যা
-তোমার হাত টা একটু দাও
*কেন?
-আমার চোখের জল জমা দেব
*তুমি একটুও বদলাও নি
-সত্যি বলছ??
*না অনেক বদলে গেছ। মোটা ফ্রেমের চশমা কবে থেকে পরছ?
-তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে। সাদা শাড়ি কবে থেকে পরছ? এটাতে তোমাকে একদম মানায় নি।
*তুমি যেদিন থেকে চশমা পরছ
-একটা মিষ্টি গন্ধ আসছে তোমার শরীর থেকে। তোমাকে একটু ছুয়ে দেখতে চাই
*আমি অদৃশ্য, আমি তোমার কল্পনা, আমি অভিশপ্ত। তুমি চলে যাও
রূপা অদৃশ্য, রূপা রাতুলের কল্পনা, কিন্তু রূপা অভিশপ্ত নয়। অভিশপ্ত ওইসব হায়েনা যারা রূপা কে ধর্ষণ করেছে। রাতুলের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে চিরদিনের জন্য। ছি ছি! রাতুল এসব কি ভাবছে! রূপা ধর্ষিতা হতে যাবে কেন? সমাজ রূপা দের ধর্ষিতা সিল মেরে দিলেই কি তারা ধর্ষিতা হয়ে যাবে?? রাতুল ধিক জানায় সমাজের এইসব নরপিচাশ দের যারা রূপা কে ধর্ষিতা অপবাদ দেয়, যারা রাতুলদের ভালবাসা কেড়ে নেয়। ধিক তাদের যারা রূপা কে পৃথিবীতে বেচে থাকতে দেয় না।
ক্রোধে চোখ লাল হয়ে যায় রাতুলের, মোটা ফ্রেমের চশমার ফাক দিয়ে দু ফোঁটা ক্রোধ বেয়ে পড়ছে। সেটা রাতুলের হাতে জমা হয়। রাতুলের হাত অদৃশ্য নয়।
আমাগাছ টার এখানে একটা মোটা ডাল ছিল, যেটাতে ফাঁসি নিয়েছিল.........ভাবনা গুলো বড় নিষ্ঠুর। ডাল টা আর নেই। গত বছর ঝড়ে ভেঙ্গে গেছে। হয়ত রূপার কষ্টের ভারে ভেঙ্গে গেছে। আমগাছ টার পাশে একটা বট গাছ। ঝড়ে বট গাছের ডাল ভাঙ্গেনি। বটগাছের ডাল সহজে ভাঙ্গে না। হায়েনারা আজও আড্ডা দেয় বট গাছটার নিচে। আমগাছ টা কাঁদছে। সেটা রাতুল ছাড়া কেউ বুঝছে না......

শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০১৩

দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা (ছোটগল্প)

-তোমার তো এখানে বসে থাকার কথা ছিলনা। তবে এখানে কেন বসে আছ?
রাতুল কে শাসানোর মত করে কথা গুলো বলতে থাকে নীলা। পাক্কা ১৫ মিনিট ধরে পুরো পার্ক তন্ন তন্ন করে রাতুল কে খুজেছে নীলা। দুজনের দেখা করার কথা ছিল পার্কের অন্য কোনায় যেখানে অনেক গুলো ফুল গাছ আছে। লাল রঙের ফুল নীলার খুব পছন্দ। রাতুল নীলা কে সবসময় লাল রঙের ফুল দিয়েই প্রপোজ করে। পার্কে আসলে যখনই নীলার অভিমান হয় তখনই গাছ থেকে একটা লাল ফুল এনে নীলা কে দেয়। আজ সে ধরনের কোনো সুযোগ নেই। নীলার দিকে না তাকিয়েই রাতুল জবাব দিতে থাকে।
এখানে অনেক ঘাস আছে তাই বসে আছি।
-তুমি কি ছাগল যে ঘাস দেখে বসতে হবে?
আমি ঘাস দেখে বসিনি, ঘাসের উপর বসে আছি। চাইলে তুমিও বসতে পার।
-আমি তোমার মত ছাগল না।
আমি জানি তুমি ছাগল না। ছাগলের স্ত্রী লিঙ্গ ছাগী।

-কি আমাকে তুমি ছাগী বললে!!!!????
এখনো বলিনি। তবে ছাগলের বউ ছাগীই হয়।
-আমি তোমার বউ না।
আমি তো বলিনি তুমি আমার বউ।
-এত কথা প্যাঁচাও কেন? তুমি একটা রামছাগল।
রামছাগলের তুর্কি দাড়ি থাকে। আমি একদম ক্লিন শেভ।
-ওহ অসহ্য! কেন যে তোমার মত ইডিয়ট এর সাথে প্রেম করি?
আমরা প্রেম করছি না। আমরা ঝগড়া করছি।
-তোমার মত #রামছাগলের সাথে আমার ঝগড়া করতে বয়েই গেছে?
আমি একটু আগেই শেভ করে এসেছি। আমার দাড়ি উঠলে চাপ দাড়ি ওঠে তা তুমি জানো
-শেভ করেছ কেন? আমার চাপ দাড়িই ভাললাগে।
তোমার মুখে কখনো দাড়ি দেখিনি। আগে তো জানতাম না তোমার দাড়ি হয়!!
-আমাকে কটা টাকা ধার দাও তো
কি করবে?
-প্রথমে একটা পিস্তল আর গুলি কিনব। তারপর তোমাকে গুলি করে মারব। গরু কোথাকার। আমি কি আমার দাড়ির কথা বলেছি? >_<
আমার কাছে সিগারেট কেনার টাকা থাকে। পিস্তল কেনার নয়
-কি তুমি সিগারেট খেয়েছ!!?? >_<
সিগারেট খেলে ক্যান্সার হয়ে মরার সম্ভাবনা আছে। তোমাকে আর কষ্ট করে মারতে হবেনা।
-একদম অলক্ষুনে কথা বলবে না। গরু ছাগল ভেড়া কোথাকার, বসে বসে ঘাস খাও
প্রিয়তমার মুখ থেকে গরু ছাগল ভেড়া ডাক শুনতে খারাপ লাগে না। বরং ভালই লাগে। অন্যান্য প্রেমিকের মত রাতুলও তার ব্যাতিক্রম নয়। সব প্রেমিক অবশ্য সিগারেট খায় না। নীলা যেইসব বিষয়ে রেগে যায় রাতুল সেইগুলোই বেশি করে। এভাবে রাগানোর ভিতর একটা ভালবাসা থাকে। নীলা কে এভাবে রাগানোর অধিকার শুধু রাতুলেরই আছে।
আমি ঘাস খাচ্ছিনা। আমি বাদাম খাচ্ছি।
-কই এতক্ষন তো খেয়াল করিনি! বাদাম কেন খাচ্ছ?
নীলার খেয়াল করার কথা না। কারন ও এখনো রাতুলের সামনে যায়নি। পেছন থেকেই কথা চালিয়ে যাচ্ছিল। তাই ঘাস খাওয়া আর বাদাম খাওয়ার পার্থক্য ধরতে পারেনি।
বাদাম খেলে ত্বক ভাল হয়।
-হঠাত ত্বক ভাল করার নেশা চাপল কেন?
আরেকটা প্রেম করব তাই
-তুমি আমাকে ছেড়ে আরেকটা ডাইনির সাথে প্রেম করবে!!??
ভালবাসার ভাগ কেও দিতে চায়না। নীলাও তার ব্যাতিক্রম নয়। রাতুল অন্য মেয়ের দিকে তাকালেই সেই মেয়ে নীলার কাছে ডাইনি।
তুমি যে ডাইনি তাতো জানতাম না।
-আমি ডাইনি না, তুমি যার সাথে প্রেম করবে তাকে ডাইনি বলেছি।
নীলার প্রিয় রং নীল নয়, কালো। রাগে নীলার মুখের রং কালো হয়ে গেছে। নীল হওয়ার কথাও নয়। কারন নীল বিষাদের রং। নীলার মনে বিষাদ নেই। সেখানে শুধুই আছে রাতুলের ভালবাসা।
ও ডাইনি না। ওর নাম নীলা
-থাকো পড়ে তোমার নীলা ফিলা কে নিয়ে। আমার সাথে কথা বলতে আসবে না।
রেগে গেলে নীলা নিজের নাম ভুলে যায়। রাতুল নীলা কে অযথা রাগাতে ভালবাসে এটা নীলাও জানে। "ভালবাসায় মান অভিমান না হলে ঠিক জমে না" এটা কোনো মনিষী বলেছেন কিনা নীলা বা রাতুল কারোরই জানা নেই। হয়ত জগতের কোনো প্রেমিক প্রেমিকারই জানা নেই। তবু সবাই মান অভিমানের খেলায় মেতে ওঠে। রাগারাগি মান অভিমান ভালবাসার মাঝে অলিখিত চুক্তি।
আমার পাশে একটু বসবে? জায়গাটা পরিষ্কার আছে।
-না বসবো না। তুমি একটা ফাযিল। আমার মন নিয়ে খেলা করবে। আমার মন নরম। তাই যখন তখন তোমার খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে হবে।
একটু বসো। আমি তোমার মন নিয়ে খেলব না। তোমার চুলগুলির সাথে দুষ্টুমি করবো। তোমার চুলের মিষ্টি ঘ্রানে মাতাল হয়ে যাব
-এহ শখ কত! আমি মাতাল ছেলেকে পছন্দ করিনা।
কথাটা বলতে বলতেই নীলা রাতুলের পাশে বসল। যখন ভালবাসাটা অনুভব করা যায় তখন প্রেমিক প্রেমিকা দুজনেই মাতাল হয়ে যায়। আবল তাবল কথা বলতে ভাল লাগে। নীলাও এখন মাতাল রাতুলের ভালবাসায়। আচ্ছা মাতালের স্ত্রী লিঙ্গ কি? না থাক। সব ক্ষেত্রে ব্যাকরন টানলে চলে না। ভালবাসার কোনো ব্যাকরন হয় না।
ফুচকা খাবে? ফুচকা খেলে মাতাল হওয়ার চান্স নেই
-না। যা খাচ্ছিলে তাই খাব
বাদামের খোসাগুলো নীলার দিকে এগিয়ে দিল রাতুল। দু চারটা বাদামের খোসা মুখে চালান করে দিল নীলা। আস্ত একটা মাতাল মেয়ে। বাদামের খোসাও চেনে না। সেগুলো দিব্যি চাবিয়ে যাচ্ছে।
একটু দেরিতে চিনলেও রাতুল কে তাড়া দিতে দেরি করলো না নীলা।
পার্কে একটা ছেলে দৌড়াচ্ছে, একটা মেয়ের তাড়া খেয়ে। তারা হাপিয়ে গেলে ফুচকা ওয়ালার সামনে থামবে। ফুচকার খোসাগুলো বাদামের খোসার মত নয়। ওটা খাওয়া যায়। ভালবাসায় বিভোর জোড়া গুলো এভাবেই যুগে যুগে মাতলামির সংজ্ঞা বদলে দেবে।

বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৩

একটাকার কাহিনী (ছোটগল্প)

“আপনি তো আচ্ছা বেহায়া মানুষ। কুষ্টিয়া থেকে দৌলতদিয়ার ভাড়া একটাকা দিচ্ছেন!? আপনি কি পাগল টাগল হয়ে গেলেন? যা ভাড়া তাই দিন।“এভাবেই বাসের হেল্পার সাহেব এক ব্যক্তির সাথে কথা কাটাকাটি করছিলেন। বাসের বাকি যাত্রীরা দৃশ্য টা ভালই উপভোগ করছিলেন। কেও হয়তো ভাবছিলেন লোকটা হয়তো টাকায় আট মন চাল কিনেই গাড়ীতে উঠেছেন।লোকটা অবশ্য চাল খাচ্ছিলেন না। জনসম্মুক্ষে চাল খাওয়া যায় না। তিনি বাদাম খাচ্ছিলেন। এক টাকায় বাদাম দেয়না।“এক টাকা দিচ্ছি, না নিলে আমাকে নামিয়ে দিন। আমি এক টাকার বেশি দিতে পারব না।“এবার হেল্পার সাহেব মনে হয় একটু বেশিই রেগে গেলেন। ভাড়া কমাতে কমাতে তিনি অর্ধেকে নামিয়ে এনেছেন। তবুও লোকটাকে এক টাকার উপরে উঠাতে পারলেন না।
শেষবার উচু গলায় লোকটাকে ধমকাতে লাগলেন।“আপনি বাদাম খাচ্ছেন আর ভাড়া দিচ্ছেন এক টাকা? লজ্জা করছে না বাদাম খেতে?”হেল্পার এখানে ভুল বললেন। বাদাম খেতে লজ্জা লাগেনা। বাদাম খেতে হাত লাগে, মুখ লাগে, পেট লাগে।লোকটার এ সব কিছুই আছে। হাত দিয়ে বাদামগুলো মুখে চালান করতে করতে বললেন “আপনি খাবেন? লজ্জার কিছু নেই”“তোর বাদাম খাওয়া দেখাচ্ছি, দে ভাড়া দে”লোকটা ভুল বসত নষ্ট বাদাম মুখে দিয়ে ফেলেছে। থু থু করতে করতে বলল “একটাকা তো দিচ্ছিই। না নিলে নামিয়ে দিন”“ ওস্তাদ গাড়ি থামান। এই বজ্জাত টারে নামায়া দেই।-আর জীবনে যদি তোরে দেখছি আমার গাড়ীতে উঠতে” গাড়িটা কিন্তু হেল্পার এর না। হেল্পার বেটা একটু বেশিই ভুল বলে।রাজবাড়ীর কিছু আগেই লোকটাকে নামিয়ে দেয়া হল।..........................................................................................তখনও বাদাম চাবিয়ে যাচ্ছেন। আরেকটা বাস দেখে হাত মেরে থামালেন। এই বাসের হেল্পার এর জানার কথা নয় তিনি তাকেও এক টাকা দিবেনইনি নামিয়ে দিলেও পরের বাসে উঠতে সমস্যা হবে না।বাদাম শেষ। এবার নামিয়ে দিলে কিনতে হবে। বাদাম নাপেলেও অন্যকিছু কিনতে হবে।গন্তব্য ঢাকা, সাথে আছে এক টাকা............ থুক্কু ভাড়া এক টাকা.............................

রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

অন্তু (ছোটগল্প)

“এই অন্তু মন খারাপ করে বসে আছিস কেন? পরীক্ষা ভাল হয়নি?”
শারমিন অন্তুর গা ঝাকি দিয়ে কথাটা বলল। অন্তু আর শারমিন ক্লাস ফোর এ পড়ে। ওরা একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ডও বটে।
“বাবার জন্য খারাপ লাগছে রে”
অন্তুর বাবার শরীর টা ভাল নেই। অন্তুর দিকে তাকালেই অন্তুর বাবার চোখ টা ভিজে আসছে। ছেলেকে খুব ভালবাসেন তিনি। অন্তুর কাছে অন্তুর বাবাই পৃথিবীর সেরা মানুষ। অন্তু জানেনা ওর বাবার কি হয়েছে। কিন্তু তবুও বুকের মাঝে একটা শূন্যতা অনুভব করছে।
“দেখিস তুই এবার ফার্স্ট হবি, আর আমাকে আম্মুর বকুনি শুনতে হবে”
শারমিন এর আম্মু অন্তু কে খুব ভালোবাসে। অন্তুর জন্য বাড়তি করে টিফিন পাঠিয়ে দেয় শারমিন এর কাছে। তবে নিজের সন্তান ভাল করুক সেটা সব মা-ই চায়।
আর একটা পরীক্ষা বাকি আছে অন্তুর। অন্তুর মা কাঁদছে।
“বাবার জন্য কেদনা। দেখ বাবা ঠিকই ভাল হয়ে যাবে।”

অন্তুর মা পরম মমতায় অন্তু কে কাছে টেনে নিল। অন্তুর মা শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অন্তু কেমন যেন একটা ধাক্কা খেল। কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারলনা।
পরীক্ষাটা আজ খারাপ হবে। কিছুই লিখতে পারছেনা অন্তু। শারমিন বুঝতে পারছে বিষয়টা। শারমিন নিজের খাতা অন্তু কে দেখার সুযোগ করে দিল। তবুও মন মত পরীক্ষা হয়নি অন্তুর। পরীক্ষা শেষ করেই অন্তু এনাম মেডিকেল কলেজ এর দিকে যাচ্ছিল। শারমিন জিজ্ঞেস করল বাসায় না যেয়ে কোথায় যাচ্ছিস? “হাসপাতালে” ছোট্ট জবাব অন্তুর। অন্তু কে একা যেতে দিলনা শারমিন। নিজেও গেল অন্তুর সাথে।
শারমিন এর চোখে জল। অন্তুর দিকে তাকিয়ে দেখল ওর চোখে জল নেই। শুধু বাবার নিথর দেহের দিকে পাথর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন রোবট হয়ে গেছে চঞ্চল ছেলেটা। অন্তু হয়ত বুঝতে পারছেনা ওর প্রিয় মানুষ কে হারিয়ে ফেলেছে, চিরদিনের জন্য। অন্তুর ২ বছর বয়সী বোনটি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারেনি।
আজ রেজাল্ট দিয়েছে। শারমিন ফার্স্ট হয়েছে। অন্তুর মন খারাপ। তবে সেকেন্ড হওয়ার জন্য নয়। শারমিন হয়ত সেটা বুঝতে পেরেছে। তাই ওর মনটাও ভাল নেই।
প্রায় ৮ বছর কেটে গেছে। অন্তু নামটা কেন দিলাম জানা নেই।

 
Tricks and Tips