অগ্নি (মুভি রিভিউ)

যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, তাই শঙ্কা ছিল সিনেমা হলে অধিকাংশই জোড়ায় জোড়ায় থাকবে । তাই বন্ধুকে বোরকা পরিয়ে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বন্ধুকে এই..

এরশাদোলজি (রম্য)

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।

ফেসবুকে প্র্তারনার হাত থেকে সতর্কতা

আপনার অনেক পরিচিত কারো ফেইক আইডি খুলে আপনাকে হয়ত ফাদে ফেলানো হবে, আপনার গার্লফ্রেন্ড, আপনার বন্ধু সেজে আপনাকে ফাদে ফেলানো হবে। আর লুল বালক হলে তো কথায়ই নেই, মিষ্টি কথাতেই আপনার ঘুম হারাম করে দেবে।

ইশি (ছোটগল্প)

বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে।

আজব প্রশ্নের গজব উত্তর

প্রশ্নঃ দেশে জনসংখ্যা কমানোর জন্য কি কি করা যায়? উত্তরঃ বিবাহ করা থেকে নারী পুরুষ কে বিরত থাকার জন্য উদবুদ্ধ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা যায়। বিছানা এক হলেই মহামারী দেখা দেবে এমন আতঙ্ক ছড়ানো যায়

সিনেমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সিনেমা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৫

আশিকি (মুভি রিভিউ)



বেশ কিছুদিন বিরতির পর আবারও সিদ্ধান্ত নিলাম হলে গিয়ে সিনেমা দেখবো। একা একা যেতে ইচ্ছা করছিল না তাই আঁখিকেও রাজী করিয়ে ফেললাম। তো আমরা দুজন যৌথভাবে দেখতে গেলাম যৌথ প্রযোজনার ছবি আশিকি।

যৌথ  প্রযোজনার এদেশী কলাকুশলী বলতে নুসরাত ফারিয়া, মৌসুমী এবং রেবেকা রউফ। আর বাকি সব ভারতীয় প্রতিনিধিদের মাঝে অঙ্কুশ, রজতাভ দত্ত, অরিন্দম দত্ত, সৌরভ দাস ছিলেন। ও হ্যা কয়েকটা সাদা ও কালো চামড়ার মানুষও ছিলেন যাদের নাম আমাদের বলা হয়নি :-/

 শুরুতে দেখা গেল রাহুলের (অঙ্কুশ) এক বন্ধু সাঙ্গপাঙ্গো নিয়ে রাহুল কে আক্রমন করতে গেল। কিন্তু রাহুলের ইমোশনাল ডায়লগে সাঙ্গপাঙ্গো সহ রাহুলের বন্ধুও গেল গলে। তারা এতই ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিল যে আমাদের চোখ দিয়েও দু'ফোটা জল বেরিয়ে যায় যায় অবস্থা। আরে ব্যাটা ডায়লগের সাথে এক্সপ্রেশনের তো মিল রাখবি?
জোর করে মানুষ হাসানোর চেষ্টা করলে তো সিনেমাই "হাঁস" মারবে আফ্রিদির মত।

নায়ক দর্শন যেহেতু হলো তাই ফরমেট অনুযায়ী এবার নায়িকা দেখার পালা। মেয়েদের কত না "বিচিত্র" জায়গায় ট্যাটু করতে দেখি, কিন্তু আমাদের নায়িকা ট্যাটু করেছেন পায়ে। যাক এটা কোনো ব্যপার না। যেহেতু নায়কের দৃষ্টিতে নায়িকার পা কে হাইলাইট করা হয়েছে তাই লাভ এট ফার্স্ট সাইটের মতো একে "লাভ এট লেগসাইট" বলে সংজ্ঞায়িত করা যায়।

এবার নায়িকার টার্ন। একটা ডাবল ডেকার বাসের দোতলা থেকে এক বাচ্চা পুতুল নিয়ে  খেলতে খেলতে
সেটা তার হাত থেকে পড়ে যায়। নায়ক সেই পুতুল নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে চলন্ত বাসের বাচ্চার হাতে পৌছে দেয়। পুরো ব্যপারটি নায়িকা নায়কের পেছন দিক থেকে অবলোকন করে। এবং এতেই সে ফিদা হয়ে যায় এবং বিয়ের ক্ষিধা পেয়ে যায়। সে তখনই দেশে ফোন করে জানিয়ে দেয় এই ছেলেকেই বিয়ে করবে। হাউ সুইট! এ তো "লাভ এট ব্যাকসাইট"। সব ছেলের "ব্যাক সাইড" দেখে যদি মেয়েরা প্রেমে পড়তো তাহলে দুনিয়াটা কতই না সুন্দর হত।

পরিচালক সাহেব এবার হিস্টরি রিপিটস উক্তির বারংবার ব্যবহার করে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের কাহিনীই কপি পেস্ট করা শুরু করলো। নায়িকাকে হাত ধরে ট্রেনে তোলা, নায়ক নায়িকার ট্রেনের একই কম্পার্টমেন্টে অবস্থান যখন মনে করিয়ে দিচ্ছিল কোথায় যেন দেখেছিলাম এ কাহিনী। নায়ক তখন নিজেই জানিয়ে দিলো "আরে মিয়া এত ভাবার কি আছে? এ তো দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের কাহিনী। হিস্টরি রিপিটস"। আমাদের দেশের ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে বড়জোর সিগারেটের পশ্চাদ্দেশ, কলার বস্ত্র ইত্যাদি থাকে। কিন্তু লন্ডনের ট্রেনের ফাকা কম্পার্টমেন্টে মেয়েদের "অন্তর্বাসও" পাওয়া যায়।

অন্তর্বাস আসলো কই থিকা সেই চিন্তা বাদ দিয়ে আবার সিনেমায় মনোযোগ দিলাম। তখন নায়িকার এক স্বল্পবসনা ফ্রেন্ড তাদের কম্পার্টমেন্টে ঢুকে পড়লো। কিন্তু নায়ক কে দেখেই এমন মুচড়ামুচড়ি শুরু করলো যে আমি ভাবলাম তার স্বল্পবসনের ভিতর কেউ মে বি তেলাপোকা অথবা "মোরগ( :-P ) " ঢুকিয়ে দিয়েছে।

পুরো সিনেমায় শুধু কো ইন্সিডেন্সের ছড়াছড়ি। যেভাবেই হোক যেকোনো সিচুয়েশনেই নায়ক নায়িকার দেখা হয়ে যাচ্ছে। ওয়েলস থেকে ফেরার পথে আবার নায়ক নায়িকার পাশাপাশিই সিট পড়লো। নুসরাত ফারিয়া ক্ষুধার্থ হয়ে যখন বললো "আই অ্যাম হাংরি" তখন সেটা আমরা ভুল করে অন্যকিছুও শুনে ফেলতে পারি। তাই ফারিয়া যেন পরবর্তীতে বাক্যটি বলার সময় একটু স্পষ্টতা অবলম্বন করে। নায়িকা ক্ষুধার ঠেলায় ট্রেন থেকে নেমে খাবার খুজতে গিয়ে ট্রেনই মিস করে ফেলল। আর তখন লেডি এন্ড জেন্টস  গুন্ডা মিলে নায়িকাকে আক্রমন করলো। নায়িকার উপর আক্রমন হলে নায়ক সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে এসে নায়িকাকে বাচাবে। আমাদের নায়কও চলন্ত ট্রেন থেকে এসে নায়িকাকে বাচিয়েছেন। রাত  টা তারা একটা বাড়িতেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলো। এখানেই এসে হিস্টরি ব্রেক করলো। নায়ক নায়িকা দুজনই ড্রিংক্স করে মাতাল হয়ে দুজন দুজন কে কিস করার জন্য উদ্যত হলো। এই কিসের দৃশ্যটাই সিনেমার বেস্ট সিন ছিল। এই মূহুর্তে পাশ থেকে আঁখি আমাকে বললো সব ডান। আঁখির সব ডান বলার উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম যখন নায়িকাকে চাদর পড়ে সোফায় বসে থাকতে দেখলাম। আমি এত টিউবলাইট ক্যান? :-P আমি বুঝিনা এই কাজ ডানের পর নায়িকারা কেন চাদর জড়িয়ে বসে থাকে? :-P

যাক অবশেষে তাহাদের প্রেম হইলো। যেহেতু প্রেম হইলো সেহেতু ঘাপলা তো একটা থাকবেই। ঘাপলা টা হলো নায়িকার ভাই এককালে নায়কের বোন মৌসুমীকে উত্ত্যক্ত করতো। একারনে তিনি নায়কের হাতে প্যাদানিও খেয়েছেন। যেহেতু নায়কের ভাইয়ের হাতে উনি প্যাদানি খেয়েছেন তাই তিনি এ প্রেম মেনে নেবেন না স্বাভাবিক। নায়ক একারনে তার পাঞ্জাবী ফ্রেন্ড কে পাঠায় নায়িকার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করতে। সবই ঠিক ছিল কিন্তু নায়িকার ভাইয়ের এসিস্ট্যান্স কে দেখে আমার মনে হলো উনি পাইলসের রোগী। পরিচালক জোর করে মানুষ হাসানোর জন্য এই পাইলসের রোগীর ব্যবহার করেছেন, যে কিনা ফাইল হাতে দাঁত কেলিয়ে অধিকাংশ সময় অর্ধ হামাগুড়ি টাইপ অবস্থায় থাকেন।

এ সিনেমার এক পর্যায়ে নায়িকার ভাই গাড়ি নিয়ে নায়ক কে তাড়া করে। নায়কের গাড়িতে তখন নায়িকা মওজুদ। তিনি রিয়েল কার চেজিং এর মজা নিচ্ছিলেন। কিন্তু দুইটা গাড়িরই তেল এক পর্যায়ে ফুরিয়ে যায়। এসময় দুইটা গাড়ির দুরত্ব বড়জোর ১০০ মিটার ছিল। কিন্তু নায়িকার ভাই গাড়ি থেকে বেরিয়ে নায়কের গাড়ির উদ্দেশ্যে সেই যে দৌড় শুরু করলেন আর থামাথামি নাই। ১০০ মিটার দৌড়াইতে ৩-৪মিনিট লাগে নাকি?? মনে হয় তিনি একটু করে দৌড়িয়ে হাপিয়ে গিয়ে আবার নিজের গাড়ির কাছে ফিরে গিয়ে রেস্ট নিয়ে আবার দৌড় শুরু করছিলেন। এই ফাকে নায়ক গাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়িতে তেল ভরে আবার গাড়িতে গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলেন। আরেক দৃশ্যে দেখা গেল নায়ক মুখে আঘাত পেয়ে নায়িকার বাড়িতে হাজির। তিনি দুই হাত দিয়ে নায়িকার ভাইয়ের গলা জড়িয়ে ধরে হসপিটালে গেলেন। কিন্তু ডাক্তার সাব তার মুখ বাদ দিয়ে হাতেই ব্যান্ডেজ করে দিলেন। মানে লন্ডনের ডাক্তাররা অনেক আগে থেকেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়ে ডাক্তার হন। হুদাই আমরা ১৫ ব্যাচ আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীরে পঁচাই।

আরেকটা দৃশ্যে নায়িকার ভাই বিলাতী ভিলেনের হাতে মার খেয়ে পড়ে থাকে। নায়ক যায় তার শালাবাবুকে বাচাতে। কিন্তু এড্রেস তো জানেনা। তাই ফোন নাম্বার ট্র্যাক করে সে নির্দিষ্ট এলাকায় পৌছায়, কিন্তু নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছাতে পারেনা। কিন্তু রাস্তায় ৪বিলাতী গেরুয়া পোশাক পরে ঢোল ডুগি নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় হরে কৃষ্ণ জপতে ছিল। ব্যপারটা যদি ভারতীয়দের দিয়েও করা হত তবুও মানানসই ছিল। এদিকে ভিলেন কয় "রাহুল এখনো আসেনা ক্যান?" আরে ব্যাটা তুই কি টেলিপ্যাথির মাধ্যমে নায়ক রে আইতে কইছস? যাই হোক নায়ক হর্ন টিপে ভিলেনের আস্তানায় পৌছালো (হর্ন টিপে কেমনে পৌছাইলো ব্যপার টা আমার মাথার উপর দিয়া গেল)।

সিনেমাটায় যত জায়গায় গাড়ি কিংবা ট্রেনের ভিতর থেকে বাইরের দৃশ্য ধারন করা হয়েছে ততবারই স্পষ্ট বোঝা গেছে সেই মান্ধাতার আমলের প্রজেক্টর আর পর্দার সিস্টেম এপ্লাই করা হয়েছে। এই ডিরেক্টর এত ফাকিবাজ ক্যান? একেতো শুরুর দিকে হিস্টরি রিপিটস বলে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের কপি পেস্ট করা শুরু করেছিল, আবার গাড়ির দৃশ্যগুলাও প্রজেক্টর দিয়ে সারছে। ফাকিবাজি আসলে গোড়াতেই। সিনেমাটা তেলেগু "ইশক" সিনেমার নকল। এই ইশক সিনেমার অনুকরনে ২০১৪ সালে ঢালিউডে লাভ স্টেশন নামে একটা সিনেমা হয়েছিল। মানে কপির উপ্রে কপি। প্রশ্ন ফাঁসের এই যুগে এসব কপি পেস্ট জায়েজ আছে। বিভিন্ন পন্যের গায়ে লেখা থাকে "নকল হইতে সাবধান"। কিন্তু বাংলা সিনেমা গুলোর যা অবস্থা তাই প্রচারনার সময় পোস্টার এবং ট্রেইলারে "আসল হইতে সাবধান" লেখাটা যুক্ত করা জরুরি।

সিনেমায় প্রেম হয়ে যাওয়ার পর নায়ক নায়িকার একে অপরকে "তুই" সম্বোধন করে কথা বলাটা সাবলীল হয়নি। আমার মনে হয় প্রেমের সম্পর্কে "তুই তুকারির" ব্যপার টা ঠিক যায়না। যাওয়াতে হলে অনেক হার্ড ওয়ার্কের প্রয়োজন আছে।

আর সবচেয়ে বড় কথা হলো যেহেতু যৌথ প্রযোজনার সিনেমা এটা, তাই দর্শক খুজবে এতে নিজের দেশের প্রেক্ষাপট কতটুকু আছে? কলাকুশলী কতজন আছে? কিন্তু এ ব্যপারটাতে জাজ পুরোপুরি ব্যর্থ। সিনেমায় আমি বাংলাদেশকে খুজে পায়নি। যদিও যৌথ প্রযোজনায় এমন কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই যে উভয় দেশের প্রেক্ষাপট থাকতে হবে, কলাকুশলী থাকতে হবে। কিন্তু সিনেমা তো দর্শকদের জন্যই। এখন দর্শক যদি যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় নিজের দেশকে না পায় তবে সেটা যৌথ প্রতারনাই হবে। সিনেমায় তো বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাপটই নেই। কলাকুশলী বলতে মাত্র তিন টা নারী চরিত্র। মৌসুমীর মত গুনী অভিনেত্রীকে পর্দার সামনে খুব বেশি আনাই হয়নি।

এবার কিছু ভালো দিক বলা যাক। সিনেমার গান গুলো ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে ভালোই লেগেছে। কোরিওগ্রাফিও খারাপ না। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের ব্যবহৃত লোকেশন গুলো ভালো ছিল। আর সবচেয়ে ভালো ব্যপার হলো সিনেমাটা নকল। এতে করে আমি আমার পাশে বসে থাকা বন্ধুকে সিনেমার পরবর্তী সিন গুলো আগে আগে বলে দিয়ে অবাক করে দেয়ার অফুরন্ত সুযোগ আছে :-P

শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

সেদিন বৃষ্টি ছিল | ভৌতিক নয়, কৌতুক সিনেমা | মুভি রিভিউ

ইদানিং বাংলাদেশের কিছু কিছু  সিনেমার পোস্টারে "ডিজিটাল সিনেমা" "রেড ক্যামেরায় নির্মিত সিনেমা" "প্রথম অমুক সিনেমা" "ব্যয়বহুল সিনেমা" ইত্যাদী কথাবার্তা বিশেষ ভাবে লেখা থাকে। যখনই এসব লেখা চোখে পড়ে তখনই বুঝে নিতে হবে ঘাপলা আছে। হলে নতুন সিনেমা আসছে "সেদিন বৃষ্টি ছিল"। এটার পোস্টারে আবার বিশেষ ভাবে লেখা আছে "দেশের প্রথম ডিজিটাল ভূতের সিনেমা"। আমি ভাবছিলাম ডিজিটাল ভূত হয়তো কোনো প্রোডাকশন হাউজের নাম। পোস্টারের আরেকটা বিশেষত্ব হল বিশাল একটা কঙ্কাল টাইপ মাথা বসায়া ভৌতিক ব্যপার স্যপার ফুটায়া তোলা হইছে।

ভৌতিক ব্যপার স্যপার টা কেমন তা দেখতে চলে এলাম সিনেমা হলে। সিটে বসার পর পাশের জন বলল, "ভাই পোস্টারের ভূত দেইখাই সিনেমা দেখতে চইলা আইছি"। তারে কইলাম, "ভূত তো যে সে দেখতে পারে না, আপনার চোখে নাও পড়তে পারে" ওমনি "ক্য্য্য্য্য্য্যা" করে একটা সাউন্ড হওয়ায় পাশের জন নেচে উঠলো। আহ সাউন্ডেই বুঝা গেল আইজ সেই লেভেলের ভৌতিক সিনেমা উপভোগ করতে যাইতেছি। সিনেমার দুই তিন মিনিটের মাথায় শুরু হইলো মাইর পিট। বহুদিন পর বাংলা সিনেমার মাইর পিটে ঢোল তবলার বাড়ি শুনলাম। সিনেমা ডিজিটাল হইলেও অতীত ভুলেনাই।

সিনেমার প্রযোজক, গল্পকার এবং নায়িকা হওয়ার সুবাদে রত্নার কিঞ্চিৎ মেদ যুক্ত শরীর দেখে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারন দর্শক জানে তারা ভূতের সিনেমা দেখতে এসেছে ;-) । ভূতের সিনেমায় মুখ নড়বে সাউন্ড হবেনা আবার সাউন্ড হবে মুখ নড়বে না এই বিষয়টাকে স্বাভাবিক ধরে ডাবিং এর ত্রুটিটাকে হজম করে নিলাম। নায়িকা একজন ছাগল প্রেমী। নায়কের সাথে পরিচয়ও এই ছাগল কেন্দ্রীক। নায়কের কোটি টাকার গাড়ির মাঝেই নায়িকার ছাগল দুইটা নাদুস নুদুস ছাগলের বাচ্চা প্রসব করলো কোনো রকম ম্যা ম্যা ডাক ছাড়াই।

নায়িকার সাথে নায়কের বিয়ে হওয়ার পর তারা তাদের পুরাতন জমিদার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সিনেমার অনেক খানি হয়ে গেছে, আমাদের চোখও ভূত দেখার জন্য নিশপিশ করছিল। যাক এবার বুঝি সুযোগ পাওয়া গেল। জমিদার বাড়িতে আইসা কাউয়া দেখলাম বিলাই দেখলাম কিন্তু ভূতের দেখা এখনো পাইলাম না। হঠাত হঠাত  জমিদার বাড়ির একটা স্টিল ছবি দিয়া আর জোরে "ক্য্য্য্য্যা" কইরা একটা সাউন্ড দিয়া পরিচালক মনে করাইয়া দিতেছিল "ভয় নাই এইটা ভূতের ছবি"। এইভাবেই শেষ হল ভূত বিহীন ভৌতিক প্রথম পর্ব।

বিরতির পর সাদা শার্ট আর পায়জামা পরা নরম চেহারার এক সুদর্শন যুবক এসে ধরলো দু:খের গান, শিল্পী মনির খান। সাদা পোশাক দেখে ধরে নিলাম এইটাই মেবি ভূত। নায়িকা একবার ছাদে কাপড় চোপড় তুলতে গিয়ে এই নিরীহ চেহারার ভূত টাকে দেখে ভয়ে চিল্লায়ে কান ঝালাপালা করে ফেলল। এত জোরে চিল্লানি দিছে যে ভূত ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আর পরিচালক তো মাঝে মাঝেই জমিদার বাড়ির স্টিল ছবি আর ক্যা কু চিৎকুর থেরাপী দিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছিল এটা ভৌতিক ছবি।

নায়িকার উপর যেহেতু ভূতের আছড় হয়েছে তাই ওঝার ব্যবস্থা করা হল। ওঝা আসার আগেই নায়িকার মাঝে ভূত ভর করে নায়কের গলা টিপে উচু করে ধরলো। গলা টিপে উচু করে ধরা যেন তেন নায়ক পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকলো। যেই কেবল দিয়ে নায়ক কে ঝোলানো হয়েছিল সেটা মুছতে গিয়ে নায়কের শার্টের কলারও খেয়ে ফেলছে এডিটর সাহেব।  ওঝা এসে অবশেষে ভূত কে শান্ত করলো। কিন্তু এই ব্যাটা খালি "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জোলেমিন" এই এক দোয়া পড়ে "পুফ" শব্দ করে ফুঁ দিয়ে তার ওঝাগিরির কারিশমা দেখাতে লাগলেন। নায়িকা রত্না কোথায় গেল তা জানা যায়নি তবে ওঝার কারিশমায় বিছানায় ভূত কে শুয়ে থাকতে দেখা গেল।

সুদর্শন ভূত এবার ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়ে তার ভূত হওয়ার কাহিনী বর্ণনা করতে লাগলো। মানতেই হবে ভূতের ব্রেইন যথেষ্ঠ শার্প। এই ভূত হল সিনেমার আরেক নায়ক যার নাম বিশাল। ফ্ল্যাশব্যাকের কাহিনীতে দেখা গেল বিশাল কলেজের পরীক্ষা পেছানোর জন্য পিঠে ছুরি খেয়ে পরীক্ষার হলে পড়ে আছে। আর বিশালের বন্ধুরা পুলিশ সেজে এসে প্রিন্সিপালকে ভয় দেখাচ্ছে। এই পুলিশ গুলার কারো প্যান্টের চেইন খোলা, কারো মুখে এক খাবলা আলগা দাড়ি, কারো দৈত্যের শিং এর মতো নাকের দুই পাশ দিয়ে গোঁফ, কেউ আবার এক পায়ে স্যান্ডেল এক পায়ে জুতা, কেউ আবার পাঞ্জাবীর উপর পুলিশের পোশাক পরে চলে এসেছে। সম্ভবত স্কুলের কোনো নাটকে পারফর্ম করতে যাচ্ছিল তাদের ধরে আনা হয়েছে।

বিশাল ভূত হয় এই জমিদার বাড়িতে পিকনিক করতে এসেই। বৃষ্টিভেজা রাতে জমিদার বাড়ির ছাদে বিশাল নায়িকাকে ভালো বাসার কথা বলবে। অতি উত্তেজনায় সে আই লাভ ইউ বলতে গিয়ে পিছলা খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে গেল। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেখেও দর্শক হো হো করে হেসে দিলো। এই কারনেই ভূতের রাগ বেশি। এদিকে বিশাল মরে ভূত হওয়ার পর গাড়ি এক্সিডেন্টে নায়িকার মেমোরির কিছু কিছু ফাইল ডিলেট হয়ে গেল যার ভিতর বিশাল ফাইলও ছিল। ভাগ্যিস পুরা ফর্মেট হয়নাই।

ফ্ল্যাশব্যাক থেকে বাস্তবে ফিরে আসার পর দেখা গেল নায়িকা ছাদে হাটাহাটি করছে। সেই সময় বৃষ্টি শুরু হল। বৃষ্টিতে ভিজেই নায়িকার অতীতের কথা বিশালের কথা মনে পড়ে গেল। আগে দেখতাম স্মৃতি হারায় বাড়ি খাইয়া আবার স্মৃতি ফিরেও বাড়ি খাইয়া, আর এখন দেখতেছি বৃষ্টির ফোটাতেই স্মৃতি ফিরে আসে। ভূত তাড়ানোর জন্য ওঝা একটা তাবিজ দিয়েছিল। কিন্তু নায়িকা স্বপ্নেই সেই তাবিজ খুলে ফেলল। আর যায় কই, তাবিজ নাই, ভূত কি এখন তোমারে ছাড়বো চান্দু? ভূত ছাড়েনাই, নায়িকারে উপরে তুলতেই আছে তুলতেই আছে। কাহিনী হইলো নায়িকারে শূন্যে ভাসালো ঠিক আছে, কিন্তু যেই কেবল দিয়া উঠাইলো সেই কেবল মুছতে গিয়ে পিঠে উপর থেকে বাকি অংশের বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা বানিয়ে ফেলল। আরে বাপ, শূন্যে ভাসানোর দৃশ্য যদি চিত্রায়নই না করতে পারিস তবে কি দরকার সেই দৃশ্য রাখার?

তবে শেষ দৃশ্যে ভাললাগছে ভূতের সাথে নায়কের মারামারি, এক বার ভূত নায়করে মাইরা কাইত কইরা ফালায় আরেকবার নায়ক ভূতরে মাইরা উল্টায়া ফালায়। ভূতের লগে কিল ঘুসি লাত্থি গুতা চলতেই থাকে। শেষমেশ নায়িকা ভূতের পা চেপে ধরে অনুরোধ করে নায়ক কে ছেড়ে দিতে। এই ভূত নামেই ভূত। সে বৃষ্টির পানিতে ভিজে, মানুষের সাথে মারামারি করে, চেহারাতেও ভৌতিকতা নেই, আবার মন টাও নরম। নায়িকার অনুরোধেই সে নায়ক কে ছেড়ে দিল। বিটিভিতে আগে শক্তিমান নামে একটা সিরিয়াল হইতো। ভূত সেই সিরিয়ালের শক্তিমানের মত ঘুরান্টি দিয়া শূন্যে ভেসে বিদায় নিল। এই সিনেমার একেকটা শূন্যে ভাসার দৃশ্য মাস্টার পিস। যেই শূন্যে ভাসে, তারই পিঠের উপরে পিরামিড, পিরামিডের উপরের রশি মোছার বৃথা চেষ্টা, আর যে ঝোলে তার পুরো শরিরের অবস্থা দেখে মোটেও এইটারে ভৌতিক ব্যপার মনে হয়না।

আসছিলাম ভৌতিক সিনেমা দেখতে, কিন্তু সিনেমার একেকটা দৃশ্য দেখে মনে হয় কৌতুক সিনেমা। পাশের জন একটা কঙ্কালের মাথা দেইখা চইলা আইছিল। আহারে বেচারা :-/
কঙ্কালের চুল টাও দেখতে পেল না। পুরা সিনেমায় ডাবিং এর যথেষ্ঠ সমস্যা ছিল। অভিনয় বিরক্তিকর। আড়াই ঘন্টার সিনেমায় ভূতের উপস্থিতি ১৫মিনিটের বেশি না,  কিন্তু তাকেও আমাদের ভূত বলে ধরে নিতে হবে, এমনিতে দেখে বোঝা যাবে না। ভৌতিক সিনেমা হলেও ভয়ঙ্কর কিছু নেই। আর ঝোলাঝুলির দৃশ্যগুলা ছিল হাস্যকর। আমার কাছে এইটারে ভৌতিক সিনেমা মনে হয়নাই, কৌতুক সিনেমা মনে হইছে।

শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪

মোস্ট ওয়েলকাম ২ | উড়াধুড়া "ট্যাকনোলজি" তে ভরপুর সিনেমা, শুধুই বিনোদন | মুভি রিভিউ

[স্পয়লার এলার্ট]

গতকাল জিপি তে ৪গিগাবাইট ডাটা ফ্রী পাওয়ার পর আমার শুধু একটাই অনূভুতি হয়েছিল "এ তো অসম্ভব!" আমার অনূভুতি কে সত্য প্রমান করার জন্য কিনা জানিনা ঠিক তখনই অনন্ত জলিলের মোস্ট ওয়েলকাম ২ এর পোস্টার সামনে পড়ে গেল। আসলেই তার সামনে পড়ে যাওয়ায় অসম্ভবই সম্ভব হয়ে গেছে। পোস্টারে দেখলাম গ্রামীন ফোন এই সিনেমার স্পন্সরও। তাই সিনেমাটা দেখার জন্য তর সইছিল না। সুমন আর সুদীপ্ত কে বলতেই তারা রাজী হয়ে গেল। তিনজন বেশ ভালো একটা জায়গায় গিয়ে বসে পড়লাম। যেহেতু অনন্তের সিনেমা তাই অভিনয় শিল্পীদের আলাদা করে পরিচয় করে দেয়ার প্রয়োজন নেই।

অনন্ত জলিলের সিনেমায় প্রতি মূহুর্তে চমক থাকবে না সেটা কি হয়! কিন্তু নাম দেখানো থেকেই যে চমক শুরু হবে সেটা বুঝিনাই। কোনো এক কালে একটা দোকানের উপরে দেখেছিলাম সেখানে লেখা আছে "ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার মো: আব্দুল খালেক এমবিবিএস এন্ড এল এল বি" নিচে ছোট করে চর্ম, যৌন, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি ইত্যাদী বিশেষজ্ঞও লেখা ছিল সম্ভবত। সিনেমার পরিচয় পাট্টা পর্বে সুপার ডুপার ব্লকবাস্টার এ্যাকশন হিরো অনন্ত এতবড় নাম আর সাথে স্ক্রিপ্ট রাইটার,  প্রযোজক,  পরিচালক অনন্ত দেখে আমার সেই ইঞ্জিনিয়ার এমবিবিএস ডাক্তারের কথা মনে পড়ে গেল। ভাই পারলে ক্যামেরা ম্যানের দায়িত্বটাও নিতেন। সেলফি স্টাইলে ক্যামেরা ধইরা শুটিং করতেন। পরিচয় পাট্টা পর্বে আরো ছিল গ্রামার না গ্ল্যামার গার্ল বর্ষা (টাইটেলের ফন্ট ভালো আছিল না আসলে)। অনন্ত বর্ষারে খুব জিগাইতে মুঞ্চায় এই "সুপার ডুপার এ্যাকশন হিরো" আর "গ্ল্যামার গার্ল" এই টাইটেল দুইটা তারা কই পাইছে মানে কারা দিছে? তারা নিজেরা নিজেরা লাগাইলে ঠিক আছে :3

পরিচয় পাট্টা নিয়ে মাথা ঘামাতে ঘামাতে দেখি আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন আরো কি কি চ্যানেল জানি চেঞ্জ হচ্ছে । কি মুশকিল! আইলাম সিনেমা দেখতে ক্যাডা জানি প্রজেক্টরে ডিশ টিভি লাগায়া দিছে। ভালো করে খেয়াল করে দেখি নিউজ রিডার দের মুখের সাথে সাউন্ড মেলেনা। ওইত্তেরী শুরুতেই চ্যানেল গুলার কাটপিস লাগায়া দিছে! দেখা যাচ্ছে নিউজ রীডার ভারতের নির্বাচনের নিউজ পাঠ করছে আর জলিল সাহেব ডাবিং এর সময় ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার সংক্রান্ত ভয়েস জুড়ে দিয়েছে। সারা বিশ্বের মিডিয়া এতো তোলপাড় কারন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী হাসান মইন ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু সেইটা সারা পৃথিবীতে ব্রেকিং নিউজ আকারে প্রকাশ হচ্ছে। সম্ভবত এটাই প্রথম ঘটনা কোনো কিছু আবিষ্কার হওয়ার পর সেটা ব্রেকিং নিউজ আকারে প্রকাশ হচ্ছে।

রোবট সিনেমায় দেখেছিলাম রজনীকান্ত রোবট বানাতে গিয়ে এক হাত লম্বা দাড়ি গজিয়ে ফেলেছেন। এখানে এসে দেখলাম হাসান মইন সাহেবের চুল সম্ভবত সার্ফ এক্সেল, টাইড, হুইল পাওয়ার হোয়াইট যত প্রকার পরিষ্কারক বস্তু আছে তা দিয়ে সাদার চেয়েও সাদা বানিয়ে দিয়েছে। পরে মনে হয় সাদা রংও লাগিয়ে দিয়েছে তা না হলে চুল দেখে আমার চোখ ঝলসাতো না। চুলের পর গোফের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম এ গোফ দ্বিস্তর বিশিষ্ট। দুই স্তরের রং দুইরকম। না জানি গবেষণা করতে গিয়ে আরো কয় স্তর হয়।

ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার নিয়ে হাসান মইন সাহেব সংবাদ সম্মেলন করছেন। সে সময় দেখা গেল সামনের সারিতে বসে থাকা একজনের বুকে বোতামের মতো ক্যামেরা লাগানো। কিন্তু সেই ক্যামেরা থেকে নীল লেজার রশ্মি বেরিয়ে এসে ক্যান্সারের প্রতিষেধকের প্রেজেন্টেশন টার ভিডিও করছে। এই লেজার ওয়ালা ভিডিও ক্যামেরা বানিয়েছে যে তাকে নিয়ে একটা সংবাদ সম্মেলন করা উচিত।

ভিলেন রা সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞানী কে আক্রমন করতে আসলো আর তখনই এ্যাকশন হিরো অনন্ত জলিল হাসপাতালের দোতলার কাচ ভেঙ্গে নিচ একটা গাড়ির উপর জাম্প দিয়ে পড়লো। সাথে সাথে পাশের দুইটা গাড়ি উল্টিয়ে পাল্টিয়ে চিৎ হয়ে কাৎ হয়ে উড়ে গেল। আর অনন্তের চাপে যে গাড়ির উপর জাম্প দিয়েছিল সেটায় আগুন ধরে গেল। পরে অবশ্য কারো সাহায্য ছাড়াই আগুন নিভে গেল দোতলাতেও কোন ভাঙ্গাভুঙ্গা দেখা গেল না। ছে কি এ্যাকছন গুরু একেবারে ফাটিয়ে দিয়েজে। মাইরি বলছি। এইবার আমি মেনে নিলাম পরিচয় পাট্টা পর্বের টাইটেল ঠিক আছে।

গ্ল্যামার গার্ল বর্ষা স্ক্রিনে এসেই দেখি চাপাবাজী করছে অনন্ত তার বয়ফ্রেন্ড হেন তেন। এ তো দেখি জন্মের আগে থেকেই প্রেম হয়ে আছে। যাহোক একটু পরেই গানের দেখা পাইলাম। গানের ভিতরে জলিল সাহেব এন্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ, মরুভূমি, উলফেনস্টেইন গেমের সিড়ি হাবিজাবি আরো বহুত কিছু দেখাইলেন। তাদের পায়ের নিচ দিয়ে এনটার্কটিকার বরফ, মরুভূমি দৌড় দিয়ে বেড়াচ্ছে, মাটি আর তাদের পায়ের মধ্যবর্তী শূণ্যস্থান দুই ইঞ্চি। অনন্ত যখন সিড়িতে বসে আছেন তার বসা সংলগ্ন স্থান এবং সিড়ির ধাপের মাঝে দুই ইঞ্চি গ্যাপ। কেউ শূণ্যে বসে থাকতে চাইলে যা হয় আর কি। মজার ব্যপার হলো বস ক্রোমা শট মারতে গিয়ে তার বসার জায়গার প্যান্ট থেকে বেশ কিছু অংশ ইন্দুর খাওয়া মতো করে খেয়ে ফেলেছে :-P [বিস্তারিত বললাম না ইশারা ইঙ্গিতে বুঝে নেন :-P ]

এইবার দেখা গেল ঢাকা শহরের একটা পিচ্চি ফকির অনন্তের কাছে গড়গড় করে ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের তথ্য দিচ্ছে। ভাই ঢাকা শহরের ভিক্ষুক রা এত বলদ না যে আপনারে হুদাই হাড়ির খবর কইবো। পিচ্চির তথ্য মতো জলিল সাহেব ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের লীডার কে নীতিবাক্য শোনাচ্ছে। ধুর ভাই গরীব রাও মানুষ এই টাইপ নীতিবাক্য শুনতে শুনতে কান পঁচে গেছে। তার উপর আপনে অলরেডি ওল্ড মডেলের বেশ কয়েকটা নীতিবাক্য ডেলিভারি দিয়া দিছেন। দুসরা ছাড়েন, নীতিবাক্য দিয়া উইকেট পড়বো না। বস এই বার যেই দুসরা দিলো তাতে একটা মাথাভোঁতা মোটা কাঠ ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের লীডারের ডান পা এফোঁড় ওফোঁড় করে এক হাত বেরিয়ে গেলো। একেবারে ক্লিন বোল্ড রাইট স্ট্যাম্প ফাতাফাতা। বোল্ড করার সাথে সাথে বৃষ্টি নামার মতো করে ঘটনাস্থলে পুলিশ আর সাংবাদিক হাজির হলো। বস সাংবাদিক দেরও কিছু নীতিবাক্য ডেলিভারী দিলেন। জলিল সাহেবের হাতের আর মুখের মুভমেন্টের সাথে সংলাপের কোনো মিল নাই। অবশ্য এই ধারা তিনি পুরো সিনেমাতে বজায় রেখেছেন।  সাংবাদিক দের হাতের মাইক্রোফোন দেখে মনে হলো এগুলো কোনো পাটকাঠিতে (অথবা সরু লাঠি দিয়ে বানানো স্ট্যাম্প) এলোপাথাড়ি কচটেপ পেচিয়ে বানানো হয়েছে। সেই সংবাদ আবার দেখাচ্ছে AJ (Ananta Jalil) টিভিতে :3 এইটা দেখে প্রচুর হাসছি :-P

বিজ্ঞানী কে উদ্ধার করার সময় অনন্ত জলিল গাড়ি দিয়ে একটা গেট ভাঙলো, গেট টা কয় হাজার টুকরা হলো তার ইয়োত্তা নাই। আজ কাল গাড়ির ধাক্কায় লোহার গেট হাজার টুকরা হয়ে যায়। এই কিডন্যাপের পর বিজ্ঞানীর সিকিউরিটি জোরদার করা হলো। জলিল সাহেব গ্রামীন ফোনের থ্রিজি ব্যবহার করে করে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগাচ্ছিলেন। একটু পরে বর্ষা অনন্তের অফিসে এসে হাজির্। অনন্তও বর্ষার হাত চেপে ধরলো (নোট এইটা কিন্তু সিনেমায় পুলিশ অফিসার অনন্ত আর বর্ষার প্রথম দেখা :-P )। আর তারপরই গান শুরু হলো "হাত ধরতে দিলে দেবো ঝালমুড়ি কিস করতে দিলে দেবো ক্যাডবেরী……… চিকেন তান্দুরী" বর্ষা আফা আপনে না জলিল স্যারের প্রেমে পড়ছিলেন? তো হাত ধরার পিড়াপিড়ি করার কথা তো আপনার্। উল্টা জলিল স্যার পিড়াপিড়ি করে ক্যা? নাকি আপনারা ভুইলা গেছিলেন কে কার প্রেমে পড়ছিল? অন্ততপক্ষে চিকেন তান্দুরী খাওয়ার লোভেও তো আপনারে হাত ধরতে দেয়া উচিত কারন বেশ কয়েকবার আপনারে রেস্টুরেন্টেই দেখলাম। গানে অনন্তের ড্যান্স সে আরেক বস্তু। ড্যান্সের একেকটা মূদ্রা দেখে মনে হচ্ছিল সে ট্রাফিক পুলিশ, ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির যানজট ছাড়াচ্ছেন। বাকি মূদ্রাগুলোর কথা বললে বিষয়টা অশ্লীল হয়ে যাবে :-P

বর্ষাকে ভিলেন রা ঢাকা থেকে কিডন্যাপের চেষ্টা করে আর কোথা থেকে অনন্ত এসে বর্ষাকে মোটর সাইকেলে করে নিয়ে যায় এবং দেখা গেল তারা পাহাড়ি এলাকায়। তাদের তাড়া করতে থাকা গাড়ি থেকে ভিলেন রা পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। সেই পিস্তল থেকে প্রথমে হোমিওপ্যাথিক শিশির সাইজ তারপর পটল সাইজ তারপর পেপে তরমুজ সাইজের মিসাইল ছুটে আসতে লাগলো। ভয়ে আছি কখন না জানি রকেট সাইজের টোমাহক ক্ষেপনাস্ত্র বাইর হয়। এইসব মিসাইল গুলা অনন্ত বর্ষাকে সাইড দিয়ে গাড়ি, ট্রাকে গিয়ে লাগলো। ভাই একটা প্রশ্ন ছিল গাড়ি গুলা কি জিটিএ ভাইস সিটি গেম থেইকা ধার কইরা আনছেন? না মানে সেইগুলা দেইখা তো অরজিনাল মনে হইলো না। তাছাড়া টুক্কাটুক্কি লাগলেই বিগ ব্যাং এর মতো ব্লাস্ট হয়ে যাচ্ছে।

এই সিনেমার সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক হলো সিনেমার গান গুলা। প্রায় প্রতিটা গানের ব্যাকগ্রাউন্ডেই ক্রোমা শট দিয়ে স্টিল ইমেজ বসিয়ে দিয়েছেন। এই কাজ টা মোড়ের মাথার কম্পিউটারের দোকানের পিচ্চিও পারে। আমি নিজেই ক্লাস সেভেনে থাকতে এই ক্রোমা শট দেওয়া শিখছি। তো কাহিনি হইলো ক্রোমা শট দিছেন ভালো কথা কিন্তু সেইগুলা আপনার পায়ের তল দিয়া নইড়া বেড়াইতেছে ক্যান? মাঝে মাঝে আপনার শরীরের পাশ দিয়ে সাদা বর্ডারও দেখা যাচ্ছে। বস এই লেভেলের পাগলামী না করলে চলতো না?

অনেক গবেষণা করে অনন্তের একটা ইউনিক ড্যান্স (ঠিক ড্যান্স না, স্ট্যাচু বলা যায়) আবিষ্কার করলাম। প্রায় প্রতিটা গানেই বেশ কয়েকবার স্ট্যাচু স্টাইলে তাকে দেখা যায়। এতে তার ডান পা ৭০° এঙ্গেলে এবং বাম পা ৮৫° এঙ্গেলে থাকে আর হাত দুটো প্রসারিত থাকে। দারুন স্টাইল না? :-D

সিনেমার এক অংশে ভিলেন নিনো হেলিকপ্টারে করে বিজ্ঞানী হাসান মইন কে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এক দৃশ্যে দেখা গেল অনন্ত ছোট্ট একটা জাম্প দিলেন তারপরের দৃশ্যে দেখা গেল তিনি হেলিকপ্টারের নিচে ধরে ঝুলে আছেন। ভাই আপনি যে জাম্প দিয়ে হেলিকপ্টার ধরেছেন তার প্রমান কি? আবার তার পরের দৃশ্যেই দেখা গেল দায়িত্বে অবহেলার কারনে অনন্তকে মিডিয়া ধুয়ে দিচ্ছে। ভাই তাইলে আপনে হেলিকপ্টারে ঝুইলা কি করতেছিলেন? নাকি ভুলে সিনেমায় হেলিকপ্টার শট ঢুকায়া দিছেন?

দায়িত্বে অবহেলার কারনে অনন্ত চাকরীতে ইস্তফা দিলো তারপরই পুলিশ এসে গ্রেফতার করলো। গ্রেফতারের পর উরে মাইর্। পা উপরে ঝুলাইয়া পিটাইতেছে। তারপর দেখা গেলো অনন্ত সেলের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো। ভাই আপনে না ঝুইলা ছিলেন? নামলেন ক্যাম্নে আর বাইর হইলেন ক্যাম্নে? ধুর সুপারহিরো দিয়া সব সম্ভব। এরপর অনন্তের পেটে মিশা ঘুষি মারে কিন্তু অনন্ত এক চুলো নড়েনা অথচ মিশার হাত মচকে যায়। আগের বার পেটে চাকু মারছিল ভাগ্যিস সেইটা ভাইঙ্গা যায়নাই :-P মিশাকে প্রথমবার কন্ট্রাক্ট দেয়ার সময় তাকে নিনো ৫০মিলিয়ন ডলার দেবে বলেছিল। এবার মিশা বলল সে ৫বিলিয়ন ডলার পাবে কাজ করে দিলে। আগে ঠিক করে ডলার মিলিয়নে দিবেন না বিলিয়নে দিবেন। একেকবার একেক কথা ভালো লাগে না।

এইবার ভিলেন রা কি না কি ভাইরাস কুকুরের ভিতর পুশ করে দিলো আর তাতে সারা শহরের মানুষ আক্রান্ত হলো। পুরা শহর ছোয়াচে রোগে আক্রান্ত। মানুষ ভেদবমি করে খিচুনি দিয়ে অস্থির। এইগুলা অবশ্য কৃশ থ্রি সিনেমার কাটপিস। ডাক্তার রা ডুবুরীদের মাস্কের মতো আজব টাইপ মাস্ক পরে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। অবশেষে হাসান মইনের ক্যান্সারের প্রতিষেধক দিয়ে এ রোগ সারলো। তার মানে এইটা ছোঁয়াচে ক্যান্সার ছিল! আগে কইবেন না মিয়া। ভয় পাইয়া গেছিলাম রোগীগুলা যদি খিচুনি দিয়ে মারা যাবার পর রেসিডেন্ট ইভিলের ভূত হয়ে যেত! তাহলে তো আরেক সমস্যা হতো।

জলিল ভাইরে কিছু কই, ভাই পুরা সিনেমায় আপনার চুল ছোট আর এক জায়গায় চুল বড় সেইটা দেইখা আমার দোস্ত জিগায় "ওই নায়িকা কুনডারে?" আগে ঠিক করেন কোন সাইজের "চুল" ব্যবহার করবেন। বর্ষা যখন আপনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো আর আপনি বললেন "এই কি করছো?" সেইটা দেইখা দোস্ত হাসে আর কয় "এই নায়িকা কুনডারে?" আপনি যখন খালি গায়ে মাইরপিট করেন তখন দোস্ত জিগায় "ওই নায়িকা কুনডারে?" সিনেমার শেষ দৃশ্যে যখন বর্ষার সাথে রোমান্স করেন তখন জিগায় "ওই নায়িকা কুনডারে?" কি জবাব দিমু আপনেই কন? এত পেইন সহ্য হয়? গুলি লাগার সাথে সাথেই গাছে বিশাল গর্ত দেখা যায় আবার তারপরই গর্ত মিলিয়ে যায়। এইটা কোন প্রযুক্তি? আপনে জাম্প দেয়ার সময় ক্রেনের ছায়া দেখা যায় এমনকি ক্রেনের একটা কোনাও দেখা যায়। ভাই এইগুলা খেয়াল করেন নাই? আপনে না "ট্যাকনোলজি" ব্যবহার করছিলেন? তো পুরা সিনেমার এই দশা ক্যান? যেই ক্যান্সারের প্রতিষেধক নিয়া এত কাহিনী লাস্টে সেইটারই খবর নাই, তাইলে এত কাহিনী করলেন ক্যান? চায়না ফোনে অডিও, ভিডিও, রেডিও, ক্যামেরা, টিভি, ফ্রীজ, ফ্লাশলাইট, হিটার ইত্যাদী থাকে আপনারও তো সেই দশা। নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার সব হইতে গেলে সিনেমার অবস্থাও তো চায়না ফোনের মতো হবে। ৬টা সিনেমা তো বানিয়ে ফেলেছেন। এবার শুধু প্রযোজক হয়ে যান, প্লিজ লাগে। গ্ল্যামার গার্ল বর্ষার অভিনয়ে পুরা বিরক্ত, আপনার অভিনয় দেইখা কান্না চাপে।

সিনেমার মানুষ আছে তাই মানুষ বাচে গান টা ভালো লেগেছে। হায়দ্রাবাদে করা শুটিং টাও বেশ ভালো লেগেছে। তবে সবচেয়ে যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো ফারিয়া। উফ একটা মেয়ে এত্ত কিউট হবে ক্যান?? ফারিয়ার উপর অনেক আগেই ক্রাশ খেয়েছিলাম আর আজ তো পুরা প্রেমে পড়ে গেলাম :-P

একটা দু:সংবাদ হলো হল থেকে বেরিয়ে দেখি জিপি আমার ৪জিবি নেট কেড়ে নিয়েছে :-( :-( এইটা কোন ধরনের মশকরা ছিল? :-(

 
Tricks and Tips