অগ্নি (মুভি রিভিউ)

যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, তাই শঙ্কা ছিল সিনেমা হলে অধিকাংশই জোড়ায় জোড়ায় থাকবে । তাই বন্ধুকে বোরকা পরিয়ে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বন্ধুকে এই..

এরশাদোলজি (রম্য)

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।

ফেসবুকে প্র্তারনার হাত থেকে সতর্কতা

আপনার অনেক পরিচিত কারো ফেইক আইডি খুলে আপনাকে হয়ত ফাদে ফেলানো হবে, আপনার গার্লফ্রেন্ড, আপনার বন্ধু সেজে আপনাকে ফাদে ফেলানো হবে। আর লুল বালক হলে তো কথায়ই নেই, মিষ্টি কথাতেই আপনার ঘুম হারাম করে দেবে।

ইশি (ছোটগল্প)

বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে।

আজব প্রশ্নের গজব উত্তর

প্রশ্নঃ দেশে জনসংখ্যা কমানোর জন্য কি কি করা যায়? উত্তরঃ বিবাহ করা থেকে নারী পুরুষ কে বিরত থাকার জন্য উদবুদ্ধ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা যায়। বিছানা এক হলেই মহামারী দেখা দেবে এমন আতঙ্ক ছড়ানো যায়

স্মৃতিচারন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্মৃতিচারন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৭ জুলাই, ২০১৪

রাজু বৃত্তান্ত

এস এস সি পরীক্ষার আগের ঘটনা। আমাদের দল টা বেশ বড়ই ছিল। সাধারনত রাজু, রাসেল, রাকিব, সুমন চারিদিকে এই টাইপের নামধারী পোলাপাইন একটু বেশি দেখা যায়। আমাদের দলে ছিল ৫জন রাজু। ৫জনই আমাদের সাথে পড়তো। কোনো আড্ডাবাজি তে একজন কে ডাকলে আরেকজন উত্তর নিতো। ক্রিকেট খেলায় একজন কে বোলিং করার জন্য ডাকলে দেখা যেত সবাই চলে এসেছে। এমন নানা ধরনের কাহিনী ঘটতো। আমরা ডাকার সুবিধার্থে এদের নাম দিয়েছিলাম যথাক্রমে রোমিও, আর কিউব, এম এক্স, কার্টুন, লাড্ডু।  সবাই নিজের ক্লাস অথবা নিচের ক্লাসের কোনো মেয়ের সাথে প্রেম করতো। আমরা যে ওদের এসব নাম দিয়েছিলাম সেটা মেয়েরা জানতো না (জানলেও খুব কম মেয়ে জানতো)। একবার রোমিওর গার্লফ্রেন্ড কে তার বান্ধবী বলেছিল, "রাজুর গার্লফ্রেন্ড তো অন্য মেয়ে, দেখ ও তোকে ধোকা দিচ্ছে"। এই নিয়ে তো রাজুর সাথে তার গার্লফ্রেন্ডের তুমুল ঝগড়া, শেষে ব্রেকআপ পর্যন্ত হয়েছিল। আসলে সেই মেয়েটা রাজুদের কে গুলিয়ে ফেলেছিল তাই এই সমস্যা হয়েছিল। সে যাত্রায় তাদের সম্পর্ক জোড়া লেগেছিল আবার।

আরেকবার একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা ঘটেছিল। এস এস সি পরীক্ষার কয়েকমাস আগে আমরা সবাই কোচিং করতে যাই। কোচিং এর প্রথম দিনে ৫ রাজুই এক বেঞ্চে বসেছিল। পরিচয় পর্বের সময় কোচিং এর ভাই যখন রাজুদের বেঞ্চে গিয়েছিল তখন রাজুরা তাদের নাম বলছিল। প্রথম দুইজনের নাম রাজু শোনার পর স্বাভাবিকই ছিল ভাইটা। তৃতীয় জনের নাম রাজু শোনার পর সেই ভাইয়ের চোখ বড় হয়ে গিয়েছিল, নিশ্চয়ই ভাবছিল, "কিরে পরপর তিন জনের নামই রাজু!" চতুর্থ জনের নাম রাজু শোনার পর বিস্ময়ে চোখ বেরিয়ে আশার উপক্রম। তাই পঞ্চম জনের কাছে গিয়ে ভাই জিজ্ঞাসা করলো, "তোমার নামও কি রাজু?"
আমাদের শেষ রাজুর উত্তর ছিল, "জ্বী আমার নামও রাজু :-D  "

মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৪

আমি ভাত, একজন ভাত

সময়টা ২০০৪ সাল। তখন আমি ক্লাস টু'র স্টুডেন্ট। আমার একটা বিটলা টাইপের ফ্রেন্ড ছিল নাম লাবিব। তো একদিন ক্লাসে ওর সাথে কলম খেলছিলাম।
খেলার এক পর্যায়ে ও বলে, "দোস্ত আইজ একটা নতুন গেম খেলুম। খেলবি?"
তো নতুন গেমের কথা শুনে তো আমি এক পায়ে খাড়া। বললাম, "হু খেলুম"
তারপর ও আমাকে খাতায় কিছু কথা লিখতে বলল। কথাগুলো ছিল এরকম
আমি ভাত
একজন ভাত
কে ভাত
ভালো ভাত
বাসি ভাত
তার ভাত
নাম ভাত
এটুকু লেখার পর ও বলল, "এইবার আমাগো ক্লাসের কোনো মাইয়ার নাম দিয়া ভাত লেখ"
আমিও তখন সরল মনে আমাদের ক্লাসের সেকেন্ড গার্লের নাম দিয়ে লিখলাম
*** ভাত
কিন্তু তখনই হারামজাদা টা সব ভাত কেটে দিয়ে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত আমাকে পড়তে বলল >_<
পড়ার পরই তো মাথায় আগুন :-/ ও খাতাটা কেড়ে নিয়ে পুরো ক্লাস দেখাতে লাগলো, আমি ওকে ব্যর্থ তাড়া করছিলাম শুধু। এরপর ও বেঞ্চে এবং আমার খাতায় লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েটার নাম প্লাস আমার নাম লিখে রাখত। তখন তো লজ্জায় আমার সেইরকম দশা হত।
আসলেই ছোটবেলার দিন গুলো খুব মজার ছিল। সে দিন গুলি আর কখনো ফিরে আসবে না। প্রতিটা মানুষকে যদি একটি নির্দিষ্ট বয়সে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়, তবে অধিকাংশই শৈশব কালকে বেছে নেবে

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

কলেজের মজার স্মৃতি

কলেজের একটা মজার স্মৃতি।
আমার স্কুল লাইফটা ছিল অনেক
মজার । সেই তুলনায় কলেজ লাইফটা অনেক সাদামাটা। সবচেয়ে মজার স্মৃতি আলাদা করতে পারব না, তবে প্রথম দিনের স্মৃতিটা মজারই ছিল। নবীন বরন অনুষ্ঠানে একটা খুবই সুন্দরী মেয়ে গান গেয়েছিল, এই মেয়েটাকে জিন্স টপ্স পরে এর আগেও একবার দেখেছিলাম। দ্বিতীয়বার দেখা হওয়াতে বন্ধুত্ব করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। গান শেষ হওয়ার পর নামধাম জিজ্ঞেস করলাম। আগে তাকেই দেখেছি কিনা কনফার্ম হলাম । চেহারারও প্রসংসা করলাম। হাসি ঠাট্টা তো ছিলোই । রসায়ন ক্লাসে তাকে প্রবেশ করতে দেখে অন্যান্য স্কুল থেকে আসা ছেলেরাও একটু টিজ করলো। কিন্তু উনি ছাত্রীদের মাঝে না বসে নাম ডাকা আরম্ভ করলো । পুরো ক্লাসেই মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। আমি মুখ লুকানোর জায়গা পাচ্ছিলাম না পরবর্তী ৫দিন তার ক্লাস করিনি

রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

অন্তু (ছোটগল্প)

“এই অন্তু মন খারাপ করে বসে আছিস কেন? পরীক্ষা ভাল হয়নি?”
শারমিন অন্তুর গা ঝাকি দিয়ে কথাটা বলল। অন্তু আর শারমিন ক্লাস ফোর এ পড়ে। ওরা একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ডও বটে।
“বাবার জন্য খারাপ লাগছে রে”
অন্তুর বাবার শরীর টা ভাল নেই। অন্তুর দিকে তাকালেই অন্তুর বাবার চোখ টা ভিজে আসছে। ছেলেকে খুব ভালবাসেন তিনি। অন্তুর কাছে অন্তুর বাবাই পৃথিবীর সেরা মানুষ। অন্তু জানেনা ওর বাবার কি হয়েছে। কিন্তু তবুও বুকের মাঝে একটা শূন্যতা অনুভব করছে।
“দেখিস তুই এবার ফার্স্ট হবি, আর আমাকে আম্মুর বকুনি শুনতে হবে”
শারমিন এর আম্মু অন্তু কে খুব ভালোবাসে। অন্তুর জন্য বাড়তি করে টিফিন পাঠিয়ে দেয় শারমিন এর কাছে। তবে নিজের সন্তান ভাল করুক সেটা সব মা-ই চায়।
আর একটা পরীক্ষা বাকি আছে অন্তুর। অন্তুর মা কাঁদছে।
“বাবার জন্য কেদনা। দেখ বাবা ঠিকই ভাল হয়ে যাবে।”

অন্তুর মা পরম মমতায় অন্তু কে কাছে টেনে নিল। অন্তুর মা শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অন্তু কেমন যেন একটা ধাক্কা খেল। কিন্তু কিছু বুঝে উঠতে পারলনা।
পরীক্ষাটা আজ খারাপ হবে। কিছুই লিখতে পারছেনা অন্তু। শারমিন বুঝতে পারছে বিষয়টা। শারমিন নিজের খাতা অন্তু কে দেখার সুযোগ করে দিল। তবুও মন মত পরীক্ষা হয়নি অন্তুর। পরীক্ষা শেষ করেই অন্তু এনাম মেডিকেল কলেজ এর দিকে যাচ্ছিল। শারমিন জিজ্ঞেস করল বাসায় না যেয়ে কোথায় যাচ্ছিস? “হাসপাতালে” ছোট্ট জবাব অন্তুর। অন্তু কে একা যেতে দিলনা শারমিন। নিজেও গেল অন্তুর সাথে।
শারমিন এর চোখে জল। অন্তুর দিকে তাকিয়ে দেখল ওর চোখে জল নেই। শুধু বাবার নিথর দেহের দিকে পাথর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কেমন যেন রোবট হয়ে গেছে চঞ্চল ছেলেটা। অন্তু হয়ত বুঝতে পারছেনা ওর প্রিয় মানুষ কে হারিয়ে ফেলেছে, চিরদিনের জন্য। অন্তুর ২ বছর বয়সী বোনটি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারেনি।
আজ রেজাল্ট দিয়েছে। শারমিন ফার্স্ট হয়েছে। অন্তুর মন খারাপ। তবে সেকেন্ড হওয়ার জন্য নয়। শারমিন হয়ত সেটা বুঝতে পেরেছে। তাই ওর মনটাও ভাল নেই।
প্রায় ৮ বছর কেটে গেছে। অন্তু নামটা কেন দিলাম জানা নেই।

 
Tricks and Tips