অগ্নি (মুভি রিভিউ)

যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, তাই শঙ্কা ছিল সিনেমা হলে অধিকাংশই জোড়ায় জোড়ায় থাকবে । তাই বন্ধুকে বোরকা পরিয়ে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বন্ধুকে এই..

এরশাদোলজি (রম্য)

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।

ফেসবুকে প্র্তারনার হাত থেকে সতর্কতা

আপনার অনেক পরিচিত কারো ফেইক আইডি খুলে আপনাকে হয়ত ফাদে ফেলানো হবে, আপনার গার্লফ্রেন্ড, আপনার বন্ধু সেজে আপনাকে ফাদে ফেলানো হবে। আর লুল বালক হলে তো কথায়ই নেই, মিষ্টি কথাতেই আপনার ঘুম হারাম করে দেবে।

ইশি (ছোটগল্প)

বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে।

আজব প্রশ্নের গজব উত্তর

প্রশ্নঃ দেশে জনসংখ্যা কমানোর জন্য কি কি করা যায়? উত্তরঃ বিবাহ করা থেকে নারী পুরুষ কে বিরত থাকার জন্য উদবুদ্ধ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা যায়। বিছানা এক হলেই মহামারী দেখা দেবে এমন আতঙ্ক ছড়ানো যায়

ঢালিউড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঢালিউড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪

মোস্ট ওয়েলকাম ২ | উড়াধুড়া "ট্যাকনোলজি" তে ভরপুর সিনেমা, শুধুই বিনোদন | মুভি রিভিউ

[স্পয়লার এলার্ট]

গতকাল জিপি তে ৪গিগাবাইট ডাটা ফ্রী পাওয়ার পর আমার শুধু একটাই অনূভুতি হয়েছিল "এ তো অসম্ভব!" আমার অনূভুতি কে সত্য প্রমান করার জন্য কিনা জানিনা ঠিক তখনই অনন্ত জলিলের মোস্ট ওয়েলকাম ২ এর পোস্টার সামনে পড়ে গেল। আসলেই তার সামনে পড়ে যাওয়ায় অসম্ভবই সম্ভব হয়ে গেছে। পোস্টারে দেখলাম গ্রামীন ফোন এই সিনেমার স্পন্সরও। তাই সিনেমাটা দেখার জন্য তর সইছিল না। সুমন আর সুদীপ্ত কে বলতেই তারা রাজী হয়ে গেল। তিনজন বেশ ভালো একটা জায়গায় গিয়ে বসে পড়লাম। যেহেতু অনন্তের সিনেমা তাই অভিনয় শিল্পীদের আলাদা করে পরিচয় করে দেয়ার প্রয়োজন নেই।

অনন্ত জলিলের সিনেমায় প্রতি মূহুর্তে চমক থাকবে না সেটা কি হয়! কিন্তু নাম দেখানো থেকেই যে চমক শুরু হবে সেটা বুঝিনাই। কোনো এক কালে একটা দোকানের উপরে দেখেছিলাম সেখানে লেখা আছে "ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তার মো: আব্দুল খালেক এমবিবিএস এন্ড এল এল বি" নিচে ছোট করে চর্ম, যৌন, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি ইত্যাদী বিশেষজ্ঞও লেখা ছিল সম্ভবত। সিনেমার পরিচয় পাট্টা পর্বে সুপার ডুপার ব্লকবাস্টার এ্যাকশন হিরো অনন্ত এতবড় নাম আর সাথে স্ক্রিপ্ট রাইটার,  প্রযোজক,  পরিচালক অনন্ত দেখে আমার সেই ইঞ্জিনিয়ার এমবিবিএস ডাক্তারের কথা মনে পড়ে গেল। ভাই পারলে ক্যামেরা ম্যানের দায়িত্বটাও নিতেন। সেলফি স্টাইলে ক্যামেরা ধইরা শুটিং করতেন। পরিচয় পাট্টা পর্বে আরো ছিল গ্রামার না গ্ল্যামার গার্ল বর্ষা (টাইটেলের ফন্ট ভালো আছিল না আসলে)। অনন্ত বর্ষারে খুব জিগাইতে মুঞ্চায় এই "সুপার ডুপার এ্যাকশন হিরো" আর "গ্ল্যামার গার্ল" এই টাইটেল দুইটা তারা কই পাইছে মানে কারা দিছে? তারা নিজেরা নিজেরা লাগাইলে ঠিক আছে :3

পরিচয় পাট্টা নিয়ে মাথা ঘামাতে ঘামাতে দেখি আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন আরো কি কি চ্যানেল জানি চেঞ্জ হচ্ছে । কি মুশকিল! আইলাম সিনেমা দেখতে ক্যাডা জানি প্রজেক্টরে ডিশ টিভি লাগায়া দিছে। ভালো করে খেয়াল করে দেখি নিউজ রিডার দের মুখের সাথে সাউন্ড মেলেনা। ওইত্তেরী শুরুতেই চ্যানেল গুলার কাটপিস লাগায়া দিছে! দেখা যাচ্ছে নিউজ রীডার ভারতের নির্বাচনের নিউজ পাঠ করছে আর জলিল সাহেব ডাবিং এর সময় ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার সংক্রান্ত ভয়েস জুড়ে দিয়েছে। সারা বিশ্বের মিডিয়া এতো তোলপাড় কারন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী হাসান মইন ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু সেইটা সারা পৃথিবীতে ব্রেকিং নিউজ আকারে প্রকাশ হচ্ছে। সম্ভবত এটাই প্রথম ঘটনা কোনো কিছু আবিষ্কার হওয়ার পর সেটা ব্রেকিং নিউজ আকারে প্রকাশ হচ্ছে।

রোবট সিনেমায় দেখেছিলাম রজনীকান্ত রোবট বানাতে গিয়ে এক হাত লম্বা দাড়ি গজিয়ে ফেলেছেন। এখানে এসে দেখলাম হাসান মইন সাহেবের চুল সম্ভবত সার্ফ এক্সেল, টাইড, হুইল পাওয়ার হোয়াইট যত প্রকার পরিষ্কারক বস্তু আছে তা দিয়ে সাদার চেয়েও সাদা বানিয়ে দিয়েছে। পরে মনে হয় সাদা রংও লাগিয়ে দিয়েছে তা না হলে চুল দেখে আমার চোখ ঝলসাতো না। চুলের পর গোফের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম এ গোফ দ্বিস্তর বিশিষ্ট। দুই স্তরের রং দুইরকম। না জানি গবেষণা করতে গিয়ে আরো কয় স্তর হয়।

ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার নিয়ে হাসান মইন সাহেব সংবাদ সম্মেলন করছেন। সে সময় দেখা গেল সামনের সারিতে বসে থাকা একজনের বুকে বোতামের মতো ক্যামেরা লাগানো। কিন্তু সেই ক্যামেরা থেকে নীল লেজার রশ্মি বেরিয়ে এসে ক্যান্সারের প্রতিষেধকের প্রেজেন্টেশন টার ভিডিও করছে। এই লেজার ওয়ালা ভিডিও ক্যামেরা বানিয়েছে যে তাকে নিয়ে একটা সংবাদ সম্মেলন করা উচিত।

ভিলেন রা সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞানী কে আক্রমন করতে আসলো আর তখনই এ্যাকশন হিরো অনন্ত জলিল হাসপাতালের দোতলার কাচ ভেঙ্গে নিচ একটা গাড়ির উপর জাম্প দিয়ে পড়লো। সাথে সাথে পাশের দুইটা গাড়ি উল্টিয়ে পাল্টিয়ে চিৎ হয়ে কাৎ হয়ে উড়ে গেল। আর অনন্তের চাপে যে গাড়ির উপর জাম্প দিয়েছিল সেটায় আগুন ধরে গেল। পরে অবশ্য কারো সাহায্য ছাড়াই আগুন নিভে গেল দোতলাতেও কোন ভাঙ্গাভুঙ্গা দেখা গেল না। ছে কি এ্যাকছন গুরু একেবারে ফাটিয়ে দিয়েজে। মাইরি বলছি। এইবার আমি মেনে নিলাম পরিচয় পাট্টা পর্বের টাইটেল ঠিক আছে।

গ্ল্যামার গার্ল বর্ষা স্ক্রিনে এসেই দেখি চাপাবাজী করছে অনন্ত তার বয়ফ্রেন্ড হেন তেন। এ তো দেখি জন্মের আগে থেকেই প্রেম হয়ে আছে। যাহোক একটু পরেই গানের দেখা পাইলাম। গানের ভিতরে জলিল সাহেব এন্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ, মরুভূমি, উলফেনস্টেইন গেমের সিড়ি হাবিজাবি আরো বহুত কিছু দেখাইলেন। তাদের পায়ের নিচ দিয়ে এনটার্কটিকার বরফ, মরুভূমি দৌড় দিয়ে বেড়াচ্ছে, মাটি আর তাদের পায়ের মধ্যবর্তী শূণ্যস্থান দুই ইঞ্চি। অনন্ত যখন সিড়িতে বসে আছেন তার বসা সংলগ্ন স্থান এবং সিড়ির ধাপের মাঝে দুই ইঞ্চি গ্যাপ। কেউ শূণ্যে বসে থাকতে চাইলে যা হয় আর কি। মজার ব্যপার হলো বস ক্রোমা শট মারতে গিয়ে তার বসার জায়গার প্যান্ট থেকে বেশ কিছু অংশ ইন্দুর খাওয়া মতো করে খেয়ে ফেলেছে :-P [বিস্তারিত বললাম না ইশারা ইঙ্গিতে বুঝে নেন :-P ]

এইবার দেখা গেল ঢাকা শহরের একটা পিচ্চি ফকির অনন্তের কাছে গড়গড় করে ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের তথ্য দিচ্ছে। ভাই ঢাকা শহরের ভিক্ষুক রা এত বলদ না যে আপনারে হুদাই হাড়ির খবর কইবো। পিচ্চির তথ্য মতো জলিল সাহেব ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের লীডার কে নীতিবাক্য শোনাচ্ছে। ধুর ভাই গরীব রাও মানুষ এই টাইপ নীতিবাক্য শুনতে শুনতে কান পঁচে গেছে। তার উপর আপনে অলরেডি ওল্ড মডেলের বেশ কয়েকটা নীতিবাক্য ডেলিভারি দিয়া দিছেন। দুসরা ছাড়েন, নীতিবাক্য দিয়া উইকেট পড়বো না। বস এই বার যেই দুসরা দিলো তাতে একটা মাথাভোঁতা মোটা কাঠ ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের লীডারের ডান পা এফোঁড় ওফোঁড় করে এক হাত বেরিয়ে গেলো। একেবারে ক্লিন বোল্ড রাইট স্ট্যাম্প ফাতাফাতা। বোল্ড করার সাথে সাথে বৃষ্টি নামার মতো করে ঘটনাস্থলে পুলিশ আর সাংবাদিক হাজির হলো। বস সাংবাদিক দেরও কিছু নীতিবাক্য ডেলিভারী দিলেন। জলিল সাহেবের হাতের আর মুখের মুভমেন্টের সাথে সংলাপের কোনো মিল নাই। অবশ্য এই ধারা তিনি পুরো সিনেমাতে বজায় রেখেছেন।  সাংবাদিক দের হাতের মাইক্রোফোন দেখে মনে হলো এগুলো কোনো পাটকাঠিতে (অথবা সরু লাঠি দিয়ে বানানো স্ট্যাম্প) এলোপাথাড়ি কচটেপ পেচিয়ে বানানো হয়েছে। সেই সংবাদ আবার দেখাচ্ছে AJ (Ananta Jalil) টিভিতে :3 এইটা দেখে প্রচুর হাসছি :-P

বিজ্ঞানী কে উদ্ধার করার সময় অনন্ত জলিল গাড়ি দিয়ে একটা গেট ভাঙলো, গেট টা কয় হাজার টুকরা হলো তার ইয়োত্তা নাই। আজ কাল গাড়ির ধাক্কায় লোহার গেট হাজার টুকরা হয়ে যায়। এই কিডন্যাপের পর বিজ্ঞানীর সিকিউরিটি জোরদার করা হলো। জলিল সাহেব গ্রামীন ফোনের থ্রিজি ব্যবহার করে করে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগাচ্ছিলেন। একটু পরে বর্ষা অনন্তের অফিসে এসে হাজির্। অনন্তও বর্ষার হাত চেপে ধরলো (নোট এইটা কিন্তু সিনেমায় পুলিশ অফিসার অনন্ত আর বর্ষার প্রথম দেখা :-P )। আর তারপরই গান শুরু হলো "হাত ধরতে দিলে দেবো ঝালমুড়ি কিস করতে দিলে দেবো ক্যাডবেরী……… চিকেন তান্দুরী" বর্ষা আফা আপনে না জলিল স্যারের প্রেমে পড়ছিলেন? তো হাত ধরার পিড়াপিড়ি করার কথা তো আপনার্। উল্টা জলিল স্যার পিড়াপিড়ি করে ক্যা? নাকি আপনারা ভুইলা গেছিলেন কে কার প্রেমে পড়ছিল? অন্ততপক্ষে চিকেন তান্দুরী খাওয়ার লোভেও তো আপনারে হাত ধরতে দেয়া উচিত কারন বেশ কয়েকবার আপনারে রেস্টুরেন্টেই দেখলাম। গানে অনন্তের ড্যান্স সে আরেক বস্তু। ড্যান্সের একেকটা মূদ্রা দেখে মনে হচ্ছিল সে ট্রাফিক পুলিশ, ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির যানজট ছাড়াচ্ছেন। বাকি মূদ্রাগুলোর কথা বললে বিষয়টা অশ্লীল হয়ে যাবে :-P

বর্ষাকে ভিলেন রা ঢাকা থেকে কিডন্যাপের চেষ্টা করে আর কোথা থেকে অনন্ত এসে বর্ষাকে মোটর সাইকেলে করে নিয়ে যায় এবং দেখা গেল তারা পাহাড়ি এলাকায়। তাদের তাড়া করতে থাকা গাড়ি থেকে ভিলেন রা পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। সেই পিস্তল থেকে প্রথমে হোমিওপ্যাথিক শিশির সাইজ তারপর পটল সাইজ তারপর পেপে তরমুজ সাইজের মিসাইল ছুটে আসতে লাগলো। ভয়ে আছি কখন না জানি রকেট সাইজের টোমাহক ক্ষেপনাস্ত্র বাইর হয়। এইসব মিসাইল গুলা অনন্ত বর্ষাকে সাইড দিয়ে গাড়ি, ট্রাকে গিয়ে লাগলো। ভাই একটা প্রশ্ন ছিল গাড়ি গুলা কি জিটিএ ভাইস সিটি গেম থেইকা ধার কইরা আনছেন? না মানে সেইগুলা দেইখা তো অরজিনাল মনে হইলো না। তাছাড়া টুক্কাটুক্কি লাগলেই বিগ ব্যাং এর মতো ব্লাস্ট হয়ে যাচ্ছে।

এই সিনেমার সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক হলো সিনেমার গান গুলা। প্রায় প্রতিটা গানের ব্যাকগ্রাউন্ডেই ক্রোমা শট দিয়ে স্টিল ইমেজ বসিয়ে দিয়েছেন। এই কাজ টা মোড়ের মাথার কম্পিউটারের দোকানের পিচ্চিও পারে। আমি নিজেই ক্লাস সেভেনে থাকতে এই ক্রোমা শট দেওয়া শিখছি। তো কাহিনি হইলো ক্রোমা শট দিছেন ভালো কথা কিন্তু সেইগুলা আপনার পায়ের তল দিয়া নইড়া বেড়াইতেছে ক্যান? মাঝে মাঝে আপনার শরীরের পাশ দিয়ে সাদা বর্ডারও দেখা যাচ্ছে। বস এই লেভেলের পাগলামী না করলে চলতো না?

অনেক গবেষণা করে অনন্তের একটা ইউনিক ড্যান্স (ঠিক ড্যান্স না, স্ট্যাচু বলা যায়) আবিষ্কার করলাম। প্রায় প্রতিটা গানেই বেশ কয়েকবার স্ট্যাচু স্টাইলে তাকে দেখা যায়। এতে তার ডান পা ৭০° এঙ্গেলে এবং বাম পা ৮৫° এঙ্গেলে থাকে আর হাত দুটো প্রসারিত থাকে। দারুন স্টাইল না? :-D

সিনেমার এক অংশে ভিলেন নিনো হেলিকপ্টারে করে বিজ্ঞানী হাসান মইন কে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এক দৃশ্যে দেখা গেল অনন্ত ছোট্ট একটা জাম্প দিলেন তারপরের দৃশ্যে দেখা গেল তিনি হেলিকপ্টারের নিচে ধরে ঝুলে আছেন। ভাই আপনি যে জাম্প দিয়ে হেলিকপ্টার ধরেছেন তার প্রমান কি? আবার তার পরের দৃশ্যেই দেখা গেল দায়িত্বে অবহেলার কারনে অনন্তকে মিডিয়া ধুয়ে দিচ্ছে। ভাই তাইলে আপনে হেলিকপ্টারে ঝুইলা কি করতেছিলেন? নাকি ভুলে সিনেমায় হেলিকপ্টার শট ঢুকায়া দিছেন?

দায়িত্বে অবহেলার কারনে অনন্ত চাকরীতে ইস্তফা দিলো তারপরই পুলিশ এসে গ্রেফতার করলো। গ্রেফতারের পর উরে মাইর্। পা উপরে ঝুলাইয়া পিটাইতেছে। তারপর দেখা গেলো অনন্ত সেলের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো। ভাই আপনে না ঝুইলা ছিলেন? নামলেন ক্যাম্নে আর বাইর হইলেন ক্যাম্নে? ধুর সুপারহিরো দিয়া সব সম্ভব। এরপর অনন্তের পেটে মিশা ঘুষি মারে কিন্তু অনন্ত এক চুলো নড়েনা অথচ মিশার হাত মচকে যায়। আগের বার পেটে চাকু মারছিল ভাগ্যিস সেইটা ভাইঙ্গা যায়নাই :-P মিশাকে প্রথমবার কন্ট্রাক্ট দেয়ার সময় তাকে নিনো ৫০মিলিয়ন ডলার দেবে বলেছিল। এবার মিশা বলল সে ৫বিলিয়ন ডলার পাবে কাজ করে দিলে। আগে ঠিক করে ডলার মিলিয়নে দিবেন না বিলিয়নে দিবেন। একেকবার একেক কথা ভালো লাগে না।

এইবার ভিলেন রা কি না কি ভাইরাস কুকুরের ভিতর পুশ করে দিলো আর তাতে সারা শহরের মানুষ আক্রান্ত হলো। পুরা শহর ছোয়াচে রোগে আক্রান্ত। মানুষ ভেদবমি করে খিচুনি দিয়ে অস্থির। এইগুলা অবশ্য কৃশ থ্রি সিনেমার কাটপিস। ডাক্তার রা ডুবুরীদের মাস্কের মতো আজব টাইপ মাস্ক পরে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। অবশেষে হাসান মইনের ক্যান্সারের প্রতিষেধক দিয়ে এ রোগ সারলো। তার মানে এইটা ছোঁয়াচে ক্যান্সার ছিল! আগে কইবেন না মিয়া। ভয় পাইয়া গেছিলাম রোগীগুলা যদি খিচুনি দিয়ে মারা যাবার পর রেসিডেন্ট ইভিলের ভূত হয়ে যেত! তাহলে তো আরেক সমস্যা হতো।

জলিল ভাইরে কিছু কই, ভাই পুরা সিনেমায় আপনার চুল ছোট আর এক জায়গায় চুল বড় সেইটা দেইখা আমার দোস্ত জিগায় "ওই নায়িকা কুনডারে?" আগে ঠিক করেন কোন সাইজের "চুল" ব্যবহার করবেন। বর্ষা যখন আপনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো আর আপনি বললেন "এই কি করছো?" সেইটা দেইখা দোস্ত হাসে আর কয় "এই নায়িকা কুনডারে?" আপনি যখন খালি গায়ে মাইরপিট করেন তখন দোস্ত জিগায় "ওই নায়িকা কুনডারে?" সিনেমার শেষ দৃশ্যে যখন বর্ষার সাথে রোমান্স করেন তখন জিগায় "ওই নায়িকা কুনডারে?" কি জবাব দিমু আপনেই কন? এত পেইন সহ্য হয়? গুলি লাগার সাথে সাথেই গাছে বিশাল গর্ত দেখা যায় আবার তারপরই গর্ত মিলিয়ে যায়। এইটা কোন প্রযুক্তি? আপনে জাম্প দেয়ার সময় ক্রেনের ছায়া দেখা যায় এমনকি ক্রেনের একটা কোনাও দেখা যায়। ভাই এইগুলা খেয়াল করেন নাই? আপনে না "ট্যাকনোলজি" ব্যবহার করছিলেন? তো পুরা সিনেমার এই দশা ক্যান? যেই ক্যান্সারের প্রতিষেধক নিয়া এত কাহিনী লাস্টে সেইটারই খবর নাই, তাইলে এত কাহিনী করলেন ক্যান? চায়না ফোনে অডিও, ভিডিও, রেডিও, ক্যামেরা, টিভি, ফ্রীজ, ফ্লাশলাইট, হিটার ইত্যাদী থাকে আপনারও তো সেই দশা। নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার সব হইতে গেলে সিনেমার অবস্থাও তো চায়না ফোনের মতো হবে। ৬টা সিনেমা তো বানিয়ে ফেলেছেন। এবার শুধু প্রযোজক হয়ে যান, প্লিজ লাগে। গ্ল্যামার গার্ল বর্ষার অভিনয়ে পুরা বিরক্ত, আপনার অভিনয় দেইখা কান্না চাপে।

সিনেমার মানুষ আছে তাই মানুষ বাচে গান টা ভালো লেগেছে। হায়দ্রাবাদে করা শুটিং টাও বেশ ভালো লেগেছে। তবে সবচেয়ে যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো ফারিয়া। উফ একটা মেয়ে এত্ত কিউট হবে ক্যান?? ফারিয়ার উপর অনেক আগেই ক্রাশ খেয়েছিলাম আর আজ তো পুরা প্রেমে পড়ে গেলাম :-P

একটা দু:সংবাদ হলো হল থেকে বেরিয়ে দেখি জিপি আমার ৪জিবি নেট কেড়ে নিয়েছে :-( :-( এইটা কোন ধরনের মশকরা ছিল? :-(

বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৪

বাংলা সিনেমা অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও দেখি কারন……

আমি বাংলা সিনেমা দেখি। কিন্তু বিশ্বাস করেন আমার রুচিতে বাধে এসব দেখতে। বিশ্বাস করেন মনচায় হলের মাঝে বমি করে দেই। আমার মাইগ্রেনের প্রবলেম থাকলে আমি নিশ্চিত এসব ছাই পাশ দেখতে দেখতে আমি মারাই যেতাম। কি বানায় এসব? ছি! এবার যদি কেউ শোনে আমি বাংলা সিনেমা দেখি তবে ক্ষ্যাত বলতেই পারে। বাংলা সিনেমা দেখার কথা শুনে অনেকে ক্ষ্যাত বলেও। তবুও দেখি, কারন একসময় ভাবতাম এই মৃতপ্রায় শিল্পটাকে সাপোর্ট দিলে একদিন হয়ত মাথা তুলে দাড়াবে। এমন একটা আশা প্রায়ই উকি দেয়।  তাই শত মানসিক অত্যাচার সহ্য করেও দেখি। এখন বিচিত্র টাইপের বিনোদনের জন্য দেখি তবুও গাটের পয়সা খরচ করে। আমার মতো অনেকে আছেন যারা অপছন্দ করা সত্ত্বেও এসব ছাই পাশ দেখে। কারন আমরা চিন্তা করি ভালো সিনেমা তৈরি হলে আমাদের দেশকে এই সেক্টরে বাইরে হাইলাইট করা যাবে। কিন্তু ভালো সিনেমা আর তৈরি হয়না। আর আমরা বছরের পর এসব আবর্জনা হজম করি একটা মাত্র দুরাশায়। ভাবি ভারত যদি সিনেমা দিয়ে পৃথিবীতে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরী করতে পারে তবে আমরা কেন নয়? আমাদের সিনেমার সোনালী অতীতও এই দুরাশার জন্য দায়ী। দেশের শ্রেষ্ঠ আহাম্মক গুলো সিনেমায় নাম লেখায়। সিনেমা বানায় তারা আর লজ্জা পাই আমরা। এখানে মেধাবীরা যায়না।  আপনারা যারা ক্ষ্যাত বলেন বিশ্বাস করেন আপনার রুচির সাথে আমার পার্থক্য নাই। শুধুমাত্র আমার একটা অহেতুক আশার জন্য আপনি আমাকে ক্ষ্যাত বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
খারাপ কে খারাপ বলতে আমার আপত্তি নেই, তাকে ভালো বলে মাথায় তোলার ইচ্ছাও আমার নেই। ফ্রেন্ডলিস্টের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের গায়ে লাগলে কিছু করার নেই।

আই ডোন্ট কেয়ার | আড়াই ঘন্টার অত্যাচার | মুভি রিভিউ

মুক্তির আগে থেকেই ববির অর্ধনগ্ন একটা পোস্টারের জন্য "আই ডোন্ট কেয়ার" সিনেমাটি আলোচনায় ছিল। ববির দাবী পরিচালক ফটোশপ করে এই পোস্টার বানিয়েছেন। সিনেমায় অবশ্য পোস্টারের দৃশ্যটি পাওয়া যায়নি। হলে গিয়েও পোস্টার দেখে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ নিয়ে ঢুকে গেলাম সিনেমা দেখতে। ভীড়ের ভিতর অনেক কষ্টে একটা টিকিট জোগাড় করলাম। এই প্রথম দেখলাম শুধু পরিচালক এবং সিনেমার নাম দিয়ে সিনেমা শুরু হল। অন্য কোনো কলাকুশলীর নাম নেই।  সিনেমার মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছে বাপ্পী, ববি, নিপুন, নূতন, প্রবীর মিত্র, মিশা সওদাগর।

শুরুতেই দেখা গেল বাপ্পীকে ফাঁসির রায় দেয়া হল। রায়ের পর পুলিশ অনেকগুলো "প্রাইভেট কার(!)" এবং একটি "ঘোড়া(!)" দিয়ে বাপ্পী কে নিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত পুলিশ রা এখন আপডেট হয়ে আসামী নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কালার ও মডেলের প্রাইভেট কার ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু সামনে একটা ঘোড়ায় পুলিশ কে দেখে মনে হলো অলিম্পিকের কোনো একটা রেস হচ্ছে যেখানে প্রতিযোগী ঘোড়া ও প্রাইভেট কার। কিন্তু যেই রাস্তা আর যেই এলাকা দিয়ে বাপ্পী কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল প্রত্যেক সিনেমায় সেই একই জায়গা দেখে চোখ পঁচে যাচ্ছে। কুঁয়োর ব্যাঙও তো এসব দেখে লজ্জা পাবে। এই পর্যায়ে বাপ্পী পুলিশ কে মেরে দৌড় শুরু করলো। তার পেছন থেকে প্রাইভেট কার গুলো হাওয়া হয়ে মোটর সাইকেলের আগমন ঘটলো। কিন্তু বাপ্পীকে ধরতে মোটর সাইকেল গুলোর বেশ বেগ পেতে হলো। এইবার দেখা গেল বাপ্পী যেই উড়ে উড়ে মোটর সাইকেল চালক কে লাথি মারছে তার ঠিক আগেই চলন্ত মোটর সাইকেল গুলো একেবারে স্থির হয়ে আছে। সবশেষে বাপ্পী ঘোড়ার সামনে দিয়ে অদৃশ্য তারে ঝুলে ঝুলে গিয়ে ঘোড় সওয়ার পুলিশ কে লাথি মারলো, লাথি খেয়ে পুলিশ কই গেল জানিনা কিন্তু বাপ্পী একেবারে ঘোড়ার ড্রাইভিং সিটে বসে গেল। কি তেলেসমাতি কারবার! ঘোড়ার সামনে দিয়ে উড়ে এসে উড়ন্ত অবস্থাতেই দিক পরিবর্তন করে ঘোড়ার উপর বসলে সুপার ম্যানও মাইন্ড খাবে।

বাপ্পী এর পর আলীরাজের কাছে তার কাহিনী বর্ণনা শুরু করলো। ফ্ল্যাশব্যাকে বাপ্পীর এন্ট্রি দেখে প্রথমে ভাবছিলাম সে কোনো মাফিয়া টাফিয়া হবে। মনে হয় ডিরেক্টর সাব এক শটের জন্য ভুলেই গিয়েছিল বাপ্পী মাফিয়া কিংবা ডন না। পরে যখন তার মনে পড়লো বাপ্পী তো ডন কিংবা মাফিয়া না। তাই এবার নিপুন কে আনলেন তার বোন হিসেবে। নিপুন দেখি আরেক চীজ। সবসময় এ্যাপ্রোন পরা তিন চারটা ডাক্তার আর দুইটা নার্স নিয়া ঘোরে। বুঝলাম না চামচা বা সখির বদলে সে একেবারে হাসপাতালে ডাক্তার নার্স নিয়া ঘোরে ক্যান? বাপ্পীর কথা শুনে মনে হল তাদের বাবা নিপুনের জন্য ডাক্তার রেখে দিয়েছেন। যেন ডাক্তার রা বাজারের খেলনা জিনিস তাই কিনে এনে রেখেছেন।

  আমাদের নায়িকা ববি গাড়ি নিয়ে গ্রামের ভিতর ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। সেই কারনে বাপ্পী নায়িকা কে ধরে এনে বিচার ডেকেছে। বিচারে  নায়িকার মা নূতন কে পরিচালক ভুল করে নায়িকার পোশাক পরিয়ে দিয়েছে সম্ভবত। দর্শক নায়িকাকে  দেখে না চিল্লায়ে নায়িকার মা কে দেখে চিল্লায়। বিচার শেষে নায়িকা আর নায়িকার মা মাঠের ভিতর পানির মাঝে আছাড় খাওয়া শুরু করলো আর তখনই শুরু হল "জলের কুমীর ভাইসা গেছে পাতে"
এই ব্যাটারে পানিতে চুবাইয়া শেখানো উচিত জল আর পানি এক জিনিস। এই গানের অত্যাচার শেষ হওয়ার ২০সেকেন্ডের মাঝে শুরু হল  "রুপের মাইয়া একবার চাইয়া গো ভাব লাগাইয়া পরান কাড়িলো"
কোনোমতে এই গানের অত্যাচারও সহ্য করলাম।

দ্বিতীয় গান শেষ হওয়ার পর ববিরে দেখলাম গ্রামের খোলা পুকুরে গোসল করছে (থাক ড্রেসের কথা আর কইলাম না) আর শয়ে শয়ে চেংড়া পুলাপাইন তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট ফোন নিয়ে সেইটা ভিডিও করছে। একটা মেয়ে গ্রামের খোলা পুকুরে এই ড্রেস পরে গোসল করতে পারে তা নিশ্চিত ট্রেডমার্ক গাঁজাখোরের মাথা থেকে বেরিয়েছে। আর সেই গোসল করার দৃশ্য শয়ে শয়ে ছেলে ভিডিও করছে, নায়িকা সেদিকে তাকিয়েও দেখছে না এইটা নিশ্চিত গাঁজাখোর এলিয়েনের মাথা থেকে বেরিয়েছে। কারন মানুষের বুদ্ধির লেভেল এত নিচে নামা সম্ভব না। এতক্ষন সব ঠিকই ছিল, যেই বাপ্পী পুকুর পাড়ে এলো তখনই ববি তার ইজ্জত নিয়ে সতর্ক হলো।
শত শত পোলাপাইন ভিডিও করছে তাতে কোনো চ্যাতব্যাত নাই আর নায়কের আগমনেই ইজ্জত কা সাওয়াল। ববি বাপ্পী কে শিক্ষা দেয়ার জন্য মাজারে গেল ফকির বাবার কাছে। ফকির বাবার মাজারে আবার গান "তোমরা একতারা বাইজাইও না"। পরপর তিনটা গানে মাথা হ্যাং হইয়া গেল।
কিন্তু ববিরে দেইখা মনে হইলো মাজারে সে কামে আসেনাই, ড্যান্স দিতে আইছে। ঘুইরা ফিরা বাবার কাছে যায় আবার ড্যান্স দেয়। সে এক এপিক দৃশ্য। বাবার কাছ থেকে কি না কি ওষুধ এনে সেটা দিয়ে পায়েস বানিয়ে বাপ্পীকে খাওয়াতে গেল। উল্টা নিজেই খেয়ে কান দিয়ে ধোয়া বের করতে লাগলো। কি বিস্ফোরক পায়েস রে বাবা! এইবার শুরু হল গান। বারো মিনিটের ব্যবধানে চারটা গান। ডিরেক্টরের নিশ্চিত ডায়ারিয়ার মতো গানরিয়া হয়েছে।

একটু পর দেখা গেল নিপুন চুল আচড়াতে আচড়াতে চিরুনি তে চুল লাগিয়ে ফেলেছে আর তাই দেখে চিক্কুর দিয়ে কাঁদছে। বাপ্পী জিজ্ঞাসা করলো, "কি হয়েছে চাঁদ কি হয়েছে?" নিপুন বলল, "চুউউল" :-P
নিপুনের এই চুল পড়ার জন্য বাপ্পী সেই ব্যাটাকে ধরলো যে ব্যাটা তারে তিব্বত কদুর তেল দিয়েছিল। চামের উপ্রে ডিরেক্টর সাব তিব্বত কদূর তেল রে পঁচায়া দিলো। বাপ্পী সেই দোকানদারের মাথা ন্যাড়া করে দিল। আর তখন কই থিকা একটা লবণের বস্তা হাজির হইয়া গান গাওয়া শুরু করলো। এতটুকু দেখে নিজের চুলই সেই কদূর তেল মেখে ছিড়তে ইচ্ছা করছিল। আঠারো মিনিটের মাঝে ৫টা গান দিয়া দিছে। তাও একেকটা গান শুনলে প্রেশার বাইড়া যায়। শেষ পর্যন্ত আধাঘন্টার ভিতর ৬টা গান দেখিয়ে তার ডায়রিয়া সারলো।
এই সিনেমায় চিকন মতো একটা কমেডিয়ান রে দেখলাম। ও নায়কের লগেও থাকে নায়িকার লগেও থাকে। এই ব্যাটারে দুধভাত বানায়া থুইছে দেখি। নাহয় পরিচালক ভুলে গিয়েছিল এই চিকনা কার নায়ক না নায়িকার চামচা।
এই সিনেমায় যেসব চ্যালা প্যালা ব্যবহার করা হয়েছে সেইগুলা একেবারে ইউনিফর্ম পরা। একবার মনে হল তারা সবাই আর্মড পুলিশের ড্রেস ধার করে পরছে আরেকবার তারা RAB এর পোশাক ভাড়া করে পরছে। প্রত্যেকটা ইউনিফর্মই কোনো না কোনো বাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ন।

এদিকে নিপুন ম্যাডামের নাম তো আসমানের চাঁদ। তিনি রাস্তা দিয়ে ডাক্তার আর নার্সের দল নিয়ে লংমার্চ করে। লংমার্চ করতে করতে ঘোড়সওয়ার ভিলেনরা চাঁদ কে আক্রমন করে আর তখনই আকাশ থেকে আকাশ নেমে চাঁদ কে রক্ষা করে। নিউটন আইনস্টাইনের তত্ত্বের চেয়েও বাংলা সিনেমার এ তত্ত্ব শক্তিশালী। নায়িকা বিপদে পড়লে নায়ক আসমান থেকে পড়বে।

এক পর্যায়ে দেখলাম পুলিশের সাথে মারামারি করছে বাপ্পী। এতে নিজেদের গুলিতেই চারটা পুলিশ মারা গেল। আর শেষে মিশা এসে বাপ্পী কে খুনি বানানোর জন্য নিজেই পুলিশ কে গুলি করে মারলো। চিরকাল সিনেমায় দেখে এলাম পিস্তলে খুনির ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকে আর এইখানে ফাঁসি হল বাপ্পীর। এই ফাঁসির আসামি কে আলিরাজ প্যারোলে মুক্ত করে মি. টয়োটা বানালো। এই টয়োটা ববিদের বাড়িতে ঢুকলো। কিন্তু সেখানে ঢুকে ববির সাথে রোমান্স করার চেয়ে ববির মায়ের সাথে বেশি রোমান্স করলো। পরিচালক এবারও ববির চেয়ে ছোট পোশাক পরাচ্ছেন তার মা কে। আমি এইবার একদম সিওর সব পোশাক নায়িকার জন্য বানানো হয়েছিল এবং সেটাই নায়িকার মাকে পরানো হচ্ছে।

কিছু জগাখিচুড়ি মার্কা পাগলামীর পর ববি জানতে পারলো টয়োটাই সূর্য(বাপ্পীর নাম ছিল সূর্য)। এই সিনেমায় ববির ভূমিকা কি সেইটাই বুঝলাম না। হঠাত হঠাত পর্দায় উপস্থিত হয় কিন্তু কোনো কাজ নাই। পুরাই আকাইম্মা। এতক্ষন সে টয়োটার সাথে রোমান্স করছিল, যখন জানলো সে সূর্য তখন সে সূর্যের প্রেমে পড়লো। কেন পড়লো বুঝা গেল না। ববি তার মা কে বলল টয়োটাই সূর্য। বুঝলাম না টয়োটার যদি কোনো কামই না থাকে তবে ক্যান টয়োটা চরিত্রের আগমন হলো? বাংলা সিনেমার ফর্মুলা অনুযায়ী শেষ দৃশ্যে ভিলেন বনাম নায়ক মারামারি হলো এবং ভিলেন মরে সাফ হয়ে গেল। যাক কোমোমতে একটা সিনেমার অত্যাচার হজম করলাম।

সিনেমার কালার ক্যারেকশনের ঠিক নাই। পুরা সিনেমাই অন্ধকার্। আবার একশন দৃশ্যে অদৃশ্য তার দ্বারা হাস্যকর উড়াউড়ির চেষ্টা করা হয়েছে। এই উড়াউড়ি ফিজিক্সের সব সূত্র কে হার মানিয়েছে। আবার উড়ন্ত ব্যক্তিদের শার্টের পেছনের কলার পিরামিডের মতো উচু হয়ে থাকে। এই সিনেমার পরিচালক গাঁঞ্জাখোরই নয়, অসুস্থ মস্তিষ্কের। সে ববির ছবিকে ফটোশপ করে অর্ধনগ্ন পোস্টার বানিয়েছে। এইসব পরিচালক যতদিন থাকবে ততদিন আমাদের সিনেমা মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না।

 
Tricks and Tips