অগ্নি (মুভি রিভিউ)

যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, তাই শঙ্কা ছিল সিনেমা হলে অধিকাংশই জোড়ায় জোড়ায় থাকবে । তাই বন্ধুকে বোরকা পরিয়ে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বন্ধুকে এই..

এরশাদোলজি (রম্য)

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।

ফেসবুকে প্র্তারনার হাত থেকে সতর্কতা

আপনার অনেক পরিচিত কারো ফেইক আইডি খুলে আপনাকে হয়ত ফাদে ফেলানো হবে, আপনার গার্লফ্রেন্ড, আপনার বন্ধু সেজে আপনাকে ফাদে ফেলানো হবে। আর লুল বালক হলে তো কথায়ই নেই, মিষ্টি কথাতেই আপনার ঘুম হারাম করে দেবে।

ইশি (ছোটগল্প)

বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে।

আজব প্রশ্নের গজব উত্তর

প্রশ্নঃ দেশে জনসংখ্যা কমানোর জন্য কি কি করা যায়? উত্তরঃ বিবাহ করা থেকে নারী পুরুষ কে বিরত থাকার জন্য উদবুদ্ধ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা যায়। বিছানা এক হলেই মহামারী দেখা দেবে এমন আতঙ্ক ছড়ানো যায়

বাপ্পী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাপ্পী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৪

আই ডোন্ট কেয়ার | আড়াই ঘন্টার অত্যাচার | মুভি রিভিউ

মুক্তির আগে থেকেই ববির অর্ধনগ্ন একটা পোস্টারের জন্য "আই ডোন্ট কেয়ার" সিনেমাটি আলোচনায় ছিল। ববির দাবী পরিচালক ফটোশপ করে এই পোস্টার বানিয়েছেন। সিনেমায় অবশ্য পোস্টারের দৃশ্যটি পাওয়া যায়নি। হলে গিয়েও পোস্টার দেখে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ নিয়ে ঢুকে গেলাম সিনেমা দেখতে। ভীড়ের ভিতর অনেক কষ্টে একটা টিকিট জোগাড় করলাম। এই প্রথম দেখলাম শুধু পরিচালক এবং সিনেমার নাম দিয়ে সিনেমা শুরু হল। অন্য কোনো কলাকুশলীর নাম নেই।  সিনেমার মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছে বাপ্পী, ববি, নিপুন, নূতন, প্রবীর মিত্র, মিশা সওদাগর।

শুরুতেই দেখা গেল বাপ্পীকে ফাঁসির রায় দেয়া হল। রায়ের পর পুলিশ অনেকগুলো "প্রাইভেট কার(!)" এবং একটি "ঘোড়া(!)" দিয়ে বাপ্পী কে নিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত পুলিশ রা এখন আপডেট হয়ে আসামী নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কালার ও মডেলের প্রাইভেট কার ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু সামনে একটা ঘোড়ায় পুলিশ কে দেখে মনে হলো অলিম্পিকের কোনো একটা রেস হচ্ছে যেখানে প্রতিযোগী ঘোড়া ও প্রাইভেট কার। কিন্তু যেই রাস্তা আর যেই এলাকা দিয়ে বাপ্পী কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল প্রত্যেক সিনেমায় সেই একই জায়গা দেখে চোখ পঁচে যাচ্ছে। কুঁয়োর ব্যাঙও তো এসব দেখে লজ্জা পাবে। এই পর্যায়ে বাপ্পী পুলিশ কে মেরে দৌড় শুরু করলো। তার পেছন থেকে প্রাইভেট কার গুলো হাওয়া হয়ে মোটর সাইকেলের আগমন ঘটলো। কিন্তু বাপ্পীকে ধরতে মোটর সাইকেল গুলোর বেশ বেগ পেতে হলো। এইবার দেখা গেল বাপ্পী যেই উড়ে উড়ে মোটর সাইকেল চালক কে লাথি মারছে তার ঠিক আগেই চলন্ত মোটর সাইকেল গুলো একেবারে স্থির হয়ে আছে। সবশেষে বাপ্পী ঘোড়ার সামনে দিয়ে অদৃশ্য তারে ঝুলে ঝুলে গিয়ে ঘোড় সওয়ার পুলিশ কে লাথি মারলো, লাথি খেয়ে পুলিশ কই গেল জানিনা কিন্তু বাপ্পী একেবারে ঘোড়ার ড্রাইভিং সিটে বসে গেল। কি তেলেসমাতি কারবার! ঘোড়ার সামনে দিয়ে উড়ে এসে উড়ন্ত অবস্থাতেই দিক পরিবর্তন করে ঘোড়ার উপর বসলে সুপার ম্যানও মাইন্ড খাবে।

বাপ্পী এর পর আলীরাজের কাছে তার কাহিনী বর্ণনা শুরু করলো। ফ্ল্যাশব্যাকে বাপ্পীর এন্ট্রি দেখে প্রথমে ভাবছিলাম সে কোনো মাফিয়া টাফিয়া হবে। মনে হয় ডিরেক্টর সাব এক শটের জন্য ভুলেই গিয়েছিল বাপ্পী মাফিয়া কিংবা ডন না। পরে যখন তার মনে পড়লো বাপ্পী তো ডন কিংবা মাফিয়া না। তাই এবার নিপুন কে আনলেন তার বোন হিসেবে। নিপুন দেখি আরেক চীজ। সবসময় এ্যাপ্রোন পরা তিন চারটা ডাক্তার আর দুইটা নার্স নিয়া ঘোরে। বুঝলাম না চামচা বা সখির বদলে সে একেবারে হাসপাতালে ডাক্তার নার্স নিয়া ঘোরে ক্যান? বাপ্পীর কথা শুনে মনে হল তাদের বাবা নিপুনের জন্য ডাক্তার রেখে দিয়েছেন। যেন ডাক্তার রা বাজারের খেলনা জিনিস তাই কিনে এনে রেখেছেন।

  আমাদের নায়িকা ববি গাড়ি নিয়ে গ্রামের ভিতর ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। সেই কারনে বাপ্পী নায়িকা কে ধরে এনে বিচার ডেকেছে। বিচারে  নায়িকার মা নূতন কে পরিচালক ভুল করে নায়িকার পোশাক পরিয়ে দিয়েছে সম্ভবত। দর্শক নায়িকাকে  দেখে না চিল্লায়ে নায়িকার মা কে দেখে চিল্লায়। বিচার শেষে নায়িকা আর নায়িকার মা মাঠের ভিতর পানির মাঝে আছাড় খাওয়া শুরু করলো আর তখনই শুরু হল "জলের কুমীর ভাইসা গেছে পাতে"
এই ব্যাটারে পানিতে চুবাইয়া শেখানো উচিত জল আর পানি এক জিনিস। এই গানের অত্যাচার শেষ হওয়ার ২০সেকেন্ডের মাঝে শুরু হল  "রুপের মাইয়া একবার চাইয়া গো ভাব লাগাইয়া পরান কাড়িলো"
কোনোমতে এই গানের অত্যাচারও সহ্য করলাম।

দ্বিতীয় গান শেষ হওয়ার পর ববিরে দেখলাম গ্রামের খোলা পুকুরে গোসল করছে (থাক ড্রেসের কথা আর কইলাম না) আর শয়ে শয়ে চেংড়া পুলাপাইন তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট ফোন নিয়ে সেইটা ভিডিও করছে। একটা মেয়ে গ্রামের খোলা পুকুরে এই ড্রেস পরে গোসল করতে পারে তা নিশ্চিত ট্রেডমার্ক গাঁজাখোরের মাথা থেকে বেরিয়েছে। আর সেই গোসল করার দৃশ্য শয়ে শয়ে ছেলে ভিডিও করছে, নায়িকা সেদিকে তাকিয়েও দেখছে না এইটা নিশ্চিত গাঁজাখোর এলিয়েনের মাথা থেকে বেরিয়েছে। কারন মানুষের বুদ্ধির লেভেল এত নিচে নামা সম্ভব না। এতক্ষন সব ঠিকই ছিল, যেই বাপ্পী পুকুর পাড়ে এলো তখনই ববি তার ইজ্জত নিয়ে সতর্ক হলো।
শত শত পোলাপাইন ভিডিও করছে তাতে কোনো চ্যাতব্যাত নাই আর নায়কের আগমনেই ইজ্জত কা সাওয়াল। ববি বাপ্পী কে শিক্ষা দেয়ার জন্য মাজারে গেল ফকির বাবার কাছে। ফকির বাবার মাজারে আবার গান "তোমরা একতারা বাইজাইও না"। পরপর তিনটা গানে মাথা হ্যাং হইয়া গেল।
কিন্তু ববিরে দেইখা মনে হইলো মাজারে সে কামে আসেনাই, ড্যান্স দিতে আইছে। ঘুইরা ফিরা বাবার কাছে যায় আবার ড্যান্স দেয়। সে এক এপিক দৃশ্য। বাবার কাছ থেকে কি না কি ওষুধ এনে সেটা দিয়ে পায়েস বানিয়ে বাপ্পীকে খাওয়াতে গেল। উল্টা নিজেই খেয়ে কান দিয়ে ধোয়া বের করতে লাগলো। কি বিস্ফোরক পায়েস রে বাবা! এইবার শুরু হল গান। বারো মিনিটের ব্যবধানে চারটা গান। ডিরেক্টরের নিশ্চিত ডায়ারিয়ার মতো গানরিয়া হয়েছে।

একটু পর দেখা গেল নিপুন চুল আচড়াতে আচড়াতে চিরুনি তে চুল লাগিয়ে ফেলেছে আর তাই দেখে চিক্কুর দিয়ে কাঁদছে। বাপ্পী জিজ্ঞাসা করলো, "কি হয়েছে চাঁদ কি হয়েছে?" নিপুন বলল, "চুউউল" :-P
নিপুনের এই চুল পড়ার জন্য বাপ্পী সেই ব্যাটাকে ধরলো যে ব্যাটা তারে তিব্বত কদুর তেল দিয়েছিল। চামের উপ্রে ডিরেক্টর সাব তিব্বত কদূর তেল রে পঁচায়া দিলো। বাপ্পী সেই দোকানদারের মাথা ন্যাড়া করে দিল। আর তখন কই থিকা একটা লবণের বস্তা হাজির হইয়া গান গাওয়া শুরু করলো। এতটুকু দেখে নিজের চুলই সেই কদূর তেল মেখে ছিড়তে ইচ্ছা করছিল। আঠারো মিনিটের মাঝে ৫টা গান দিয়া দিছে। তাও একেকটা গান শুনলে প্রেশার বাইড়া যায়। শেষ পর্যন্ত আধাঘন্টার ভিতর ৬টা গান দেখিয়ে তার ডায়রিয়া সারলো।
এই সিনেমায় চিকন মতো একটা কমেডিয়ান রে দেখলাম। ও নায়কের লগেও থাকে নায়িকার লগেও থাকে। এই ব্যাটারে দুধভাত বানায়া থুইছে দেখি। নাহয় পরিচালক ভুলে গিয়েছিল এই চিকনা কার নায়ক না নায়িকার চামচা।
এই সিনেমায় যেসব চ্যালা প্যালা ব্যবহার করা হয়েছে সেইগুলা একেবারে ইউনিফর্ম পরা। একবার মনে হল তারা সবাই আর্মড পুলিশের ড্রেস ধার করে পরছে আরেকবার তারা RAB এর পোশাক ভাড়া করে পরছে। প্রত্যেকটা ইউনিফর্মই কোনো না কোনো বাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ন।

এদিকে নিপুন ম্যাডামের নাম তো আসমানের চাঁদ। তিনি রাস্তা দিয়ে ডাক্তার আর নার্সের দল নিয়ে লংমার্চ করে। লংমার্চ করতে করতে ঘোড়সওয়ার ভিলেনরা চাঁদ কে আক্রমন করে আর তখনই আকাশ থেকে আকাশ নেমে চাঁদ কে রক্ষা করে। নিউটন আইনস্টাইনের তত্ত্বের চেয়েও বাংলা সিনেমার এ তত্ত্ব শক্তিশালী। নায়িকা বিপদে পড়লে নায়ক আসমান থেকে পড়বে।

এক পর্যায়ে দেখলাম পুলিশের সাথে মারামারি করছে বাপ্পী। এতে নিজেদের গুলিতেই চারটা পুলিশ মারা গেল। আর শেষে মিশা এসে বাপ্পী কে খুনি বানানোর জন্য নিজেই পুলিশ কে গুলি করে মারলো। চিরকাল সিনেমায় দেখে এলাম পিস্তলে খুনির ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকে আর এইখানে ফাঁসি হল বাপ্পীর। এই ফাঁসির আসামি কে আলিরাজ প্যারোলে মুক্ত করে মি. টয়োটা বানালো। এই টয়োটা ববিদের বাড়িতে ঢুকলো। কিন্তু সেখানে ঢুকে ববির সাথে রোমান্স করার চেয়ে ববির মায়ের সাথে বেশি রোমান্স করলো। পরিচালক এবারও ববির চেয়ে ছোট পোশাক পরাচ্ছেন তার মা কে। আমি এইবার একদম সিওর সব পোশাক নায়িকার জন্য বানানো হয়েছিল এবং সেটাই নায়িকার মাকে পরানো হচ্ছে।

কিছু জগাখিচুড়ি মার্কা পাগলামীর পর ববি জানতে পারলো টয়োটাই সূর্য(বাপ্পীর নাম ছিল সূর্য)। এই সিনেমায় ববির ভূমিকা কি সেইটাই বুঝলাম না। হঠাত হঠাত পর্দায় উপস্থিত হয় কিন্তু কোনো কাজ নাই। পুরাই আকাইম্মা। এতক্ষন সে টয়োটার সাথে রোমান্স করছিল, যখন জানলো সে সূর্য তখন সে সূর্যের প্রেমে পড়লো। কেন পড়লো বুঝা গেল না। ববি তার মা কে বলল টয়োটাই সূর্য। বুঝলাম না টয়োটার যদি কোনো কামই না থাকে তবে ক্যান টয়োটা চরিত্রের আগমন হলো? বাংলা সিনেমার ফর্মুলা অনুযায়ী শেষ দৃশ্যে ভিলেন বনাম নায়ক মারামারি হলো এবং ভিলেন মরে সাফ হয়ে গেল। যাক কোমোমতে একটা সিনেমার অত্যাচার হজম করলাম।

সিনেমার কালার ক্যারেকশনের ঠিক নাই। পুরা সিনেমাই অন্ধকার্। আবার একশন দৃশ্যে অদৃশ্য তার দ্বারা হাস্যকর উড়াউড়ির চেষ্টা করা হয়েছে। এই উড়াউড়ি ফিজিক্সের সব সূত্র কে হার মানিয়েছে। আবার উড়ন্ত ব্যক্তিদের শার্টের পেছনের কলার পিরামিডের মতো উচু হয়ে থাকে। এই সিনেমার পরিচালক গাঁঞ্জাখোরই নয়, অসুস্থ মস্তিষ্কের। সে ববির ছবিকে ফটোশপ করে অর্ধনগ্ন পোস্টার বানিয়েছে। এইসব পরিচালক যতদিন থাকবে ততদিন আমাদের সিনেমা মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না।

শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪

কি দারুন দেখতে: সিনেমা দেখে দর্শক তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারবেন (মুভি রিভিউ)

প্রথম শো শুরু হওয়ার বেশ কিছুক্ষন আগেই হলে চলে গিয়েছিলাম। শীতের দিনে প্রথম শো তে তেমন একটা দর্শক হয়না। প্রায় ফাঁকা হলেই দেখতে ঢুকে গেলাম সিনেমা "কি দারুন দেখতে" ।
আব্দুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্য এবং ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় বাপ্পী ও মাহী অভিনীত ছবি "কি দারুন দেখতে"

কাহিনী সংক্ষেপ: 
ঢাকায় এসেই দাদা মারা যায় ছোট ছেলে আপনের। ফলে তার আশ্রয় হয় পেশাদার এক বাটপারের ঘরে। বাটপার দম্পতি নি:সন্তান হওয়ায় আপন কে তাদের নিজের সন্তানের মত লালন পালন করে। আপনও তাদের বাবা মা বলেই ডাকতে শুরু করে।  পরবর্তীতে এই আপনই বড় হয়ে আমাদের নায়ক বাপ্পী তে পরিণত হয়। বাপ্পীর বাটপার বাবা বাপ্পীকে বাটপারি করে এক নামকরা  কলেজে ভর্তি করিয়ে দেয়।

কলেজের দুই ছাত্র গ্রুপের নেতা সাগর এবং আগুন। নির্বাচনে আগুন কে প্রতিহত করার জন্য সাগর কলেজে অস্ত্রের মহড়া দেয়। এখানে বলে রাখা ভালো সাগরের "লুক" টা ভিলেন শব্দের সাথে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে যায়। কিন্তু তার আঞ্চলিক টানে শুদ্ধ ভাষা টা একটু বেমানানই লাগছিল। সাগর যতই অস্ত্রের মহড়া দিক আগুনের কাছে সে পরাস্ত হয় এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। এই আগুনই সিনেমার অন্যতম মূখ্য চরিত্র।

সিনেমায় মাহী কে দেখা যায় তার চেহারা নিয়ে সে বড়ই ঝামেলার মাঝে আছে। সুন্দরী হওয়ায় দলে দলে ছেলেরা তার পিছু নেয়। ছেলেদের উতপাত থেকে বাচতে সে সারা গায়ে কালি মেখে কালো মেয়ের রুপ ধারন করে। তার কালো চেহারা নিয়ে বেশ কমেডী লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে বাপ্পীর মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিতসার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে ৩০লক্ষ টাকা লাগবে। কিন্তু টাকা জোগাড়ের কোনো পথ না পেয়ে বাপ্পীও বাটপারি করে টাকা জোগাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বড়লোকের মেয়েদের সাথে প্রেম করে তাদের বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্ল্যান করে। বাপ্পীর এক সাথে তিন চারটা মেয়ের সাথে প্রেম করা মাহীও লক্ষ্য করে। ইতোমধ্যে বাপ্পী প্রথম মেয়ের বাবার কাছ থেকে ১০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বিপত্তি বাধে দ্বিতীয় মেয়ের বাবার কাছ থেকে টাকা হাতানোর সময়। বাপ্পীর অতিমাত্রায় ইমোশনাল সংলাপে মেয়ের বাবাই ইমোশনাল হয়ে পড়ে এবং বাপ্পীর সাথে তার মেয়ের বিয়ে দিতে চায়। অবস্থা বেগতিক দেখে বাপ্পী এবং বাপ্পীর বাবা সেখান থেকে কেটে পড়ে। পুরো বিষয় টা কালো মেয়ে মাহী লক্ষ্য করে। মাহী বাপ্পীদের কাছে টাকার ভাগ চায়। পুলিশের ভয় দেখানো তে মাহী কে বাপ্পীরা তাদের পার্টনার করে নেয়।

এবার মাহীই বাটপারি করার জন্য মক্কেল জোগাড় করে। দুদকের কর্মকর্তা সেজে তারা কলেজের প্রিন্সিপালের বাসায় হানা দেয় এবং ২৫লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এদিকে মাহীকে কালো মেকআপ ছাড়া অবস্থায় দেখে বাপ্পী মাহীর প্রেমে পড়ে যায় এবং মাহীর পিছনে ঘুরতে থাকে। কিন্তু মাহী চিট বাটপার বাপ্পী কে পাত্তা দেয় না। সে ভাবে মাহীকেও সে ধোকা দেবে ।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সাগর আগুনের উপর হামলা করে। মাহীই আগুন কে গুলির হাত থেকে বাচায়। আগুনও মাহী কে দেখে মাহীর প্রেমে পড়ে যায়। সে মাহী কে তার ভালোবাসার কথা বলে। মাহী কাটা দিয়ে কাটা তোলার জন্য আগুন কে বলে সে বাপ্পী  কে ভালোবাসে। একথা শোনা মাত্রই আগুন বাপ্পীর  কাছে  গিয়ে মাহীকে ভিক্ষা চায়। এ কথাও বাপ্পী  কে মনে করিয়ে দেয় "তোর তো অনেক মেয়েই আছে। মাহীকে ছেড়ে দে" । বাপ্পী  এতে রাজী না হওয়ায় বাপ্পীর সাথে আগুনের মারামারি হয়। বাগানের বাঁশের বেড়ার সাথে বাপ্পীর চোখে আঘাত লাগে। এসময় আগুন লক্ষ্য করে বাপ্পীর গলায় একটা লকেট। যেই লকেট টা সে ছোটবেলায় তার বন্ধুকে দিয়েছিল আগুনের জীবন বাচানোর জন্য। আগুন বুঝতে পারে বাপ্পীই তার ছোটবেলার বন্ধু। এবার সে নিজেই মরিয়া হয়ে যায় বাপ্পীকে বাচানোর জন্য। সিনেমার এখানে এসে কাহিনী বেশ জমে ওঠে।

হাসপাতালে চিকিতসাকালীন অবস্থায় মাহী বাপ্পীকে ভালোবেসে ফেলে। পুলিশ কেস নিতে হাসপাতালে আসলেও বাপ্পী কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেনা। এতে আগুন রেগে যায়। সে হাসপাতালে এসে বাপ্পীর মুখে বালিশ চেপে ধরে পরে বাপ্পীকে পানি খাওয়ায়। তার আক্রোশ কেন বাপ্পী তার নামে অভিযোগ করেনি ।  এদিকে আগুনের ভাই মিশা সওদাগর এবং মাহীর ভাই ওমর সানী মাহী এবং আগুনের বিয়ে ঠিক করে। আগুন যদিও মাহীকে ভালোবাসে তবুও সে বিয়েতে রাজী হয়না বন্ধুর ভালোবাসার জন্য। মিশা হাসপাতালে গুন্ডা পাঠায় বাপ্পীকে মেরে ফেলার জন্য, কিন্তু এখানেও আগুন এসে বাপ্পী এবং মাহী কে বাচায়।

সিনেমার শেষ দিকে ওমর সানী ভাড়া করা গুন্ডা নিয়ে যায় তার বোন কে উদ্ধার করার জন্য এবং বাপ্পী কে মারার জন্য। বাপ্পী অন্ধ অবস্থাতেই মারামারি করে। আগুন এসে বাপ্পীকে সহযোগীতা করে। এক পর্যায়ে বাপ্পীকে বাচাতে গিয়ে আগুন গুলিবিদ্ধ হয়। সে তার চোখ দুটো বাপ্পী কে দিয়ে যায়। আগুনের চোখে দেখতে পায় বাপ্পী মাহীকে। বন্ধুর চোখে দেখতে পায় বাপ্পী দুনিয়া।

সিনেমাটিতে প্রেম ভালোবাসার পাশাপাশি বন্ধুর প্রতি ত্যাগ ভালোবাসা বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে।

যা ভালো লেগেছে:
সিনেমাটার কাহিনীর মাঝে বেশ বৈচিত্র আছে যা অন্য বাংলা সিনেমায় পাওয়া যায় না। পুরো সিনেমায় আগুনের সংলাপ এবং নতুন হিসেবে অভিনয় ছিল অনবদ্য। এক কথায় আগুনের উপস্থিতি সিনেমাটাকে উপভোগ্য করে তুলেছে। বাপ্পীর কাছে মাহীকে চাইতে আসা, হাসপাতালে বাপ্পীর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরার পর পানি খাওয়ানো, নিজের ভাইয়ের গুন্ডাদের হাত থেকে বাপ্পী মাহীকে বাচানোর অভিনয় টুকু বেশ দারুন ছিল। ক্যামেরার কাজ ভালো ছিল। কমেডী দৃশ্য গুলোও বেশ মজার ছিল। একশন দৃশ্য গুলো তে অহেতুক ওড়াউড়ির চেষ্টা করা হয়নি এবং কেবল কিংবা ওয়্যার দেখা যায়নি। কালার ঠিকঠাকই লেগেছে।

যা ভালো লাগেনি:
ব্যক্তিগতভাবে সিনেমার গানগুলো আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি। তিনা, মিনা, শিলার সাথে প্রেম করে ধোকা দেয়ার পরও বেশ কয়েক বার বাপ্পীদের সাথে তাদের স্বাভাবিক ভাবে দেখা গেছে, যেন তাদের সাথে বাপ্পীর প্রেমই হয় নি। মাহী কে প্রথমে দেখা যায় কালো মেয়ে হিসেবে কলেজে আসতে। পরবর্তীতে সে স্বাভাবিক ভাবেই আসে। কিন্তু হুট করে একটা মেয়ে উধাও এবং আরেকটা মেয়ের আবির্ভাব দর্শকদের কাছে পরিষ্কার ছিল না। বেশ কিছু জায়গায় মাহীকে কুচকুচে কালো দেখা গেছে আবার কিছু জায়গায় মাহীকে স্বাভাবিক কালো দেখা গেছে। সহশিল্পীদের অভিনয় ও সংলাপ জোরালো ছিল না। এটা বাংলাদেশের সিনেমার চিরায়ত সমস্যা। আরেকটা সমস্যা হল উতসুক জনতা নিয়ন্ত্রন করতে না পারা। হাসপাতালে যখন গুন্ডারা বাপ্পীকে মারার জন্য অস্ত্র নিয়ে আসে তখন ডাক্তার কিংবা নার্সদের আতঙ্ক হওয়ার মত কোনো দৃশ্য দেখা যায় নি। উচিত ছিল তাদের কিঞ্চিত আতঙ্ক হওয়ার দৃশ্য ধারন করা।
শেষ দৃশ্যে যখন আগুন গুলিবিদ্ধ হয় তখন সবাই তার সংলাপ শুনছিল এবং চিতকার করে কাদছিল। এবং সেখানেই আগুন মারা যায়। অথচ সেখানে বেশ কয়েকটি মাইক্রো ছিল। চাইলেই মাইক্রোর ভিতর তার মারা যাওয়ার দৃশ্য ধারন করা যেত। তার সংলাপও দেয়া হত, তাকে বাচানোর চেষ্টাও করা হত।

সিনেমা-কি দারুন দেখতে
কাহিনী-ওয়াজেদ আলী সুমন
চিত্রনাট্য ও -  আবদুল্লাহ জহির বাবু
অভিনয়ে- বাপ্পী, মাহী, মিশা সওদাগর, ওমর সানী, শাহরিয়াজ, ডা: এজাজ প্রমুখ।
সঙ্গীত পরিচালক- আহমেদ হুমায়ূন
গীতিকার- সুদীপ কুমার দীপ
মুক্তি- ৩১জানুয়ারী ২০১৪

মন্তব্য:
সব দিক বিচারে বলা যায় সিনেমা টা বেশ ভালো। দর্শক দেখলে হতাশ হবে না। বিনোদনের উদ্দেশ্যে দেখলে অবশ্যই বিনোদন পাওয়া যাবে। সবাইকে সুযোগ পেলে সিনেমাটা দেখার জন্য আমন্ত্রন জানাচ্ছি। :-) আশা করি ভবিষ্যতে আরো ভালো সিনেমা দেখা যাবে

 
Tricks and Tips