অগ্নি (মুভি রিভিউ)
যেহেতু ভ্যালেন্টাইনস ডে, তাই শঙ্কা ছিল সিনেমা হলে অধিকাংশই জোড়ায় জোড়ায় থাকবে । তাই বন্ধুকে বোরকা পরিয়ে হলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বন্ধুকে এই..
এরশাদোলজি (রম্য)
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারীদরদীয়া প্রেমিক পুরুষ আলহাজ হোমিওপ্যাথিক এরশাদ ওরফে পল্টিবাদি লাফাইন্যায়ে ডিগবাজীকে নিয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। আজকের আলোচনা অজ্ঞানে বিজ্ঞানে সজ্ঞানী এরশাদ।
ফেসবুকে প্র্তারনার হাত থেকে সতর্কতা
আপনার অনেক পরিচিত কারো ফেইক আইডি খুলে আপনাকে হয়ত ফাদে ফেলানো হবে, আপনার গার্লফ্রেন্ড, আপনার বন্ধু সেজে আপনাকে ফাদে ফেলানো হবে। আর লুল বালক হলে তো কথায়ই নেই, মিষ্টি কথাতেই আপনার ঘুম হারাম করে দেবে।
ইশি (ছোটগল্প)
বিল্ডিং গুলোর ছুটে চলা খুব উপভোগ করছে ইশি। কিন্তু একটু পরেই বিল্ডিং গুলো দৌড় থামিয়ে দিল। এই জ্যাম একদম ভাললাগেনা ইশির। সবকিছু কে থামিয়ে দেয়। তবে পথের নোংড়া ছেলেমেয়ে গুলো জ্যাম কে খুব ভালবাসে।
আজব প্রশ্নের গজব উত্তর
প্রশ্নঃ দেশে জনসংখ্যা কমানোর জন্য কি কি করা যায়? উত্তরঃ বিবাহ করা থেকে নারী পুরুষ কে বিরত থাকার জন্য উদবুদ্ধ করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর বিছানা আলাদা করা যায়। বিছানা এক হলেই মহামারী দেখা দেবে এমন আতঙ্ক ছড়ানো যায়
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৫
আশিকি (মুভি রিভিউ)
বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৪
আই ডোন্ট কেয়ার | আড়াই ঘন্টার অত্যাচার | মুভি রিভিউ
মুক্তির আগে থেকেই ববির অর্ধনগ্ন একটা পোস্টারের জন্য "আই ডোন্ট কেয়ার" সিনেমাটি আলোচনায় ছিল। ববির দাবী পরিচালক ফটোশপ করে এই পোস্টার বানিয়েছেন। সিনেমায় অবশ্য পোস্টারের দৃশ্যটি পাওয়া যায়নি। হলে গিয়েও পোস্টার দেখে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ নিয়ে ঢুকে গেলাম সিনেমা দেখতে। ভীড়ের ভিতর অনেক কষ্টে একটা টিকিট জোগাড় করলাম। এই প্রথম দেখলাম শুধু পরিচালক এবং সিনেমার নাম দিয়ে সিনেমা শুরু হল। অন্য কোনো কলাকুশলীর নাম নেই। সিনেমার মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছে বাপ্পী, ববি, নিপুন, নূতন, প্রবীর মিত্র, মিশা সওদাগর।
শুরুতেই দেখা গেল বাপ্পীকে ফাঁসির রায় দেয়া হল। রায়ের পর পুলিশ অনেকগুলো "প্রাইভেট কার(!)" এবং একটি "ঘোড়া(!)" দিয়ে বাপ্পী কে নিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত পুলিশ রা এখন আপডেট হয়ে আসামী নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন কালার ও মডেলের প্রাইভেট কার ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু সামনে একটা ঘোড়ায় পুলিশ কে দেখে মনে হলো অলিম্পিকের কোনো একটা রেস হচ্ছে যেখানে প্রতিযোগী ঘোড়া ও প্রাইভেট কার। কিন্তু যেই রাস্তা আর যেই এলাকা দিয়ে বাপ্পী কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল প্রত্যেক সিনেমায় সেই একই জায়গা দেখে চোখ পঁচে যাচ্ছে। কুঁয়োর ব্যাঙও তো এসব দেখে লজ্জা পাবে। এই পর্যায়ে বাপ্পী পুলিশ কে মেরে দৌড় শুরু করলো। তার পেছন থেকে প্রাইভেট কার গুলো হাওয়া হয়ে মোটর সাইকেলের আগমন ঘটলো। কিন্তু বাপ্পীকে ধরতে মোটর সাইকেল গুলোর বেশ বেগ পেতে হলো। এইবার দেখা গেল বাপ্পী যেই উড়ে উড়ে মোটর সাইকেল চালক কে লাথি মারছে তার ঠিক আগেই চলন্ত মোটর সাইকেল গুলো একেবারে স্থির হয়ে আছে। সবশেষে বাপ্পী ঘোড়ার সামনে দিয়ে অদৃশ্য তারে ঝুলে ঝুলে গিয়ে ঘোড় সওয়ার পুলিশ কে লাথি মারলো, লাথি খেয়ে পুলিশ কই গেল জানিনা কিন্তু বাপ্পী একেবারে ঘোড়ার ড্রাইভিং সিটে বসে গেল। কি তেলেসমাতি কারবার! ঘোড়ার সামনে দিয়ে উড়ে এসে উড়ন্ত অবস্থাতেই দিক পরিবর্তন করে ঘোড়ার উপর বসলে সুপার ম্যানও মাইন্ড খাবে।
বাপ্পী এর পর আলীরাজের কাছে তার কাহিনী বর্ণনা শুরু করলো। ফ্ল্যাশব্যাকে বাপ্পীর এন্ট্রি দেখে প্রথমে ভাবছিলাম সে কোনো মাফিয়া টাফিয়া হবে। মনে হয় ডিরেক্টর সাব এক শটের জন্য ভুলেই গিয়েছিল বাপ্পী মাফিয়া কিংবা ডন না। পরে যখন তার মনে পড়লো বাপ্পী তো ডন কিংবা মাফিয়া না। তাই এবার নিপুন কে আনলেন তার বোন হিসেবে। নিপুন দেখি আরেক চীজ। সবসময় এ্যাপ্রোন পরা তিন চারটা ডাক্তার আর দুইটা নার্স নিয়া ঘোরে। বুঝলাম না চামচা বা সখির বদলে সে একেবারে হাসপাতালে ডাক্তার নার্স নিয়া ঘোরে ক্যান? বাপ্পীর কথা শুনে মনে হল তাদের বাবা নিপুনের জন্য ডাক্তার রেখে দিয়েছেন। যেন ডাক্তার রা বাজারের খেলনা জিনিস তাই কিনে এনে রেখেছেন।
আমাদের নায়িকা ববি গাড়ি নিয়ে গ্রামের ভিতর ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। সেই কারনে বাপ্পী নায়িকা কে ধরে এনে বিচার ডেকেছে। বিচারে নায়িকার মা নূতন কে পরিচালক ভুল করে নায়িকার পোশাক পরিয়ে দিয়েছে সম্ভবত। দর্শক নায়িকাকে দেখে না চিল্লায়ে নায়িকার মা কে দেখে চিল্লায়। বিচার শেষে নায়িকা আর নায়িকার মা মাঠের ভিতর পানির মাঝে আছাড় খাওয়া শুরু করলো আর তখনই শুরু হল "জলের কুমীর ভাইসা গেছে পাতে"
এই ব্যাটারে পানিতে চুবাইয়া শেখানো উচিত জল আর পানি এক জিনিস। এই গানের অত্যাচার শেষ হওয়ার ২০সেকেন্ডের মাঝে শুরু হল "রুপের মাইয়া একবার চাইয়া গো ভাব লাগাইয়া পরান কাড়িলো"
কোনোমতে এই গানের অত্যাচারও সহ্য করলাম।
দ্বিতীয় গান শেষ হওয়ার পর ববিরে দেখলাম গ্রামের খোলা পুকুরে গোসল করছে (থাক ড্রেসের কথা আর কইলাম না) আর শয়ে শয়ে চেংড়া পুলাপাইন তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট ফোন নিয়ে সেইটা ভিডিও করছে। একটা মেয়ে গ্রামের খোলা পুকুরে এই ড্রেস পরে গোসল করতে পারে তা নিশ্চিত ট্রেডমার্ক গাঁজাখোরের মাথা থেকে বেরিয়েছে। আর সেই গোসল করার দৃশ্য শয়ে শয়ে ছেলে ভিডিও করছে, নায়িকা সেদিকে তাকিয়েও দেখছে না এইটা নিশ্চিত গাঁজাখোর এলিয়েনের মাথা থেকে বেরিয়েছে। কারন মানুষের বুদ্ধির লেভেল এত নিচে নামা সম্ভব না। এতক্ষন সব ঠিকই ছিল, যেই বাপ্পী পুকুর পাড়ে এলো তখনই ববি তার ইজ্জত নিয়ে সতর্ক হলো।
শত শত পোলাপাইন ভিডিও করছে তাতে কোনো চ্যাতব্যাত নাই আর নায়কের আগমনেই ইজ্জত কা সাওয়াল। ববি বাপ্পী কে শিক্ষা দেয়ার জন্য মাজারে গেল ফকির বাবার কাছে। ফকির বাবার মাজারে আবার গান "তোমরা একতারা বাইজাইও না"। পরপর তিনটা গানে মাথা হ্যাং হইয়া গেল।
কিন্তু ববিরে দেইখা মনে হইলো মাজারে সে কামে আসেনাই, ড্যান্স দিতে আইছে। ঘুইরা ফিরা বাবার কাছে যায় আবার ড্যান্স দেয়। সে এক এপিক দৃশ্য। বাবার কাছ থেকে কি না কি ওষুধ এনে সেটা দিয়ে পায়েস বানিয়ে বাপ্পীকে খাওয়াতে গেল। উল্টা নিজেই খেয়ে কান দিয়ে ধোয়া বের করতে লাগলো। কি বিস্ফোরক পায়েস রে বাবা! এইবার শুরু হল গান। বারো মিনিটের ব্যবধানে চারটা গান। ডিরেক্টরের নিশ্চিত ডায়ারিয়ার মতো গানরিয়া হয়েছে।
একটু পর দেখা গেল নিপুন চুল আচড়াতে আচড়াতে চিরুনি তে চুল লাগিয়ে ফেলেছে আর তাই দেখে চিক্কুর দিয়ে কাঁদছে। বাপ্পী জিজ্ঞাসা করলো, "কি হয়েছে চাঁদ কি হয়েছে?" নিপুন বলল, "চুউউল" :-P
নিপুনের এই চুল পড়ার জন্য বাপ্পী সেই ব্যাটাকে ধরলো যে ব্যাটা তারে তিব্বত কদুর তেল দিয়েছিল। চামের উপ্রে ডিরেক্টর সাব তিব্বত কদূর তেল রে পঁচায়া দিলো। বাপ্পী সেই দোকানদারের মাথা ন্যাড়া করে দিল। আর তখন কই থিকা একটা লবণের বস্তা হাজির হইয়া গান গাওয়া শুরু করলো। এতটুকু দেখে নিজের চুলই সেই কদূর তেল মেখে ছিড়তে ইচ্ছা করছিল। আঠারো মিনিটের মাঝে ৫টা গান দিয়া দিছে। তাও একেকটা গান শুনলে প্রেশার বাইড়া যায়। শেষ পর্যন্ত আধাঘন্টার ভিতর ৬টা গান দেখিয়ে তার ডায়রিয়া সারলো।
এই সিনেমায় চিকন মতো একটা কমেডিয়ান রে দেখলাম। ও নায়কের লগেও থাকে নায়িকার লগেও থাকে। এই ব্যাটারে দুধভাত বানায়া থুইছে দেখি। নাহয় পরিচালক ভুলে গিয়েছিল এই চিকনা কার নায়ক না নায়িকার চামচা।
এই সিনেমায় যেসব চ্যালা প্যালা ব্যবহার করা হয়েছে সেইগুলা একেবারে ইউনিফর্ম পরা। একবার মনে হল তারা সবাই আর্মড পুলিশের ড্রেস ধার করে পরছে আরেকবার তারা RAB এর পোশাক ভাড়া করে পরছে। প্রত্যেকটা ইউনিফর্মই কোনো না কোনো বাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ন।
এদিকে নিপুন ম্যাডামের নাম তো আসমানের চাঁদ। তিনি রাস্তা দিয়ে ডাক্তার আর নার্সের দল নিয়ে লংমার্চ করে। লংমার্চ করতে করতে ঘোড়সওয়ার ভিলেনরা চাঁদ কে আক্রমন করে আর তখনই আকাশ থেকে আকাশ নেমে চাঁদ কে রক্ষা করে। নিউটন আইনস্টাইনের তত্ত্বের চেয়েও বাংলা সিনেমার এ তত্ত্ব শক্তিশালী। নায়িকা বিপদে পড়লে নায়ক আসমান থেকে পড়বে।
এক পর্যায়ে দেখলাম পুলিশের সাথে মারামারি করছে বাপ্পী। এতে নিজেদের গুলিতেই চারটা পুলিশ মারা গেল। আর শেষে মিশা এসে বাপ্পী কে খুনি বানানোর জন্য নিজেই পুলিশ কে গুলি করে মারলো। চিরকাল সিনেমায় দেখে এলাম পিস্তলে খুনির ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকে আর এইখানে ফাঁসি হল বাপ্পীর। এই ফাঁসির আসামি কে আলিরাজ প্যারোলে মুক্ত করে মি. টয়োটা বানালো। এই টয়োটা ববিদের বাড়িতে ঢুকলো। কিন্তু সেখানে ঢুকে ববির সাথে রোমান্স করার চেয়ে ববির মায়ের সাথে বেশি রোমান্স করলো। পরিচালক এবারও ববির চেয়ে ছোট পোশাক পরাচ্ছেন তার মা কে। আমি এইবার একদম সিওর সব পোশাক নায়িকার জন্য বানানো হয়েছিল এবং সেটাই নায়িকার মাকে পরানো হচ্ছে।
কিছু জগাখিচুড়ি মার্কা পাগলামীর পর ববি জানতে পারলো টয়োটাই সূর্য(বাপ্পীর নাম ছিল সূর্য)। এই সিনেমায় ববির ভূমিকা কি সেইটাই বুঝলাম না। হঠাত হঠাত পর্দায় উপস্থিত হয় কিন্তু কোনো কাজ নাই। পুরাই আকাইম্মা। এতক্ষন সে টয়োটার সাথে রোমান্স করছিল, যখন জানলো সে সূর্য তখন সে সূর্যের প্রেমে পড়লো। কেন পড়লো বুঝা গেল না। ববি তার মা কে বলল টয়োটাই সূর্য। বুঝলাম না টয়োটার যদি কোনো কামই না থাকে তবে ক্যান টয়োটা চরিত্রের আগমন হলো? বাংলা সিনেমার ফর্মুলা অনুযায়ী শেষ দৃশ্যে ভিলেন বনাম নায়ক মারামারি হলো এবং ভিলেন মরে সাফ হয়ে গেল। যাক কোমোমতে একটা সিনেমার অত্যাচার হজম করলাম।
সিনেমার কালার ক্যারেকশনের ঠিক নাই। পুরা সিনেমাই অন্ধকার্। আবার একশন দৃশ্যে অদৃশ্য তার দ্বারা হাস্যকর উড়াউড়ির চেষ্টা করা হয়েছে। এই উড়াউড়ি ফিজিক্সের সব সূত্র কে হার মানিয়েছে। আবার উড়ন্ত ব্যক্তিদের শার্টের পেছনের কলার পিরামিডের মতো উচু হয়ে থাকে। এই সিনেমার পরিচালক গাঁঞ্জাখোরই নয়, অসুস্থ মস্তিষ্কের। সে ববির ছবিকে ফটোশপ করে অর্ধনগ্ন পোস্টার বানিয়েছে। এইসব পরিচালক যতদিন থাকবে ততদিন আমাদের সিনেমা মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না।
শনিবার, ৭ জুন, ২০১৪
তারকাটা | প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তবে হতাশ করেনি | মুভি রিভিউ সাথে একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা
গালের ডানপাশে জ্বর থাকায় অনেকক্ষন ধরে সিদ্ধান্ত নিলাম সিনেমা দেখতে যাওয়া ঠিক হবে কিনা :-P । অবশেষে জ্বর কে থোড়াই কেয়ার করে জীবনের ঝুকি নিয়ে সিনেমা শুরু হওয়ার ১৫মিনিট আগেই হলে হাজির হলাম। হলে তখন হিন্দী গানের সুর নকল করে ফালতু লিরিক্সের বাংলা গান বাজছে (আসলেই গানের ক্ষেত্রেও সেন্সর করা উচিত যাতে এইসব আউল ফাউল গান শুনতে না হয়) । একেতো বিরক্তিকর গান তার উপর গরম। তাই ভিতরে বসে না থেকে বাইরে চলে এলাম। সিনেমা শুরুর মিনিট খানিক আগে সিটে গিয়ে বসলাম। জাতীয় সঙ্গীত বাজার সাথে সাথেই সিট ছেড়ে উঠে দাড়ালাম। এমন সময় পেছন থেকে আওয়াজ আসলো, "পোলাপাইন স্কুল কলেজে জাতীয় সঙ্গীতে দাড়ায় না আর হলের ভিতরে দাড়াইতে আইছে"
পেছনে তাকিয়ে আওয়াজকারীর উদ্দেশ্যে বললাম, "এই বয়সেই মাজায় সমস্যা? বাকী জীবন তো পড়েই আছে"
কি বুঝলো না বুঝলো জানিনা। পেছনের ছেলে গুলো উঠে দাড়ালো। ততক্ষনে আশেপাশের অনেকেই উঠে দাড়িয়েছে। যাই হোক যথারীতি সিনেমা শুরু হল। তারকাটা একটি সাদামাটা গল্প নিয়ে তৈরি। এই নকলের ভীড়ে সাদামাটা গল্প টাকে পজিটিভ ভাবেই নিচ্ছি। তবে পরিচালক এই সাদামাটা গল্প কেই খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সিনেমার শুরুতেই স্ক্রীনে একটি বড় হাতুড়ী নিয়ে আবির্ভূত হয় আরিফিন শুভ। যে এই সিনেমার মূল চরিত্র ইব্রাহীম। আরিফিন শুভ বেশ দারুন ভাবেই ইব্রাহীম চরিত্র টিকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার গেটআপ এবং চরিত্রের সাথে একেবারে মানানসই এক্সপ্রেশনে দর্শক সিটি দিতে বাধ্য ছিল। জাদরেল সন্ত্রাসী ইব্রাহীম আসলামের ছোট ভাইকে খুন করে তার সাথে একটি ঝামেলা তৈরী করে। ইব্রাহীমের এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য তার বোন মৌসুমী তাকে ভাই বলে পরিচয় দেয়না। অথচ এই ইব্রাহীমই যখন একজন সাধারন যুবক ছিল, তখন সে ছিল মৌসুমীর নয়নের মনি।
এর পরে পর্দায় আবির্ভাব হয় বিদ্যা সিনহা মিমের। এবং যা হওয়ার কথা তাই হল, ইব্রাহীম চাঁদের মানে মিমের প্রেমে পড়ে যায়। মিম কে শিল্পী বানানো এবং পরে তারই সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করা, পুরোনো শত্রুতার জেরে আসলামের সাথে বারবার ঝামেলা, বোনের অবহেলা ইত্যাদী কাহিনী নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে সিনেমা (কাহিনী আর কমুনা :-P রাজ ভাই পিটাইতেও পারে :-P )।
বাংলা সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতিতে এধরনের সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করা উচিত নয়। কারন একের পর এক বস্তাপঁচা সিনেমার মাঝে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকেই হাজির হয়েছে তারকাটা। তবুও এই সিনেমার ভালো না লাগার দিক গুলো তুলে ধরলাম।
সিনেমায় কিছুক্ষন পরপর লম্বা গানের ব্যবহার কিছুটা খারাপ লেগেছে। মনে হল মিউজিক্যাল ফিল্ম দেখছি। তারকাটা এ্যাকশন ফিল্ম হলেও এতে এ্যাকশনের মাত্রা খুব কম ছিল এবং ফাইট দৃশ্য গুলো একেবারেই সাদামাটা। এই জন্য তারকাটা টীম কে মাইনাস।
মৌসুমীর সাথে একটি গানে শুভর ন্যাকামীটা চোখে বেধেছে। শুভ কে ললিপপ বেবি বানিয়ে দেয়ার কোনো মানে ছিলনা :-P । মূল ভিলেন হিসেবে ফারুক আহমেদ কে দেখে একটু অবাক হয়েছিলাম। ভিলেন হিসেবে সে চরিত্রটিকে ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি। পুরো চরিত্রটাতেও সে অট্টহাসি দিয়ে গেছে যেন সে দিনে তিন বেলা লাফিং গ্যাস খায়। পুরো সিনেমায় প্রান আপআর সিম্ফোনি মোবাইলের ব্যবহার ছিল মাত্রাতিরিক্ত। পোলাপাইন রে প্রান আপের বোতল দেয়া, প্রান আপ মিউজিক এওয়ার্ড, প্রান আপের সৌজন্যে কনসার্ট এইগুলা কে বেশি বেশি মনে হয়েছে। আবার বারেবারে সিম্ফোনি মোবাইল কে ফোকাস করা, সিম্ফোনির সৌজন্যে ইন্টার্ভাল এগুলোও ছিল বাড়াবাড়ি।
মিম কে এতবড় শিল্পী বানানোর পিছনে কার অবদান সে সম্পর্কে জানার কোনো আগ্রহ মিমের মাঝে দেখা যায় নি।
মিম কে ডা. এজাজ আম্মিজি বলে ডাকতো আর শুভ কে বলতো ছোট ভাই। ছোট ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড কে আম্মিজি বলা উচিত নয় এইটা তার বোঝা উচিত ছিল। মৌসুমীর চরিত্রটি এই সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তবে মাঝে মাঝেই মনে হয়েছে তিনি যেন চরিত্রের মাঝে ঢুকতে পারেননি। হঠাত করে তাকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা গেল আবার তারপরই তাকে সুস্থাবস্থায় দেখা গেল। পণ্যের মাত্রাতিরিক্ত প্রচারের নমুনা স্বরুপ এক দৃশ্যে দেখা গেল তিনি ভাটিকা তেলের বোতল জড়িয়ে ধরে কাদছেন(!)
সিনেমাটির গল্পটি মৌলিক হলেও প্রথমদিকে চোরাবালি সিনেমার ছায়া পাওয়া গেছে। আর মিমকে বারে গাইতে গাইতে সুপারস্টার বানিয়ে দেয়ার বিষয় টা আশিকি টু সিনেমার সাথে তুলনা করা যায়। আমার মনে হয় এই কাজ টা করার কোনো দরকারই ছিল না।
পুরো সিনেমায় আসলামের সাঙ্গপাঙ্গো হিসেবে ২-৩জনকেই ঘুরে ফিরে দেখা গেছে। এদিকে আরো কিছু সহশিল্পীকে নিলে বিষয়টা দৃষ্টিকটু লাগতো না। ইন্টার্ভালের আগের অংশটুকু বেশ ধীরগতিতেই চলছিল কিন্তু ইন্টার্ভালের পর সব হুটহাট করে হয়ে যেতে থাকে। শুভ ও মিম কে যখন একসাথে আটকে রাখা হয় তখন শুভর একটা উক্তি ছিল, "ওই কই যাস? খুলে দিয়ে যা" এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের দূর্বল ডায়লগ ভালো লাগেনি। শুভ আর মিমের রোমান্সের অংশগুলো একটু কম হয়ে গেছে। শেষদিকে এসে হুটহাট কিডন্যাপ হয়ে যাওয়া সিনেমার সবচেয়ে বাজে দিক ছিল। প্রথমে মৌসুমির মেয়ে দিয়া কিডন্যাপ হল, তারপর মিম কে কিডন্যাপ করলো। এবার মিমকে বাচাতে গিয়ে শুভও আটকা পড়ে গেল। হিসাব অনুযায়ী শুভ কে আটকে না রেখে মেরে ফেলা উচিত ছিল। আরে ব্যাটা তোর ভাইরে যে মারছে তারে বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও মারতাছোস না ক্যান? এরপর আবার মৌসুমীকেও কিডন্যাপ করা হল। মিম এর একটা বোন থাকলে দেখা যেত তাকেও কিডন্যাপ করা হয়েছে।
অনেক খারাপ দিক নিয়ে বলে ফেলেছি, এবার কিছু ভালো দিকও বলি। চারিদিকে যখন নকলের ভীড় তার ভিতর পরিচালক সাহস করে মৌলিক গল্প নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন এর জন্যই রাজ ভাই কে প্লাস দেয়া উচিত। সবার অভিনয় দারুন ছিল। আরিফিন শুভ বেশ দারুন ভাবে তার চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার অভিনয় দেখে মনে হয়েছে সত্যিই কোনো নায়কের অভিনয় দেখছি পাশাপাশি তার বডি ফিটনেস, গেটআপ তো আছেই। পিস্তল মাথার এক পাশে ধরে ডায়লগ বলে যাওয়া ভালো লেগেছে। আবার মৌসুমী যখন শুভ কে বলল, "ভয় পাস না কেন?" তখন শুভর ভয় পাওয়ার অভিনয় টা দারুন ছিল।
মিম তো এই সিনেমায় তার আগের সব কাজ কে ছাপিয়ে গেছে। তাকে বেশ গ্ল্যামারাস লাগছিল। বাংলাদেশের নায়িকাদের সমস্যা হল তারা চরিত্রের ভিতর ঢুকতে পারেনা, অভিনয়টা কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়া বা বিরক্তিকর আহ্লাদী টাইপের হয়ে যায়। কিন্তু মিম এদিক দিয়ে বেশ সাবলীল ভাবে কাজ করেছে। মিম কে যেন আরো অনেক সিনেমায় পাওয়া যায় সেই আশায় থাকবো।
সিনেমায় শুভর সহকারী হিসেবে রাজু নামে একজন কে দেখা গেছে যে পুরো সিনেমায় তোতলামী(নাকে কথা) করে সিনেমাটাকে আরো উপভোগ্য করে তুলেছে। ছোটখাটো চরিত্র থেকে পারফেক্ট অভিনয় পাওয়াই যায়না আমাদের সিনেমায়, কিন্তু রাজু এদিক থেকে ব্যতিক্রম। আর মিমের সহকারী হিসেবে যে মেয়েটা ছিল সে যেন কথার রেলগাড়ি। এক নি:শ্বাসে সাধু চলিত আঞ্চলিক মিশ্রিত কথা বলে সে সবাইকে আনন্দ দিয়েছে।
শিশুশিল্পী হিসেবে দিয়ার অভিনয় কে আমি সবার চেয়ে এগিয়ে রাখবো। এতটুকু বাচ্চা যেন বাস্তবেই সব কিছু করে যাচ্ছিল। তার অভিনয়টা মোটেও কৃত্রিম মনে হয়নি।
এই সিনেমার চিত্রগ্রহণ অন্য যেকোনো সিনেমা থেকে অনেক অনেক গুন ভালো। খায়ের খন্দকার দেখিয়ে দিয়েছেন তার ক্যামেরার জাদু। সিনেমার কালার গ্রেডিং খুবই সুন্দর ছিল। আসল কথা এই সিনেমা তে আসল সিনেমেটিক ফ্লেভার পাওয়া গেছে। অন্যান্য সিনেমাগুলোতে এতটা সিনেমেটিক ফ্লেভার পাওয়া যায়না। সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আরিফিন রুমি কে এ প্লাস দেবো। গান গুলো দারুন ছিল। "রূপে আমার আগুন জ্বলে" , "পৃথিবীর ভেতর একটাই জীবন "
, "তুই যে আমার নয়ন মনি" ,
"কি যে শুন্য শুন্য লাগে তুমি হিনা"
, "হৃদয়ের যত দু:খ " , "আমি রদ্দুর হব " প্রতিটা গানই শ্রুতিমধুর।
সিনেমার সাদামাটা গল্পকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন, দারুন অভিনয় এসব দিক বিবেচনা করে সবাইকে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানাবো। (আপনি বেশি খুতখুতে হলে আবার সমস্যা :-P )
এবার সিনেমা দেখতে গিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলি ।
সিনেমা দেখতে বেশ কয়েকটি যুগল এসেছিল। বিবাহিত দম্পতিও এসেছে দেখলাম। কিন্তু আমার ঠিক পেছনের সারিতে বসে থাকা ৫টি ছেলে খুবই বাজে আচরন করছিল। তারা যুগল দের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অশ্লীল কথা বলছিল যেগুলো পাবলিক প্লেসে বলা যায় না। আশেপাশে অনেকেই হেসে তাদের উৎসাহ দিচ্ছিল এবং তারা দ্বিগুণ উৎসাহে ইভ টিজিং করে যাচ্ছিল। তাদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একে একে তিন টা যুগল উঠে চলে গেল। অনেকক্ষন ধরে ভাবছিলাম কিছু বলবো। মুখ ফস্কে বলেই ফেললাম,
"ভাই তারা তো ভালোভাবেই সিনেমা দেখছিল। আপনারা কেন শুধু শুধু অশ্লীল কথাবার্তা বলে তাদের চলে যেতে বাধ্য করলেন? আপনাদের জন্য তো বিবাহিত দম্পতিরাও উঠে চলে গেল। বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকে"
ছেলেগুলো আমার কথা শুনে পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে গেল মনে হল। একটা ছেলে বলল, "ভাই এরা কি আপনার আত্মীয় হয় যে এভাবে কথা বলছেন? সিনেমা দেখতে আসলে এগুলো সহ্য করার প্রিপারেশন নিয়ে আসতে হয় "
বললাম, "আত্মীয় হয় না, তবে আপনারা যা শুরু করেছেন তাতে কেউই ভালোভাবে সিনেমা দেখতে পারবে না।"
বাকী সময়টুকু পেছন থেকে আর কোনো আওয়াজ আসতে শুনিনি। মনে মনে ভাবলাম হল থেকে বেরিয়ে আমার সাথে একটা ঝামেলা হতে পারে। পরে আবার ভাবলাম ঝামেলা করার সাহস পাবে না হয়ত। এদের কারনেই হলে নারী দর্শকেরা সিনেমা দেখতে পারেনা। আর আশেপাশের বুঝদার মানুষেরা কাপুরুষের মত চুপ করে থাকে। হল থেকে বেরুনোর সময় আমার চেয়ে জুনিয়র কাউকে চোখে পড়লো না। একজন আমাকে দেখে বলল, "ভাই একদম উচিত কথা বলেছেন।"
যদি গার্লফ্রেন্ড কে সাথে নিয়ে সিনেমা দেখতে যান অথবা কোনো মেয়ে তাদের বান্ধবীদের সাথে করে সিনেমা দেখতে যান তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথা, হলে কেউ মেয়েদের উত্যক্ত করলে নিজে তার প্রতিবাদ করুন অথবা হলের কর্মচারীদের জানান। জাতীয় সঙ্গীতের সময় দাড়িয়ে সম্মান জানান। অন্যান্য সিনেমার পাশাপাশি একটু সময় করে বাংলা সিনেমা দেখুন। ভালো হোক খারাপ হোক এটা আমাদেরই সিনেমা। ভারতীয় বাংলা সিনেমা কিন্তু আমাদের সিনেমা না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশের সিনেমা।
বুধবার, ২১ মে, ২০১৪
আমি শুধু চেয়েছি তোমায় | যৌথ প্রযোজনার ভারতীয় সিনেমা (মুভি রিভিউ)
হলে ঢুকেই লম্বা লাইন দেখে কিছুটা অবাক হলাম। কোনো সিনেমা মুক্তির তৃতীয়-চতুর্থ দিনে এমন লম্বা লাইন দেখা যায়না। ব্যলকনি তে গিয়েই দেখি প্রায় সব সিটই দখল হয়ে গেছে। মহিলা দর্শকের সংখ্যা অন্য সিনেমার তুলনায় অনেক বেশি। এদিক ওদিক তাকিয়ে ফ্যানের নিচে একটি সিটে গিয়ে বসলাম। সিনেমা শুরু হতে হতে আরেকটা মেয়ে এসে বামপাশের সিটে বসল।
উল্লেখ্য গত ১৬ই মে বাংলাদেশ ও ভারতে একযোগে মুক্তি পেয়েছে অঙ্কুশ ও শুভশ্রী অভিনীত "আমি শুধু চেয়েছি তোমায়", সিনেমায় এপার বাংলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মিশা সওদাগর। কোলকাতার সিনেমা নায়ক নায়িকা কে নিয়েই আবৃত হয়। তাই দেখার বিষয় ছিল মিশা সওদাগরের চরিত্রটি কত গুরুত্ব পায়। পাশে উচ্ছ্বসিত মহিলা দর্শক নিয়ে দেখা শুরু করলাম সিনেমা "আমি শুধু চেয়েছি তোমায়"
কাহিনী সংক্ষেপ:
অভি (অঙ্কুশ) বাল্যকালে ভূমির (শুভশ্রী) সাথে বন্ধুত্বের চেষ্টা করে। কিন্তু ভূমি অভির সাথে বন্ধুত্ব করে না। ঘটনাক্রমে অভি ভারতে পাড়ি জমায়। ঠিক বারো বছর পর ভূমিও দার্জিলিং এ পাড়ি জমায় পড়াশোনার জন্য। এ বারো বছর অভি ভূমির অপেক্ষা করেছে।। ভূমি কে পাওয়ার জন্য অভি একই কলেজে ভর্তি হয় মিস্টার পার্ফেক্ট সেজে। যে কিনা সবার চোখে খুবই ভদ্র ছেলে, ধূমপান, মদ্যপান করে না, মেয়েদের দিকে তাকায় না।
কলেজে ঢুকেই ভূমি অভির সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা পায়। কিন্তু অভি যখন ভূমিকে কিস করে তখনই অভির সম্পর্কে তার ধারনা ইতিবাচক থেকে নেতিবাচকে রূপ নেয়। ভূমি কে কেউ লিফট দিলে অভি তার গাড়ি ভেঙ্গে দেয়, ভূমির সাথে সবসময় ছায়ার মত লেগে থাকে। ঘটনাক্রমে ভূমি বিক্রম কে ভালোবাসে। ভূমির বাবা এটা জানতে পেরে ভূমিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
অভি ভূমিকে বিক্রমের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভূমিদের বাড়িতে আসে। এক পর্যায়ে অভির সাথে ভূমির বিয়েও হয়ে যায়। তবুও অভি ভূমিকে বিক্রমের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করে। বিক্রমের অতিমাত্রায় বিবেক হীনতা, ভূমির পুতুল হয়ে থাকা আর অভির মহাপুরুষ চরিত্র নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে সিনেমা।
সিনেমাটি নিয়ে কিছু কথা:
সিনেমাটি হায়দ্রাবাদের আল্লু অর্জুন অভিনীত আরিয়া এক দিওয়ানা সিনেমার হুবুহু কপি যেটা কোলকাতার বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে সাধারন ঘটনা। পরিচালক নিজস্বতা বলতে কিছুই দেখাতে পারেননি। শুধু ভাষা আর অভিনয় শিল্পী গুলো পরিবর্তন করেছেন।
ভূমি যে কলেজে ভর্তি হয়েছিল সেটা দেখে মনে হয়েছে, "পাগল দের এবার গতি হল বুঝি"। কারন এই কলেজের প্রতিটা ছাত্র ছাত্রীই "ফিটনেস বিহীন ক্যারেক্টার"। কেউ কোনো কথা তিন বার করে রিপিট করছে, কেউ বা কখন জাগে কখন ঘুমায় তার ঠিক নেই, আবার কেউ বায়োলজি ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে প্রতিবারই ভুল করে সাইকোলজিতে চলে আসে। পুরো কলেজে একটাই মাত্র পার্ফেক্ট স্টুডেন্ট সে হল অভি (মাইরালা টাইপের ইমো, পাগল দের ভিত্রে এইডা কি করে?)। আরো আশ্চর্যের বিষয় হল ভূমির ভর্তি হওয়ার কথা জেনেই অভি কলেজে ভর্তি হয়। তো এর ভিতরেই সে কিভাবে পুরো কলেজে নিজের "মি. পার্ফেক্ট" ক্যারেক্টার বানিয়ে ফেলল সেটা ভাবনার বিষয়।
কলেজে বায়োলজি নামে একটা ক্যারেক্টার আছে যাকে কিনা সবসময় সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টেই দেখা যায়। বায়োলজি ভূমি কে লিফট দেয়ার পর অভি তার কভারে মোড়ানো গাড়ি নিয়ে বায়োলজির গাড়িকে ধাওয়া করে। বায়োলজি গাড়ি থেকে নেমে পড়লে অভি বায়োলজি কে ধাওয়া করে। কিন্তু সেই ফাকে কি করে বায়োলজির গাড়ি অভি হাওয়া করে দিল তা ভাবনার বিষয়।
ভূমির নতুন ফ্ল্যাটে বসে অভিকে মদ খেতে দেখা গেলো। সেটা কি করে অভির ফ্ল্যাট হয়ে গেলো তা বোঝা গেলো না। কভারে মোড়ানো গাড়িটা যে অভির এটা কারো জানার কথা নয়। কিন্তু বিক্রম কে দেখা গেলো সেই কভারে মোড়ানো গাড়ি দিয়ে নিজের গাড়িকে এক্সিডেন্ট করানো। যাতে ভূমি মনে করে অভিই বিক্রম কে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিক্রম জানলো কি করে ওটা অভির গাড়ি? আবার সে নিজেই গাড়িটা ড্রাইভ করলো। তার মানে কি অভি নিজেই বিক্রম কে গাড়ির চাবি দিয়ে বলেছিল, "যা বাবা তোর গাড়িটাকে এক্সিডেন্ট করিয়ে আমার উপর দোষ চাপা"
বিক্রম চরিত্রটাকে সাধারন বিবেক বুদ্ধিহীন ভাবে এবং অভিকে অতি মহানুভব ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা অনেক ক্ষেত্রেই চরম বিরক্তিকর ছিল।
অভির বাবাকে পুরো সিনেমায় দুইবার দেখা গেছে। শেষের দিকে পরিচালক মনে হয় ভুলেই গিয়েছিলেন অভির একজন বাবা রেখেছিলাম। বেশ কয়েকটি চরিত্রের কথা পরিচালক বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন অথবা অনর্থক চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন। গান গুলো এবং চিত্রায়ন সুন্দর ছিল। আমার মনে হয় ভারতীয়রা হৃদয় খানের গান দুটি বেশ উপভোগ করেছে।
সিনেমার অর্ধেকের বেশি অংশ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত হয়েছে। অভি ও ভূমির বিয়ের অংশটাও বাংলাদেশী রীতিতে করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশী অভিনয়শিল্পীরা মোটেও গুরুত্ব পায়নি। পুরো সিনেমায় ছিল ভারতীয়দের আধিপত্য। এমন কি বাংলাদেশ অংশেও ভারতীয়দের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মিশা সওদাগর কেও ততটা গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হয়নি। যার অর্থ দাড়ায় এটি যৌথ প্রযোজনার মোড়কে একটি ভারতীয় সিনেমা।
ভারতের ট্রেইলারে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুধু এস কে মুভিজের নাম আছে। বাংলাদেশের এ্যাকশন কাটের নাম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, পরিবেশক হিসেবে আছে। "আমি শুধু চেয়েছি তোমায়" যৌথ প্রযোজনার নয় যৌথ পরিবেশনার সিনেমা। এটাকে ভারতীয় সিনেমা ঢোকানোর প্রাথমিক প্রচেষ্টা বলেও ধরা যায়।
সিনেমাঃ- আমি শুধু চেয়েছি তোমায়।
পরিচালকঃ- অশোক পাতি, অনন্য মামুন।
প্রযোজকঃ- অশোক ধানুকা
হিমাংশু ধানুকা।
অভিনেতাঃ- অংকুশ হাজরা, শুভশ্রী গাঙ্গুলী, মিশা সওদাগর।
সুরকারঃ- স্যাভি গুপ্ত,
হৃদয় খান।
চিত্রগ্রাহকঃ- জে. যুবরাজ
স্টুডিওঃ- ডিজিল্যাব রেকর্ডিং স্টুডিও।
বণ্টনকারীঃ- এসকে মুভিজ, অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট।
মুক্তিঃ- ১৬ই মে, ২০১৪
দেশঃ- ভারত -বাংলাদেশ
ভাষাঃ- বাংলা















